'৩০০ টাকা নিয়ে বিরোধে' পিকআপ চালক উজ্জলকে গলা কেটে হত্যা

প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০১৯      

বরিশাল ব্যুরো

পিকআপ চালক উজ্জল হত্যায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ— সমকাল

মাত্র ৩০০ টাকা নিয়ে বিরোধের জের ধরে বরিশালে পিকআপ চালক উজ্জলকে (২৫) গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে।

উজ্জল  হত্যায় গ্রেফতার তিনজন প্রাথমিকভাবে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে এ কথা জানিয়েছে বলে রোববার দুপুরে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

গ্রেফতার তিনজন হলেন– ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ কাজে ঠিকাদারের নিযুক্ত সাব ঠিকাদার নগরীর আলেকান্দা এলাকার বাসিন্দা সোহাগ এবং তার দুই সহযোগী রবিউল ও রমজান।

গ্রেফতারের তিনজনের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. শাহাবউদ্দিন জানান, নির্মাণাধীন ট্রাক টার্মিনালের চোরাই মালামাল পরিবহন ভাড়া নিয়ে এই তিনজনের সঙ্গে উজ্জলের বিরোধ হয়। শুক্রবার রাতে ট্রাক টার্মিনালের বালুর নিচ থেকে উজ্জলের লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে সোহাগ, রবিউল ও রমজানকে গ্রেফতার করে। তারা উজ্জ্বলকে গলা কেটে হত্যা ও লাশ বালু চাপা দেয়ার কথা স্বীকার করেছে।

পুলিশ কমিশনার আরও জানান, শুক্রবার রাতে লাশ উদ্ধারের পর সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে সোহাগকে আলেকান্দার বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। সে উজ্জলকে হত্যার কথা স্বীকার করে। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী শনিবার ঢাকায় অভিযান চালিয়ে রবিউল ও রমজানকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার করা হয়েছে উজ্জলের পিকআপ ও হত্যায় ব্যবহৃত সরঞ্জামও।

তিনি জানান, টার্মিনালের নির্মাণসামগ্রী চুরি করে বিক্রি করতো সাব ঠিকাদার সোহাগ। সেগুলো উজ্জলের পিকআপে টার্মিনালে বাইরে নিয়ে যাওয়া হতো। এজন্য সে দেড় হাজার টাকা ভাড়া পেত। সর্বশেষ চোরাই মাল পরিবহনে তাকে ১২০০ টাকা দেয়া হয়। পাওনা ৩০০ টাকা নিয়ে সোহাগের সঙ্গে উজ্জলের বিরোধ বাধে।

আসামিদের স্বীকরোক্তির বরাত দিয়ে পুলিশ কমিশনার জানান, ৩০০ টাকা না পেয়ে রাগে উজ্জল মালামাল চুরির কথা মূল ঠিকাদার স্বপনের কাছে ফাঁস করে দেয়। ক্ষিপ্ত হয়ে স্বপন সাব ঠিকাদার সোহাগকে পাওনা ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা দিতে অস্বীকার করে। এ কারণে সোহাগের নেতৃত্বে পিকআপ চালক উজ্জলকে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে।

শাহাবউদ্দিন জানান, গ্রেফতার তিন ঘাতক পুলিশকে জানিয়েছে, ঘটনার দিন রাত ৯টার দিকে সোহাগ ও রবিউলের ফোন পেয়ে উজ্জল ট্রাক টার্মিনালে গেলে তাকে নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে নেয়া হয়। সেখানে রবিউল ও রমজান উজ্জলের গলায় হাত দিয়ে কথা বলতে থাকে। এসময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে উজ্জলের গলার পেছনের দিকে আঘাত করে সোহাগ। পরে গলা কেটে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে কাথামুড়িয়ে কাশবনের মধ্যে উজ্জলের লাশ বালিচাপা দেয়া হয়।

প্রসঙ্গত, উজ্জল নিখোঁজ হওয়ার পর স্বজনরা তা সন্ধান করতে গিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে ট্রাক টার্মিনালের কাশবনের মধ্যে বালুচাপা দেয়া অবস্থায় তার গলা কাটা লাশ পায়। উজ্জল নগরীর ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের প্রয়াত মোস্তফা হাওলাদারের ছেলে।