ভাঙছে চাঁদপুর শহররক্ষা বাঁধ, হুমকিতে পুরানবাজার

প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০১৯      

চাঁদপুর প্রতিনিধি

বিকেলে ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার -সমকাল

চাঁদপুর শহররক্ষা বাঁধের পুরানবাজার হরিসভা এলাকার মেঘনাপাড়ে ভয়াবহ ভাঙন পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি দেখা যায়নি। তবে ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) শনিবার রাত ১০টা থেকেই প্রায় ৩০০ মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলছে; কিন্তু সেখানে প্রবল স্রোত এবং ঢেউয়ের কারণে মাঝে মধ্যে টুকরো টুকরো হয়ে পাড় ভেঙে পড়ছে। রোববার বিকেল পর্যন্ত সাতটি বসতঘর নদীতে বিলীন হয়ে যায়।

পুরানবাজার এলাকার হরিসভা সর্বজনীন দুর্গামন্দির, কালীমন্দির, লোকনাথ ব্রহ্মচারী মন্দির ও ইস্কন ভবনটি ভাঙনের মুখে রয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে এ মন্দিরগুলো নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এসব মন্দিররক্ষা, শহররক্ষা বাঁধ রক্ষা ও চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী পুরানবাজারকে রক্ষায় জিও ব্যাগ দিয়েই প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিচ্ছে পাউবো। অন্যদিকে ভয়ে-আতঙ্কে আশপাশের এলাকার বাড়িঘর ও দোকানপাট সরিয়ে নিচ্ছেন এলাকাবাসী। এদিকে শনিবার রাতে শহররক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ভাঙনের খবর শুনে রোববার বিকেলে ভাঙন পরিদর্শনে আসেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার। তিনি পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।

ওই সভায় তিনি বলেন, ভয়াবহ এ ভাঙনের কথা শুনে আমি চাঁদপুরে এসেছি। আমার সঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান ইঞ্জিনিয়ার মোতাহার হোসেনসহ (ডিজাইন) একটি প্রতিনিধি দল এসেছে, যারা এ ভাঙন পরিস্থিতি প্রতিরোধ করার বিষয়ে একটি নকশা তৈরির জন্য এরই মধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছেন। এখানে আপাতত জিও ব্যাগ ফেলা কিংবা কিছু ব্লক ফেলা ছাড়া স্থায়ী কোনো কাজে হাত দেওয়া সম্ভব নয় আর সেটি ঠিকও হবে না। কারণ, এখানে প্রবল স্রোত এবং ঢেউ রয়েছে। পুরোদমে একটি স্থায়ী কাজ করতে হলে শুস্ক মৌসুমের প্রয়োজন। 

তাছাড়া শুস্ক মৌসুমে কেন কাজ করা হয় না- এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আসলে বিগত দিনে আমাদের কাজগুলো করার বিষয়ে সময়মতো ফান্ড পাওয়া এবং অন্যান্য কাজ করতে করতেই সময় ব্যয় হতো। এখন সেগুলো হবে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডেল্টা প্রকল্পে চাঁদপুরের এই মোহনাসহ দেশের সব মোহনা অঞ্চলকে ড্রেজিংয়ের আওতায় এনে এর গভীরতা এবং ভাঙন রোধে প্রকল্প গ্রহণ করেছেন।

এদিকে চাঁদপুরের পুরানবাজার এলাকা ছাড়াও মেঘনার ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়েছে সদর উপজেলার হানারচর ও রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন। এ বিষয়েও সচিবকে অবহিত করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসন শওকত ওসমান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী মোতাহের হোসেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. জামাল হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, চাঁদপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান প্রমুখ।

শনিবার রাত ৯টার দিকে শহরের পুরানবাজার হরিসভা মন্দির কমপ্লেপ গেট এলাকায় হঠাৎ করেই ভাঙন দেখা দেয়। ভাঙনে শহররক্ষা বাঁধ এলাকার দুটি বাড়িসহ পাঁচটি বসতঘর নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এ ছাড়া আশপাশের অনেকটা অংশজুড়ে বড় ধরনের ফাটল দেখা দেয়। এর আগেও কয়েক দফা ভাঙনের শিকার হয় হরিসভা এলাকা।