সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার শেরপুরে ব্যাংকের এটিএম বুথে ডাকাতির ঘটনা সাফি উদ্দিন জাহির (৩৮) নামের আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার করে সিলেট জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল। 

গ্রেপ্তার জাহির হবিগঞ্জ সদর উপজেলার পাঁচপাড়িয়া গ্রামের মমতাজ উদ্দিন মাস্টারের ছেলে। সে এ ঘটনার অন্যতম পরিকল্পনাকারী বলে জানিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান।

গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ এ ডাকাতির ঘটনায় নূর মোহাম্মদ, শামীম আহমেদ ও আব্দুল হালিম নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। বৃহস্পতিবার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গ্রেপ্তার চারজনের পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গ্রেপ্তার জাহির ও শামীম এ ঘটনার পরিকল্পনাকারী।

সিলেট জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) লুৎফুর রহমান জানান, গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। আদালত শুনানি শেষে পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত ১২ সেপ্টেম্বর শেরপুরের নতুনবাজারে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের (ইউসিবিএল) এটিএম বুথের নিরাপত্তাকর্মীকে বেঁধে ২৪ লাখ ৫ হাজার ২০০ টাকা লুট করে সশস্ত্র চার ডাকাত। এ ঘটনায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ডাকাতির মামলা করলে ঢাকা ও সিলেটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা শুরু করে। ঢাকা থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ জানিয়েছিল, তারা ভারতীয় টেলিভিশনের সিরিয়াল দেখে এটিএম বুথে ডাকাতির কৌশল শিখেছে।

এসপি ফরিদ উদ্দিন জানান, ইতিপূর্বে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার শামীম ও হবিগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার জাহির দুবাইয়ে ছিল। সেখানে অবস্থানকালে তাদের মধ্যে সখ্যতা গড়ে ওঠে। দেশে ফেরার পর তারা চুরি-ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে। সর্বশেষ শেরপুরে এটিএম বুথ লুটের ঘটনাও তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়িত হয়। ওমানে থাকা অবস্থায় শামীম সেখানে ব্যাংকের এটিএম বুথে ডাকাতির ঘটনায় ৮ বছর কারাগারে ছিল।

তিনি বলেন, এটিএম বুথ লুটের ঘটনা খুব বিরল। এ ধরনের ঘটনা আমাদের বিস্মিত করেছে। এমন ডাকাতির পুণরাবৃত্তি ঠেকাতে ব্যংক কর্তৃপক্ষকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে হবে। 

সিলেটে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসপি ফরিদ উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, গোয়েন্দা পুলিশের দুই পরিদর্শক সাইফুল আলম ও মো. ইখতিয়ার উদ্দিনের সমন্বয়ে বিশেষ টিম হবিগঞ্জে আসামির অবস্থান নিশ্চিত হয়ে তিনদিন ধরে অভিযান চালিয়ে বুধবার সফল হন।

শেরপুরে এটিএম বুথে ডাকাতির পর শামীম আবারও বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বলে জানান এসপি। তিনি বলেন, ডিবি পুলিশ শামীমের বাসা তল্লাশি করে ডাকাতির ঘটনায় ব্যবহৃত পালসার মোটরসাইকেল ও শামীমের পাসপোর্ট জব্দ করে। তাদের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকাও উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি টাকার একটি অংশ দিয়ে আসামিরা জুয়া খেলেছে বলে জানিয়েছে। চারদিনের রিমান্ডে তাদের কাছ থেকে ডাকাতির বিস্তারিত জানার চেষ্টা করবে পুলিশ।

এদিকে এটিএম বুথের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ডাকাতদের মধ্যে তিনজন মাথায় লাল কাপড় বাঁধা ছিল এবং আরেকজনের মাথায় টুপি ছিল। সবার মুখে মাস্ক দিয়ে ঢাকা ছিল। এ ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশ বিভিন্ন সূত্র ধরে তদন্তে নেমে ঢাকা থেকে নূর মোহাম্মদ নামে এক দর্জিকে গ্রেপ্তার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হবিগঞ্জ থেকে শামীম ও হালিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশীদ আসামি শামীম আহমেদকে ডাকাত দলের অন্যতম পরিকল্পনাকারী বলে উল্লেখ করেছিলেন। বুধবার তিনি সাংবাদিকদের জানান, এই দলের প্রধান শামীম আহমেদ। এক সময় ওমান প্রবাসী শামীম কয়েক বছর আগে দেশে ফিরলেও তেমন কোন কাজকর্ম করতেন না। প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন শামীম নিয়মিত ভারতীয় সিরিয়াল সিআইডি দেখে এটিএম বুথ লুটের পরিকল্পনা করেন।