চেয়ারে বসায় মাদ্রাসাছাত্রকে দায়ের কোপ শিক্ষকের

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০১৯      

রাজাপুর (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি

ছাত্রকে দা দিয়ে কোপ দিয়েছেন মাদ্রাসার শিক্ষক। এতে ছাত্র হাত দিয়ে ঠেকাতে গেলে তার কবজির কিছু অংশ কেটে যায়।

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের নারিকেলবাড়িয়া জাফরাবাদ নেছারিয়া আলিম মাদ্রাসায় ঘটনাটি ঘটে গত ১২ জুন।

ওই ছাত্রের নাম সাব্বির হোসেন। পড়ে সপ্তম শ্রেণিতে। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম ফোরকান হোসেন। বর্তমানে ওই ছাত্র হাতে সংক্রমণ নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেপে চিকিৎসাধীন।

চিকিৎসাধীন সাব্বির অভিযোগ করে জানায়, মাদ্রাসার দরজা-জানালা না থাকায় ঘটনার দিন দুই বন্ধুকে নিয়ে মাদ্রাসার একটি শ্রেণিকক্ষে চেয়ারে বসেছিল। এ সময় হুজুর (মাদ্রাসা শিক্ষক) এসে চেয়ারে বসার কারণে তাদের গালমন্দ এবং চড়থাপ্পড় মারেন। এক পর্যায়ে হুজুরের হাতে থাকা দা দিয়ে তাকে কোপ দিলে তা ঠেকাতে গিয়ে বাম হাতের কবজি কেটে যায়।

সাব্বিরের মা তাসলিমা বেগম জানান, শিক্ষকের দায়ের কোপে আহত হওয়ার পর স্থানীয় ফার্মেসিতে চিকিৎসা করানোয় ক্ষতস্থানে সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। এ কারণে গত শুক্রবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষক ফোরকান হোসেন বলেন, তিনি সাব্বিরকে কোপ দেননি। ঘটনার দিন মাদ্রাসা বন্ধ ছিল। মাদ্রাসার পাশের একটি সবজিক্ষেতে কাজ করছিলাম। তখন মাদ্রাসার ভেতরে শিক্ষকদের চেয়ারে বসে টেবিল চাপড়ে গান-বাজনা করছিল সাব্বির ও তার অন্য এলাকার দুই বন্ধু। সাব্বিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় মাদ্রাসার ছাত্রীদের উত্ত্যক্তের অভিযোগ থাকায় সেখানে গিয়ে তাকে গালমন্দ করে চলে যেতে বলি; কিন্তু তারা চড়াও হলে কথা কাকাটির এক পর্যায়ে তার হাতে থাকা দায়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে সাব্বিরের হাত কেটে যায়। সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত ওর চিকিৎসার যাবতীয় খরচ তিনি বহন করবেন বলেও জানান।

রাজাপুর থানার এএসআই নেছার উদ্দিন বলেন, এ নিয়ে থানায় কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।