প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের মামলায় ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাসেলের বিরুদ্ধে রিমান্ড ও জামিন আবেদন নাকচ করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মো. হাসিবুল হক এই আদেশ দেন।

এদিন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আবুল কালাম আজাদ আসামিকে আদালতে হাজির করে আরেক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোসহ পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আসামিপক্ষে ব্যারিস্টার এম মনিরুজ্জামান আসাদ রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধীতা করে মহানগর পিপি আব্দুল্লাহ আবু বলেন, ইভ্যালি ব্যবসার নাম করে গ্রাহকের শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। সত্যিকারের ব্যবসায়ী হলে তারা এ ধরনের কাজ করতে পারতো না। ইভ্যালির বিরুদ্ধে আরও শত শত মামলা হবে। এটা তো শুরু। প্রতিষ্ঠানটি যাদের টাকা দেয়নি তারা কি বসে থাকবে?

আসামির পক্ষে এম মনিরুজ্জামান আসাদ রিমান্ড বাতিল চেয়ে বলেন, আগেও রাসেলকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। মামলার অভিযোগ, ধারা প্রায় একই। করোনাভাইরাসের কারণে নির্দিষ্ট সময়ে তারা কিছু গ্রাহকের পণ্য সরবরাহ করতে পারেনি। কিন্তু তারা তো বলেনি পণ্য সরবরাহ করবে না বা টাকা ফেরত দিবে না। অবশ্যই তারা তাদের শর্ত পূরণ করবেন। তারা এখন পর্যন্ত ৭০ লাখ গ্রাহকের কাছে তাদের পণ্য পৌঁছে দিয়েছে। মাত্র তিনজন গ্রাহক তা পাননি। এখন আবার রাসেলের আরেকটি মামলায় রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। দফায় দফায় রিমান্ডের কোন যৌক্তিকতা নেই। তার রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন চাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, তার বাড়ি আছে। পাসপোর্ট জমা রেখে বা যেকোনো শর্তে তার জামিন চাচ্ছি। তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগও নাই। জামিন পেলে তিনি পালিয়ে যাবেন না, নিয়মিত আদালতে হাজিরা দেবেন।

রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধীতা করে বলেন, মামলার পর ইভ্যালির বিরুদ্ধে দুদক তদন্ত করছে। মানিলন্ডারিং মামলাও হবে। তারা বুঝে শুনে শত শত গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ করেছে। এরপর যদি তারা প্রমাণ করতে পারেন যে টাকা নেয়নি। তাহলে তারা অব্যাহতি পাবেন। এ আসামি কোনভাবেই জামিন পেতে পারে না।

শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড ও জামিন নাকচ করে আসামিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে একদিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন।

অন্যদিকে ধানমন্ডি থানার আরেক মামলায় রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে আসামিকে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। এরপর আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসায় অভিযান চালিয়ে রাসেল ও নাসরিনকে র‌্যাব গ্রেপ্তার করে। এরপর দুই দফায় রাসেলকে রিমান্ডে নেওয়া হয়।

ই-কমার্স প্রতারণার তদন্ত চলছে

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অর্থনৈতিক অপরাধ শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির সমকালকে বলেন, ই-কমার্স সেক্টরে প্রতারণার ঘটনায় দায়ের মামলাগুলোর ছায়াতদন্ত করছে সিআইডি। এরমধ্যে ধামাকা ও এসপিসি ওয়ার্ল্ডের বিরুদ্ধে সিআইডির পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। সেগুলোর তদন্ত এগিয়ে চলেছে।

সিআইডি সূত্র জানায়, প্রাথমিক তদন্তে ধামাকা ও এসপিসি ওয়ার্ল্ডের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এরমধ্যে ধামাকা গ্রাহকের ১১৬ কোটি এবং এসপিসি ওয়ার্ল্ড ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা পাচার করেছে। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করা হয়। বনানী থানার মামলায় ধামাকার প্রধান চিশতিসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। আর কলাবাগান থানায় মামলা হয় এসপিসির কর্ণধার আলামিনের বিরুদ্ধে।

এদিকে ধানমন্ডি থানায় করা দুই মামলার একটিতে একদিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু তথ্য দিয়েছেন ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাসেল। ধানমন্ডি থানার ওসি ইকরাম আলী সমকালকে বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তার ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও আর্থিক লেনদেনের ব্যাপারে কিছু তথ্য দিয়েছেন। তার দাবি, গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে তিনি আগ্রহী। ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ পেলে তিনি সেই অর্থ ফেরত দিতে পারতেন।

অপর মামলায় রাসেলকে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানান ওসি।