বরিশালে ব্যাটারিচালিত রিকশা শ্রমিকদের আমরণ অনশন শুরু

প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০১৯      

বরিশাল ব্যুরো

ছবি: সংগৃহীত

ব্যাটারিচালিত রিকশা নগরীতে চলাচল করতে দেওয়ার দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেছেন রিকশা শ্রমিকরা। নগরীর প্রাণকেন্দ্র অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে বুধবার সকাল থেকে এ অনশন শুরু হয়। 

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) জেলা সদস্য সচিব ডা. মনীষা চক্রবর্তীর নেতৃত্বে প্রায় অর্ধশত রিকশা শ্রমিক আমরণ অনশনে অংশ নিয়েছেন। তিনি ব্যাটারিচালিত রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের প্রধান উপদেষ্টা।

জেলা বাসদের আহ্বায়ক প্রকৌশলী ইমরান হাবিব রুমন জানান, তাদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত অনশন অব্যাহত থাকবে। বুধবার সকালে অনশন শুরুর পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এসে এ কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন। অনশন শুরুর আগে শ্রমিকরা লাল পতাকা হাতে নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে নগরী প্রদক্ষিণ করেছে।

সংহতি জানিয়ে বক্তারা বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা চালানো পেশার সঙ্গে কমপক্ষে পাঁচ হাজার মানুষ জড়িত। তাদের পরিবার-পরিজন তাদের আয়ের ওপর নির্ভরশীল। নগরীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ করে দেওয়ায় এ পরিবারগুলো অনাহার-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে।

বক্তারা সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত আবদুল্লাহকে অভিযুক্ত করে বলেন, 'নগর পিতা হয়েও তিনি নগরবাসীর কথা শোনেন না। তার সঙ্গে সাধারণ মানুষ দেখা করার সুযোগ পান না। রিকশা শ্রমিকরা তাদের দুঃখের কথা জানাতে বিভিন্ন সময় মেয়রের কার্যালয় ও বাসার সামনে অপেক্ষা করলেও দেখা দেননি তিনি।

অনশন কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে বক্তৃতা করেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি আ. রাজ্জাক, গণফোরামের জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট হিরন কুমার দাস মিঠু, কমিউনিস্ট পার্টির জেলা সভাপতি মিজানুর রহমান সেলিম, আবু রায়হান, দুলাল মজুমদার, গণসংহতি আন্দোলনের জেলা আহ্বায়ক দেওয়ান আ. রসিদ নিলু, নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন জেলা সভাপতি আবুল হাসেম মাস্টার, শহিদুল ইসলাম, ছাত্র ইউনিয়ন নেতা নবীন আহমেদ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নেতা মোজাম্মেল হক সাগর প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গত ১৯ আগস্ট থেকে বরিশাল নগরীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। এরপর থেকে ধারাবাহিক আন্দোলন করে আসছে ব্যাটারিচালিত রিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন।