বাংলাদেশ এশিয়ার দ্রুত-বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ। বিনিয়োগের আকর্ষণীয় গন্তব্য। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে উন্নয়নের সিঁড়ি ধরে শেয়ারবাজারেও তৈরি হয়েছে অপার সম্ভাবনা। বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এইচএসবিসির এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে এমন প্রশংসা করা হয়েছে।

এইচএসবিসি আয়োজিত 'বাংলাদেশের বাজার অনুধাবণ-২০২১: ভোগচালিত প্রবৃদ্ধি' শিরোনামের এক ওয়েবিনারে এইচএসবিসি গ্লোবাল রিসার্চের আসিয়ান ও ফ্রন্টিয়ার মার্কেটস্‌ ইকুইটি স্ট্র্যাটেজিস্ট দেবেন্দ্র যোসী এই প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। ওয়েবিনারটি সঞ্চালনা করেন মাহবুব উর রহমান। 

যোসী বলেন, বর্ধিত আয় ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার ফলে বাংলাদেশ শিল্প বিপ্লবের দোর-গোড়ায় অবস্থান করছে। নগরায়ন, একক পরিবার এবং কর্মসংস্থানে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির মাধ্যমে উচ্চ প্রবৃদ্ধির বাজারের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বল্পমাত্রার বৈদেশিক ঋণ এবং রেকর্ড বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের সুবিধা নিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে। এফডিআই বা সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও নতুন নতুন আকর্ষণীয় প্যকেজের মাধ্যমে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার প্রচেষ্টা চলমান রয়েছে। যেহেতু পণ্যের উৎপাদন খরচ এশিয়ার মধ্যে সর্বনিম্ন, সেহেতু তৈরি পোশাক ছাড়াও অন্যান্য খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে বৈচিত্র্য আনা সম্ভব।

ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচি ড. আহমদ কায়কাউস আলোচনায় অংশ নেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।

আরও বক্তব্য রাখেন- এইচএসবিসির গ্লোবাল কো-হেড অফ ইন্টারন্যাশনাল সাবসিডিয়ারি ব্যাংকিং সন্দীপ উপ্পাল, এইচএসবিসি বাংলাদেশের সিইও মাহবুব উর রহমান, কান্ট্রি হেড ও হোলসেল ব্যাংকিং কেভিন গ্রীন প্রমূথ। বক্তব্য শেষে মাহবুব উর রহমানের সঞ্চালনায় প্রশ্নোত্তর পর্বে দেবেন্দ্র যোসী ও ড. আহমেদ কায়কাউস বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, 'উদ্যেক্তা মনোভাব, ভৌগোলিক অবস্থান ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতার ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ক্রমশই সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশীপকে উৎসাহিত করতে চাই, যার মাধ্যমে আগামীতে বাংলাদেশের সাফল্য ও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে পারি।'

মাহবুব উর রহমান বলেন, 'ডিজিটাইজেশন ও প্রযুক্তির ক্রমাগত উন্নয়ন, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ পণ্য ও সেবা ব্যবহারে উর্দ্ধগতি- সব মিলিয়ে এক অপার সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।'