বরিশাল

আলিম পাস ডাক্তার!

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০১৮     আপডেট: ২৮ আগস্ট ২০১৮      

বরিশাল ব্যুরো

পরনে সাদা অ্যাপ্রোন। গলায় ঝুলানো থাকে স্টেথোস্কোপ। প্রায়ই আকস্মিক হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলো পরিদর্শন করে রোগী দেখেন। হাসপাতালের বেশিরভাগ লোকই তাকে চিকিৎসক হিসেবেই চেনেন।

অথচ এ লোকটি নগরীর সাগরদি আলিয়া মাদ্রাসা থেকে আলিম পাস করেছেন মাত্র। কিন্তু বেশভূষায় চিকিৎসক বেশে চলাফেরা করে দীর্ঘদিন ধরে শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে রোগী এমনকি কর্মচারীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। মঙ্গলবার এ ভুয়া চিকিৎসককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

ভুয়া এ চিকিৎসকের নাম সাইফুল ইসলাম (২৪)। বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার বাইশারী এলাকার মো. নুরুজ্জামানের ছেলে তিনি। সাইফুল ইসলাম নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলার এক বিত্তবান পরিবারের মেয়েকে বিয়ে করেছেন।

শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেন জানান, সাইফুল ইসলাম নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে দু-তিন বছর ধরে সহজ-সরল রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নিতেন। কখনও রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষার নামে, আবার কখনও রোগী ভর্তি, কেবিন পাইয়ে দেওয়া, কম খরচে অপারেশন করে দেওয়ার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেওয়াই ছিল তার কাজ। তার প্রতারণা থেকে রক্ষা পাননি হাসপাতালের কর্মচারীরা। কর্মচারী আ. রশিদের ছেলেকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে দুই বছর আগে এক লাখ পাঁচ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

পরিচালক জানান, মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে হাসপাতালের ক্যান্সার বিভাগের সামনে সাইফুল ইসলাম চিকিৎসক বেশে ঘোরাফেরা করার সময় কর্মচারী আ. রশিদ তাকে (সাইফুল) চিনে ফেলে আটক করে। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। এ ঘটনায় হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার আবুল কালাম বাদী হয়ে সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

কোতোয়ালী থানার ওসি মো. নুরুল ইসলাম জানান, সাইফুল ইসলাম সহজ-সরল রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে প্রতারণা করে ফাঁদে ফেলে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। তার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি-না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।