বরিশালে পুলিশের ঈদ প্রস্তুতি সভা

অনিয়মের অভিযোগে তোপের মুখে লঞ্চ মালিকরা

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০১৯      

বরিশাল ব্যুরো

ফাইল ছবি

ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে চলাচলকারী লঞ্চগুলোর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। যাত্রী জিম্মি করে কোটি কোটি টাকা মুনাফা করেন এ রুটের লঞ্চ মালিকরা। বিশেষ করে দুই ঈদে নানান কৌশলে কয়েক গুণ মুনাফা অর্জনের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। ঈদুল আজহা উপলক্ষে সোমবার বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ঈদউত্তর প্রস্তুতি সভায় এসব অভিযোগে তোপের মুখে পড়েন লঞ্চ মালিকরা। সভার প্রায় অর্ধেক সময় আলোচনা হয়েছে লঞ্চ ব্যবস্থার অনিয়ম নিয়ে।

নগরীর চাঁদমারি পুলিশ অফিসার্স মিলনায়তনে এ সভায় মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবউদ্দিনের সভাপতিত্বে সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ, লঞ্চ ও বাস মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধি, পশুরহাটের ইজারাদারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা ঈদুল আজহা নিয়ে তাদের প্রস্তুতির কথা জানান।

সভায় লঞ্চ মালিকদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- কেবিনের টিকিট কালোবাজারে বিক্রি, মাঝনদীতে লঞ্চগুলোর মধ্যে আগে যাওয়ার প্রতিযোগিতা, যাত্রী নিরাপত্তায় আনসার না রাখা ও যাত্রীদের অধিক মূল্যে মানহীন খাবার পরিবেশন।

বিআইডব্লিউটিএর বরিশাল বন্দর কর্মকর্তা আজমল হুদা মিঠু বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তায় একটি লঞ্চেও আনসার রাখা হয় না। বরং তাদের কর্মচারীদের আনসারের পোশাক পরিয়ে নিরাপত্তাকর্মী নামে যাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। লঞ্চ মালিকদের বিরুদ্ধে টিকিট কালোবাজারির অভিযোগও করেন এ বন্দর কর্মকর্তা।

সিটি করপোরেশনের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. সাইফুল ইসলাম জানান, তারা একাধিকবার সরেজমিন দেখেছেন, লঞ্চের খাবারের মান ভালো না। অথচ মূল্য রাখা হয় অনেক বেশি। এর কারণ জানতে চাইলে ক্যান্টিনের দায়িত্বরতরা জানান, প্রতিটি রাউন্ড ট্রিপের জন্য মালিকপক্ষকে ১৫ হাজার টাকা ক্যান্টিন ভাড়া দিতে হয়।

এসব অভিযোগের জবাবে কীর্তনখোলা লঞ্চের মালিক ফেরদৌস বলেন, আগ্নেয়াস্ত্রের নিরাপত্তা দিতে না পারায় তারা লঞ্চে আনসার রাখা বন্ধ করে দিয়েছেন। সুন্দরবন লঞ্চ কোম্পানির মালিক সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, ছয়জন আনসারের প্রতিজনকে ১৮-২০ হাজার টাকা বেতন দিতে হয়। এত টাকা ব্যয়ের সামর্থ্য মালিকদের নেই, তাই আনসার রাখছেন না। আর টিকিট কালোবাজারি ও স্টাফ কেবিন ভাড়া দেওয়ার দায় চাপান নৌযান শ্রমিকদের ওপর। এক পর্যায়ে মালিকরা বলেন, শ্রমিকদের তারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না।

সভায় জানানো হয়, ঈদুল আজহায় মেট্রোপলিটন এলাকায় ১৯টি পশুর হাট বসবে। প্রতিটি হাটে ২টি জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিন সরবরাহ করবে মেট্রোপলিটন পুলিশ। আর ঈদে নগরীতে থাকবে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।