কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলার

ঋণখেলাপি না করার সময় বাড়ল আরও তিন মাস

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২০     আপডেট: ১৬ জুন ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

সমকাল প্রতিবেদক

ঋণ পরিশোধ না করলেও খেলাপি না করার সময়সীমা আরও তিন মাস বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কেউ ঋণ পরিশোধ না করলেও তাকে খেলাপি করা যাবে না। অক্টোবর থেকে ঋণ পরিশোধের সময় অপরিশোধিত কিস্তির পরিমাণ ও সংখ্যা পুনর্নির্ধারিত হবে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঋণের মেয়াদ বেড়ে যাবে। চলমান ঋণ পরিশোধেও বাড়তি সময় পাবেন গ্রাহক। গতকাল সোমবার এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়। সার্কুলারে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের কারণে অর্থনীতির অধিকাংশ খাতেরই ক্ষতি হয়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাব দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা থাকায় অনেক শিল্প, সেবা ও ব্যবসা খাত স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না। এসব বিবেচনায় এবং ঋণগ্রহীতার ব্যবসার ওপর করোনাভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাব সহনীয় মাত্রায় রাখতে ঋণ পরিশোধসূচি নির্ধারণ ও শ্রেণিকরণের ক্ষেত্রে নতুন এ নির্দেশনা দেওয়া হলো। এতে ১ জানুয়ারি ঋণের শ্রেণিমান যা ছিল, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তার চেয়ে বিরূপমানে শ্রেণিকরণ করা যাবে না। তবে কোন ঋণের শ্রেণিমানের উন্নতি হলে তা যথাযথ নিয়মে শ্রেণিকরণ করতে হবে।

এতে আরও বলা হয়েছে, ১ জানুয়ারি বিদ্যমান মেয়াদি ঋণের (স্বল্পমেয়াদি কৃষি ও ক্ষুদ্রঋণসহ) অপরিশোধিত কিস্তি ডেফার্ড তথা দেরিতে পরিশোধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এ ক্ষেত্রে আগামী অক্টোবর থেকে সংশ্নিষ্ট ঋণের কিস্তির পরিমাণ ও সংখ্যা পুনর্নির্ধারিত হবে। পুনর্নির্ধারণের সময় জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যতগুলো কিস্তি অপরিশোধিত থাকবে ততটি কিস্তির সংখ্যা বাড়বে। এ সময়ে কোনো কিস্তি পরিশোধ না হলেও তাকে খেলাপি হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। আর গত ১ জানুয়ারি বিদ্যমান চলমান ও তলবি ঋণ এবং ৩১ মে পর্যন্ত সময়ে সৃষ্ট তলবি প্রকৃতির ঋণের মেয়াদ বা সমন্বয়ের তারিখ বিদ্যমান মেয়াদ থেকে ৯ মাস বা চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর (যেটি আগে ঘটে) পর্যন্ত বাড়বে। কোনো গ্রাহক পূর্বনির্ধারিত পরিশোধসূচি বা ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ঋণ সমন্বয় করতে চাইলে করতে পারবেন।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এ সময়ের জন্য বিদ্যমান নীতিমালার আলোকে সুদ নেওয়া যাবে। তবে কোনোভাবে দণ্ড সুদ বা অতিরিক্ত ফি (যে নামেই অভিহিত করা হোক না কেন) আরোপ করা যাবে না। এর আগের নির্দেশনায়ও বাড়তি সুদ না নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। ক্রেডিট কার্ড, ব্যক্তিগত ঋণ, ব্যবসাসহ সব ধরনের ঋণের জন্য এই নির্দেশনা কার্যকর হবে। যদিও অনেক ব্যাংক নির্দেশনা না মেনে ব্যক্তিগত ও ক্রেডিট কার্ডের কিস্তি পরিশোধ না করায় গ্রাহক থেকে বাড়তি চার্জ নিচ্ছে।

এর আগে গত ১৯ মার্চ জারি করা সার্কুলারে করোনাভাইরাসজনিত পরিস্থিতির কারণে জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ঋণ অপরিশোধকারীদের খেলাপি না করতে বলা হয়েছিল। ওই সার্কুলারের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে নতুন সার্কুলারে বলা হয়েছে, ওই সার্কুলারের মাধ্যমে ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ঋণের শ্রেণিমান যা ছিল, তার চেয়ে নিম্নমান করা যাবে না। তবে কোনো ঋণের শ্রেণিমানের উন্নতি হলে তা যথাযথ নিয়মে শ্রেণিকরণ করা যাবে।