পিরোজপুরে বাস মালিক সমিতি

সভাপতির বিরুদ্ধে ২৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০১৯     আপডেট: ০৫ অক্টোবর ২০১৯      

পিরোজপুর প্রতিনিধি

সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করে সংগঠনের সাধারণ সদস্যরা একটি অংশ- সমকাল

পিরোজপুরে বাস মালিক সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে সংগঠনের নামে চাঁদা তুলে অন্তত ২৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। 

শনিবার দুপুরে শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সদস্যরা একটি অংশ অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক এমপি এ কে এম এ আউয়ালের ছোট ভাই জেলা বাস, মিনি বাস, কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সভাপতি মশিউর রহমান মহারাজ তার কতিপয় সহযোগীর সহায়তায় এ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে পিরোজপুর জেলা বাস ও মিনিবাস সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জসিম উদ্দিন খান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাবুল হালদার, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আক্তারুজ্জামান ফুলু, সমিতির সদস্য শহিদুল ইসলাম সরদার, নিজাম উদ্দিন, ডা. সিদ্দিকুর রহমান, সুমন খান, ফয়সাল হাওলাদার প্রমুখ বক্তব্য দেন।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, সমিতির সভাপতি মহারাজের নেতৃত্বে বিগত ৮-৯ বছরে সাধারণ মালিকদের গাড়ির সরাসরি রোটেশন বিক্রি, কোটা ভাড়া দিয়ে টাকা আদায়, গাড়ি বিক্রির ক্ষেত্রে ক্রেতা-বিক্রেতার কাছ থেকে টাকা আদায়, বিভিন্ন ফেরিঘাট থেকে চাঁদা আদায়, সমিতির নামে দূরপাল্লার গাড়ি থেকে নিয়মিত অবৈধ চাঁদা আদায়, শ্রমিক চাঁদার নামে সমিতির গাড়ি ও পরিবহন থেকে চাঁদাসহ বিভিন্নভাবে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। 

আর এ কাজে সহায়তা করেছেন সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি আলতাফ হোসেন নান্না, কোষাধ্যক্ষ রিপন দাস, সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম গাজী, সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল হক খোকন, নুরুল ইসলাম, অফিসের কর্মচারী জাহিদ হোসেনসহ আরও কয়েকজন। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গাড়ির মালিক না হয়েও অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সমিতির সভাপতিসহ বড় বড় পদ দখল করে এসব অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাত করেছেন। এ ছাড়া ইচ্ছা মাফিক গঠনতন্ত্র সংশোধন করে সমিতির নাম পরিবর্তন, দীর্ঘ সময় ক্ষমতা ও পদ আঁকড়ে রেখেছেন তারা।

এ সময় জানানো হয়, সমিতির কমিটির মেয়াদ গত ৩০ সেপ্টেম্বর উত্তীর্ণ হওয়ায় সাধারণ সদস্যরা ২ অক্টোবর সভা করে একটি আহ্বায়ক কমিটি ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করেছেন। সমিতির ১৭১ জন সদস্যের মধ্যে ১৩৬ জন সদস্য বিগত কমিটির প্রতি অনাস্থা জানিয়ে গঠনতন্ত্র মোতাবেক সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে সমিতির সভাপতি মশিউর রহমান মহারাজ বলেন, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য নয়। সমিতি পরিচালনার ক্ষেত্রে তিনি সবসময় সাধারণ সম্পাদকসহ সব সদস্যের সহযোগিতা ও সমর্থন নেন। বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের স্বাক্ষরিত কাগজপত্র তার প্রমাণ। তবে দু-একজন সদস্য ও অফিস কর্মচারী তার স্বাক্ষর জাল করে কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন।