বিয়ের প্রলোভনে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ সদস্য আটক

প্রকাশ: ২২ জুন ২০১৯     আপডেট: ২২ জুন ২০১৯      

বাগেরহাট প্রতিনিধি

প্রতীকী ছবি

বাগেরহাটের রামপালে এক কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভনে দিনের পর দিন ধর্ষণের অভিযোগে মুস্তাকিন বিল্লাহ (৩২) নামে নৌ পুলিশের এক সদস্যকে ধরে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনতা। বৃহষ্পতিবার রাতে রামপাল উপজেলার ভোতপাতিয়া ইউনিয়নের কালিকাবাড়ি গ্রাম থেকে স্থানীয় গ্রামবাসী তাকে ধরে পুলিশে দেয়। পরে শুক্রবার রাতে ভুক্তভোগী মেয়েটি রামপাল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নৌ পুলিশের ওই সদস্য বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন। এ ঘটনায় নৌ পুলিশের খুলনা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) রামপাল থানা পরিদর্শন করেছেন।

এদিকে, শনিবার দুপুরে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং অভিযুক্ত মুস্তকিনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অভিযুক্ত নৌ পুলিশ সদস্য মুস্তাকিন বিল্লাহ খুলনার তেরখাদা উপজেলার বারাসাত গ্রামের হাফেজ জামিল আহমেদের ছেলে। তিনি রামপাল উপজেলার মোংলা-ঘষিয়াখালী নৌচ্যানেলের সন্নাসী নৌপুলিশ ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন।

মামলার বরাত দিয়ে রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লুৎফর রহমান সমকালকে বলেন, মোংলা-ঘষিয়াখালী নৌচ্যানেলের সন্নাসী নৌপুলিশ ক্যাম্পে কর্মরত কনস্টেবল মুস্তাকিন বিল্লাহ’র সাথে প্রায় দুইমাস আগে চলতি শিক্ষাবর্ষে এসএসসি পাশ করা স্থানীয় এক কিশোরীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মেয়েটিকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে ওই পুলিশ সদস্য। সম্প্রতি মেয়েটি ওই পুলিশ সদস্যকে বিয়ে করতে চাপ দিলে সে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর বৃহষ্পতিবার রাত একটার দিকে নৌ পুলিশের সদস্য আবারও মেয়েটির সাথে দেখা করতে আসলে স্থানীয় লোকজন তাদের ধরে প্রথমে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে দেয়। পরে চেয়ারম্যান তাদের পুলিশে সোপর্দ করেন।

ওসি জানান, এই ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। শনিবার দুপুরে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং নৌ পুলিশের সদস্য মুস্তকিনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বাগেরহাট সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) চিকিৎসক মশিউর রহমান বলেন, দুপুরে কিশোরীর ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তাকে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে।