দেশে প্রাণনাশী হিসেবে চিহ্নিত অসুস্থতা হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, শ্বাসতন্ত্রের অসুখ, ক্যানসার, কিডনির অসুখ, ডেঙ্গুসহ ৫২টি অসুস্থতায় ৮০ বছর পর্যন্ত আর্থিক সুরক্ষা দেওয়ার জন্য ‘ক্রিটিক্যাল ইলনেস ইন্সুরেন্স প্রটেকশন প্ল্যান’ নামে নতুন একটি স্বাস্থ্য বীমা চালু করেছে মেটলাইফ বাংলাদেশ। দেশে এ রকম বীমা এটিই প্রথম।

রোববার মেটলাইফ বাংলাদেশ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এটি দেশের একমাত্র স্বাস্থ্য বীমা, যেখানে অপেক্ষাকৃত কম সময়ের জন্য (পলিসি গ্রহণের তারিখ থেকে সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত) প্রিমিয়াম দেবেন গ্রাহক এবং তার পরিবার জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য বা পলিসি গ্রাহকের অপ্রত্যাশিত মৃত্যুর ক্ষেত্রে ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত ১ কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক সুরক্ষা পেতে পারেন। এছাড়া পলিসি গ্রহীতা যদি ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত কোনো রকম বীমা দাবি না করে থাকেন, তাহলে পলিসির মেয়াদপূর্তিতে তিনি ১০০ শতাংশ পর্যন্ত পলিসি কভারেজ বা আর্থিক নিরাপত্তা পেতে পারেন।

এতে বলা হয়, অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, জটিল রোগের দ্রুত নির্ণয় এবং চিকিৎসায় ভালো ফলাফল বয়ে আনে, যদিও এক্ষেত্রে চিকিৎসা খরচের ব্যাপকতা ব্যক্তির সঞ্চয় এবং জীবনযাত্রার মানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ক্রিটিক্যাল ইলনেস ইন্সুরেন্স প্রটেকশন প্ল্যান বীমা গ্রহীতাকে চিকিৎসা খরচ বহন করতে এবং অসুস্থতার সঙ্গে সম্পর্কিত শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক চাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

এছাড়া ডেঙ্গু জ্বরের বর্তমান প্রাদুর্ভাব বিবেচনা করে, এ রোগে অকাল মৃত্যু হলে এ স্বাস্থ্য বীমা অতিরিক্ত আর্থিক সুরক্ষা দেয়। নতুন এই স্বাস্থ্য বীমা ও যে যে জটিল অসুস্থতায় আর্থিক নিরাপত্তা দেওয়া হবে, তার তালিকা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে মেটলাইফ বাংলাদেশের ওয়েবসাইটে।

মেটলাইফ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী আলা আহমদ বলেন, আমরা আমাদের গ্রাহকদের স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান দিতে চাই। আমরা দেখেছি, জটিল অসুস্থতায় আক্রান্ত রোগী ও তাদের পরিবারের ওপর কেমন প্রভাব ফেলে। এ জন্য আমরা সবাইকে সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে একইসঙ্গে ক্রিটিক্যাল ইলনেস ইন্সুরেন্স প্রটেকশন প্ল্যানের মতো সাশ্রয়ী মূল্যের আর্থিক সুরক্ষা নিতে উৎসাহিত করছি। ভবিষ্যতে কী হবে, তা হয়তো আজই বলা সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা যা করতে পারি, তা হচ্ছে, এই অনাগত ভবিষ্যতকে নিরাপদ রাখতে আজই পরিকল্পনা নিতে পারি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এ স্বাস্থ্য বীমা চালু করা হয়েছে। দেশে মানুষের গড় আয়ু ৭৩ বছরে উন্নীত হলেও বর্তমান সময়ের ব্যস্ত জীবনযাত্রায় অধিক দুশ্চিন্তার ফলে এবং যথাযথ পুষ্টি ও ব্যায়ামের অভাবে মানুষ হার্ট অ্যাটাক, ক্যানসার ও স্ট্রোকের মতো গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুসারে এ দেশে ক্যানসার, কার্ডিও ভাস্কুলার এবং শ্বাসতন্ত্রের রোগের মতো নন-কম্যুনিকেবল অসুস্থতা ৬৭ শতাংশ মৃত্যুর জন্য দায়ী।