ন্যাশনাল ব্যাংকের এমডির পদ ছাড়লেন শাহ সৈয়দ আব্দুল বারী। ব্যাংকটির পরিচালক রন হক সিকদারের চাপের মুখে বৃহস্পতিবার তিনি পদত্যাগে বাধ্য হন বলে জানা গেছে। তার পদত্যাগের পর ব্যাংকের একমাত্র ডিএমডি সৈয়দ রইস উদ্দিনকে এমডির (চলতি দায়িত্ব) দেওয়া হয়েছে। আগামী সোমবার পরিচালনা পর্ষদের সভায় এমডির পদত্যাগ নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।

জানতে চাইলে রন হক সিকদার সমকালকে বলেন, 'পদত্যাগের জন্য তার ( আব্দুল বারী) ওপর কোনো চাপ ছিলো না বরং আমানত বাড়াতে না পারাসহ বিভিন্ন সূচকে ভালো করতে না পারায় তিনি নিজেই পদত্যাগ করেছেন।'

তিনি বলেন, 'আমরা তো আর হাজার-হাজার কোটি টাকার ঋণ দিচ্ছি না যে, তার সঙ্গে কোনো মতবিরোধ হবে। গত মে মাস থেকে আমাদের ঋণ বিতরণ বন্ধ আছে। আর বাংলাদেশ ব্যাংক যেসব শর্ত দিয়েছে তার অন্যতম একটি ভালো ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নিতে হবে।'

ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান জয়নুল হক সিকদার পরিবারের নিয়ন্ত্রণে থাকা ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে এর আগেও কয়েকজন এমডি পদত্যাগে বাধ্য হন। একে-একে এমডির পদ হারাতে থাকায় ও বিভিন্ন অনিয়মের কারণে ২০১৪ সাল থেকে ব্যাংকটিতে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়ে আসছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সিকদার পরিবারের অনিয়ম নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এতো দিন চুপ থাকলেও ব্যাংকটির দীর্ঘদিনের চেয়ারম্যান জয়নুল হক সিকদার গত ১০ ফেব্রুয়ারি মারা যাওয়ার পর দৃশ্যমান বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে দেখা গেছে। পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ছাড়া বিপুল পরিমাণের ঋণ বিতরণসহ বিভিন্ন অনিয়মে সম্পৃক্ততার দায়ে সিকদার পরিবারের ঘনিষ্ট ভারপ্রাপ্ত এমডি এএসএম বুলবুলকে গত এপ্রিলে সরিয়ে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। আর এবি ব্যাংকের ঋণখেলাপির দায়ে গত ২৭ জুন পরিচালক পদ হারিয়েছেন জয়নুল হক সিকদারের ছেলে রিক হক সিকদার। ব্যাংকটির ঋণ আমানত অনুপাত (এডিআর) ৮৭ শতাংশের নিচে না আনা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া ঋণ বিতরণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকটির ওপর বিষদ পরিদর্শনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ চলমান রয়েছে।

জানা গেছে, জয়নুল হক সিকদারের মৃত্যুর পর থেকে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে তার স্ত্রী মনোয়ারা সিকদার দায়িত্বে থাকলেও নীতি নির্ধারণী বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেন তাদের দুই সন্তান রন হক সিকদার ও রিক হক সিকদার। তারা দু'জন ব্যাংকের এমডি হিসেবে চেয়েছিলেন বিভিন্ন অনিয়মে সম্পৃক্ততার দায়ে পদ হারানো এসএম বুলবুলকে। তবে এমডি করতে না পারায় তাকে সিকদার গ্রুপের উচ্চ পদে চাকরি দেওয়া হয়। এসএম বুলবুলকে সরানোর পর তাদের বোন ও ব্যাংকটির অন্যতম পরিচালক পারভীন হক সিকদারের জোর সমর্থন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতায় এমডির দায়িত্ব পান তৎকালীন ডিএমডি শাহ সৈয়দ আব্দুল বারী। গত ২৭ এপ্রিল প্রথমে তাকে তিন মাসের জন্য এমডির দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আরও এক বছরের জন্য তার মেয়াদ বাড়ানো হয়। তবে আট মাস বাকি থাকতেই বিভিন্ন চাপের মুখে তিনি পদ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

শাহ সৈয়দ আব্দুল বারীর টেলিফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। ব্যাংকটির স্বতন্ত্র পরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মুরশিদ কুলী খানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এমডি কেন পদত্যাগ করেছেন তা তিনি জানেন না।