অ্যাননটেক্স গ্রুপের ঋণ পুনঃতফসিলে অনাপত্তি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। শর্ত সাপেক্ষে বিশেষ ব্যবস্থায় এই ঋণ নিয়মিত করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। 

নানা জালিয়াতির কারণে অ্যাননটেক্স গ্রুপের ৬ হাজার ৫৫০ কোটি টাকার ঋণ দীর্ঘদিন ধরে খেলাপি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শর্ত মেনে এসব ঋণ নিয়মিত হলে জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ অর্ধেকে নামবে। 

মঙ্গলবার শেষ সময়ে ঋণ পুনঃতফসিলে অনাপত্তির চিঠি ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অ্যাননটেক্স গ্রুপসহ জনতা ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ রয়েছে ১৩ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা। ব্যাংকটির মোট ঋণের যা ২২ দশমিক ২৯ শতাংশ। 

পরিমাণ বিবেচনায় ব্যাংক খাতে সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণ এখন জনতায়। অ্যাননটেক্স গ্রুপের ঋণ নিয়মিত হলে ব্যাংকটির মূলধন সংরক্ষণের নিরাপত্তা সঞ্চিতির (প্রভিশন) ঘাটতি কমবে। 

গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকটির প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে পাঁচ হাজার ৩১৩ কোটি টাকা।

জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুছ ছালাম আজাদ সমকালকে বলেন, অ্যাননটেপ গ্রুপ ঋণ পুনঃতফসিলের জন্য ডাউনপেমেন্ট বাবদ গত ডিসেম্বরে এক চেকে ৫০ কোটি টাকা জমা দিয়েছে। এর আগে দিয়েছিল আরও ২৪ কোটি টাকার বেশি। আরও কিছু টাকা জমা দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। 

তিনি জানান, মঙ্গলবার ঋণ পুনঃতফসিলে অনাপত্তি চিঠি এসেছে কি না তা তিনি জানেন না। তবে চিঠি পেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনার আলোকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জেনে বিষয়টি জানাবেন বলে জানান। পরে কয়েক দফা টেলিফোন করেও আর পাওয়া যায়নি।  সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কেউ এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

জনতা ব্যাংকের অন্য একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, মঙ্গলবার শেষ সময়ে অনাপত্তির চিঠি এসেছে বলে তিনি শুনেছেন। সেখানে বেশ কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে। তবে শেষ সময়ে চিঠি আসায় শর্তগুলো আগামীকাল পর্যালোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন পরিদর্শনে উঠে আসে, অনিয়ম, জালিয়াতি ও তথ্য গোপন করে অ্যাননটেক্স গ্রুপের ২২ প্রতিষ্ঠানকে ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল সময়ে বিপুল অংকের ঋণ দিয়েছে জনতা ব্যাংক। অনারোপিত সুদ বাদে এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে ব্যাংকের পাওনা রয়েছে ৬ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা।

এর আগে দুই শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দিয়ে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের বিশেষ নীতিমালার আওতায় ২০১৯ সালে গ্রুপটির ৭ প্রতিষ্ঠানের এক হাজার ৭৪৪ কোটি টাকা নিয়মিত করা হয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- অ্যানটেপ গ্রুপের মালিকানাধীন গ্যালাপি সুয়েটারস অ্যান্ড ইয়ার্ণ ডায়িং, সুপ্রভ কম্পোজিট নিট, সিমরান কম্পোজিট, জ্যাকর্ড নিট টেপ, এম নূর সুয়েটার, সুপ্রভ স্পিনিং ও শব মেহের স্পিনিং মিলস।

এর বিপরীতে এসব প্রতিষ্ঠানের অনারোপিত সুদের ২১৮ কোটি টাকা মওকুফ করে ব্যাংক।

তবে নিয়ম বহির্ভূত সুবিধা হওয়ায় গত বছরের মার্চে সেই পুনঃতফসিল ও সুদ মওকুফ বাতিল করে বাংলাদেশ ব্যাংকের অফ-সাইট সুপারভিশন বিভাগ। এখন বিশেষ সুবিধায় ঋণ পুনঃতফসিলের অনাপত্তি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ।