বরিশাল

প্রতিদিনই ভর্তি হচ্ছে নতুন রোগী, কিট নেই শেবাচিম হাসপাতালে

প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০১৯      

বরিশাল ব্যুরো

ফাইল ছবি

ডেঙ্গু পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে বরিশালে। শুধু ঢাকা থেকে আসার পর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে না; ঢাকা যায়নি এমন দু'জন রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে।

ওইসব রোগীরা বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রোববার পর্যন্ত হাসপাতাটিতে নতুন ভর্তি হওয়া ৪৪ রোগীসহ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত মোট ১৪৮ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এদিকে ডেঙ্গু পরীক্ষার কিটস (রি-এজেন্ট) নেই শেবাচিম হাসপাতালে। ফলে নতুন আসা ও পুরনো রোগীদের ডেঙ্গু পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। এ জন্য বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হচ্ছে তাদের। তবে শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন জানান, সোমবার ঢাকা থেকে ৫শ' কিটস আসছে।

বরিশালে এ পর্যন্ত ৩ জন রোগী মারা গেছে। এর মধ্যে দু'জন শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তারা হলেন- বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের আসলাম খান (২২) ও পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার সোহেল (১৮)। এ ছাড়া গৌরনদী উপজেলার আশোকাঠি গ্রামের আলেয়া বেগম (৬১) নামে এক নারী বাসায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

শেবাচিম হাসপাতালে গত ১৬ জুলাই থেকে রোববার পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়েছেন ২৬০ জন রোগী। চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ১১০ জন।

রোববার ১৪৮ ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিলেও এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা কোনো ওয়ার্ড খোলা হয়নি। পর্যাপ্ত ওষুধও বিনামূল্যে পাচ্ছে না রোগীরা।

রোববার শেবাচিম হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীরা একাধিক ওয়ার্ডে কেউ মেঝেতে কেউ বারান্দায় মশারি টাঙিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে শুধু প্যারাসিটামল ও ওমিপ্রাজল বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসাধীন রোগীদের প্লুকোজ স্যালাইনও বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।

সরকারি বরিশাল কলেজের স্নাতক শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. জহিরুল ইসলামের বাড়ি সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের নয়য়ানি গ্রামে। দু'দিন আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তিনি জানান, গত ২-৩ মাসে ঢাকা যাননি তিনি।

নগরীর কাউনিয়া এলাকার কলেজিয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্রী মাহফুজা বেগম বুধবার ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তার স্বজনরা জানান, মাহফুজা কখনও ঢাকা যায়নি। ফলে শুধু ঢাকায় গিয়েই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি এখন আর বলা যাচ্ছে না। বরং স্থানীয়ভাবেও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে। ঢাকা যায়নি এমন এক রোগী ডেঙ্গু নিয়ে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

শেবাচিম হাসপাতালে ৪ দিন ধরে ডেঙ্গু নিয়ে চিকিৎসাধীন মুলাদীর মো. নয়ন অভিযোগ করেন, হাসপাতাল থেকে প্যারাসিটামল ও গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ ছাড়া বিনামূল্যে আর কোনো ওষুধ দেওয়া হয় না।

রোগীর স্বজন মেহেন্দীগঞ্জের মিনারা বেগম বলেন, 'হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার কিটস না থাকায় অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে।'

শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন ডেঙ্গু পরীক্ষার কিটস না থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ৫শ' কিট শেবাচিম হাসপাতালের জন্য বরাদ্দ হয়েছে, যা সোমবার সকালে এসে পৌঁছবে।

পরিচালক বলেন, হাসপাতালের ৪র্থ তলায় ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পৃথক ওয়ার্ড করার কাজ চলছে। ২-১ দিনের মধ্যেই সেখানে ডেঙ্গু রোগীদের স্থানান্তর করা হবে।

বরিশালের সিভিল সার্জন ডা. মো. মনোয়ার হোসেন জানান, বরিশালের ৪টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছে, যার মধ্যে বাকেরগঞ্জের ৪ জন, গৌরনদীর ২ জন, মুলাদীর ২ জন এবং উজিরপুরের ১ জন।

সিভিল সার্জন জানান, বরিশাল সদর হাসপাতাল এবং ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য ১২০টি কিটসবরাদ্দ দেওয়া হলে সেগুলো বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কিটগুলো শেষ হয়নি।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রবিউল ইসলাম জানান, নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে প্রতিদিন সকাল-বিকেলে ৩০টি টিম মশা নিধনে ওষুধ ছিটাচ্ছে। এ ছাড়া মশার প্রজনন প্রতিরোধে নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডের ড্রেন, খাল, ঝোপ-জঙ্গল পরিস্কার করা হয়েছে। অব্যাহত রয়েছে এ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম। ১২০ জন কর্মী প্রতিদিন ওয়ার্ডগুলোতে ঘুরে ঝোপ-জঙ্গল পরিষ্কার করছে এবং ড্রেন, খাল পরিষ্কারের জন্য নিয়োজিত আছেন ৮০ জন কর্মী।