অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের মুদ্রানীতি ঘোষণা

প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২০     আপডেট: ২৯ জুলাই ২০২০   

সমকাল প্রতিবেদক

অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের সম্প্রসারণমূলক ও সংকুলানমুখী মুদ্রানীতি ঘোষণা করলো বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকগুলোর ঋণের সক্ষমতা বাড়াতে নীতি সুদহার কমানো হয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর ব্যাংক রেট নামে পরিচিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব সুদ ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ শতাংশ করা হয়েছে। আর রেপোর সুদহার আরও কমিয়ে ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং রিভার্স রেপোর সুদহার ৪ শতাংশে নামানো হয়েছে।

এর মাধ্যমে ঋণ সহজলোভ্য করে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ানো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্য। এসব ঋণ যেন উৎপাদনমুখী, কর্মসংস্থান সহায়ক ও পরিবেশবান্ধব হয় সে বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে।

২০০৬ সাল থেকে মুদ্রানীতি ঘোষণা করে আসছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতিবছর সংবাদ সম্মেলন করে গভর্নরসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন। তবে এবার কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই মুদ্রানীতির প্রকাশনা শুধু ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে গভর্নর ফজলে কবিরের একটি লিখিত বক্তব্য সংযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক আগে প্রতি ৬ মাসের আগাম মুদ্রানীতি ঘোষণা করলেও গত অর্থবছর থেকে একবার করে ঘোষণা করছে।

লিখিত বক্তব্যে গভর্নর বলেন, চলতি অর্থবছরের মুদ্রানীতি অর্জনে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক কিছু ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। এর অন্যতম হলো- করোনাভাইরাসের দীর্ঘ সূত্রিতা ও অনিশ্চয়তার কারণে দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধারের গতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক যেসব প্রণোদনা, ঋণ ও বিনিয়োগ কর্মসূচি নিয়েছে তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না হলে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধিসহ অনাকাঙ্খিত মূল্যস্ফীতি সৃষ্টি হতে পারে। চলমান বৈশ্বিক মন্দার দীর্ঘসূত্রিতার কারণে রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স কমতে পারে। চলমান বন্যাসহ প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে। এসব ঝুঁকি মোকাবেলায় বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় কর্মসূচি গ্রহণে সব সময় সচেষ্ট থাকবে।

গভর্নর বলেন, সার্বিক বিবেচনায় এবারের মুদ্রানীতিকে সম্প্রসারণমূলক ও সংকুলানমুখী। যার মূল কাজ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রেখে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক তথা করোনাভাইরাস পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরিয়ে আনা। এভাবে চলমান করোনাভাইরাস জনিত মহামারির কারণে ক্ষতিগ্রস্থ অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং কাঙ্খিত প্রবৃদ্ধি অর্জন। একই সাথে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে আর্থিক খাতের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নির্ধারণ।

নতুন মুদ্রানীতিতে, চলতি অর্থবছর বেসরকারি খাতে ঋণযোগান বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা আগের মতোই ১৪ দশমিক ৮০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। চলমান করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং সরকার নির্ধারিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য যা যথেষ্ট হবে। গত অর্থবছর বেসরকারি খাতে একই লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও অর্জিত হয়েছে মাত্র ৮ শমিক ৬১ শতাংশ। বর্তমানের এ প্রবৃদ্ধি গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিন্ম। অন্যদিকে, সরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা প্রাক্কলন করা হয়েছে ৪৪ দশমিক ৪০ শতাংশ।

মূলত সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের পাশাপাশি চলমান বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রচুর অর্থে প্রয়োজন হলেও ব্যাংক বহির্ভুত খাত থেকে ঋণ কমায় সরকারের ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা বেশি ধরা হয়েছে। সব মিলিয়ে এবারে অভ্যন্তরীণ ঋণ বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে ১৯ দশমিক ৩০ শতাংশ। আর ব্যাপক মুদ্রা সরবরাহের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে ১৫ দশমিক ৬০ শতাংশ। এসব ঋণ উৎপাদনমুখী খাতে না গেলে মূল্যস্ফীতি এবং খেলাপি ঋণ বৃদ্ধিসহ অর্থনৈতিক নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা থেকে যায়।