ঋণখেলাপি মামলার জেরে মো. এরশাদ আলী ব্যক্তিগত আক্রোশের বশবর্তী হয়ে ঢাকা সিএমএম আদালত এবি ব্যাংকের ডিএমডি আব্দুর রহমান ও অন্যদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বলে জানিয়েছে এবি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। ওই মামলা বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ''বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলে প্রকাশিত 'এবি ব্যাংকের ডিএমডি আব্দুর রহমান গ্রেপ্তার' শীর্ষক প্রকাশিত সংবাদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। মো. এরশাদ আলী ব্যাংকিং সেক্টরে একজন চিহ্নিত ঋণখেলাপি হিসেবে পরিচিত। দেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এরশাদ আলীর কাছে পাওনা প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। প্রকৃতপক্ষে, মামলার বাদী এরশাদ গ্রুপের কাছে এবি ব্যাংকের মোট অনাদায়ী ঋণ ১৭৬ কোটি টাকা, যার পুরোটাই বর্তমানে মন্দ ঋণ হিসেবে বিবেচিত এবং এবি ব্যাংক এরশাদ গ্রুপের বিরুদ্ধে এই বিষয়ে চারটি ফৌজদারি মামলা করেছে (মামলা নং- ৬৬১/২০১৮, ৭৫৭/২০১৮, ৫৪২/২০১৯, ৩৪/২০১৯)। এছাড়াও এবি ব্যাংক এরশাদ আলীকে প্রদত্ত ঋণের টাকা উদ্ধারে অর্থঋণ আদালতে মামলা করে (মামলা নং-৫৩০/২০২০) যা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।'' 

এতে আরও বলা হয়, 'মো. এরশাদ আলীর বিরুদ্ধে বর্তমানে এবি ব্যাংকের ঋণখেলাপি ও প্রতারণা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে এবং তিনি Session court for trail-এর অধীনে জামিনে রয়েছেন। আমরা মনে করি ওই মামলাসমূহের জের হিসেবে ব্যক্তিগত আক্রোশের বশবর্তী হয়ে মো. এরশাদ আলী ঢাকা সিএমএম আদালত এবি ব্যাংকের ডিএমডি আব্দুর রহমান এবং অন্যদের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য/উপাত্ত গোপন রেখে মামলা (সি. আর মামলা নং-৩৮৫/২০২১) দায়ের করেন, যা বিভ্রান্তিকর ও উদ্দশ্যেপ্রণোদিত।'

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, 'এবি ব্যাংক দেশের প্রথমসারির ব্যাংকগুলোর মধ্যে অন্যতম এবং দেশের অর্থনীতিতে উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে সবসময়ই কাজ করে এসেছে। বর্তমান ঋণখেলাপির ধারার বিপরীতে এবি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যাংকের টাকা উদ্ধারের জন্য অন্যান্য ঋণখেলাপিদের মতো এরশাদ আলীর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে যা একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং ভবিষ্যতে এটি আরও গতিশীল হবে। এমতাবস্থায় এরশাদ আলীর এই হীন আচরণ উদ্দেশ্যমূলক এবং এবি ব্যাংকের পাওনা অর্থ আদায়ে ব্যাহত করার অপচেষ্টা মাত্র। এবি ব্যাংক এই ব্যাপারে আপোষহীনভাবে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।'