মঠবাড়িয়ায় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ ফের ভাঙ্গনের মুখে

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২০     আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২০   

মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

বড়মাছুয়া মোহনায় ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ ফের ভাঙনের মুখে পড়েছে    সমকাল

বড়মাছুয়া মোহনায় ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ ফের ভাঙনের মুখে পড়েছে সমকাল

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের জলোচ্ছ্বাসে বলেশ্বর নদ তীরবর্তী পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার বড়মাছুয়া মোহনায় ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ সংস্কার না করায় ওই এলাকার  লঞ্চঘাট,স্টিমারঘাটসহ বাজার ও বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে এ ভাঙন আরও তীব্র আকার ধারণ করায় স্থানীয়দের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ভূক্তভোগী এলাকাবাসী জানান, কয়েকদফা ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে বড়মাছুয়া লঞ্চঘাট ও স্টিমার ঘাট বাজার এলাকার দোকানপাট ও বসতি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছড়া গত দেড়যুগ ধরে অব্যাহত এ ভাঙ্গনে বড়মাছুয়া লঞ্চঘাট ও স্টিমার ঘাট দুইশতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ এলাকার বসতবাড়ি নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে।

সরেজমিনে বড়মাছুয়া ভাঙ্গন কবলিত বেড়িবাঁধ ঘুরে দেখা গেছে, বড়মাছুয়া লঞ্চঘাট বেড়িবাধেঁর অর্ধেক অংশ বিলীন হয়ে গেছে। এতে মোহনা লাগোয়া লঞ্চঘাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও রাস্তার ওপর বিদ্যুতের খুঁটি হুমকির মুখে রয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুম শুরুতেই বড়মাছুয়া লঞ্চঘাট থেকে কাটাখাল পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমটিার এলাকায় বর্তমানে ভাঙ্গনের তীব্রতা বাড়ছে।

বেড়িবাঁধের ভাঙন প্রসঙ্গে স্থানীয় সমাজসেবক ও বড়মাছুয়া যুবলীগ নেতা মো. মাইনুল ইসলাম জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের জলোচ্ছ্বাসের পর ভাঙ্গনের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে বড়মাছুয়া মোহনার বেড়িবাঁধটি হুমকির মুখে পড়ায় এখানকার গ্রামের মানুষজন চরম আতঙ্কে রয়েছে।

তিনি বলেন, আম্পানে স্টিমারঘাট সংলগ্ন বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ও পল্টন বিচ্ছিন্ন থাকায় সিঁড়ি দিয়ে পল্টনে উঠতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। অনেক সময় সিঁড়ি দিয়ে পড়ে অনেক যাত্রীদের দুর্ঘটনায় শিকার হচ্ছেন। আবার অনেক যাত্রী ট্রলারযোগে স্টিমারে উঠতে গিয়ে দুর্ভোগ পড়ছেন।

স্থানীয়রা জানান, আম্পানের পর পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব:) জাহিদ ফারুক এলাকা পরিদর্শনে এসে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের জন্য প্রাথমিক ভাবে পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়ার আশ্বাস দেন। তবে এ উন্নয়ন কাজ দ্রুত শুরু না করায় বড়মাছুয়ার লঞ্চঘাট ও স্টিমার ঘাট সম্পূর্ণ বিলীনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পিরোজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, মঠবাড়িয়ার বলেশ্বর নদের ভাঙন কবলিত ৫টি পয়েন্টের অন্তত ৮ দশমিক ২ কিলোমিটার এলাকায় কার্যকর বাঁধ ও ব্লক নির্মাণের একটি সার্ভে প্রতিবেদন কাজ চলমান। এতে ৭২৪ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প প্রস্তবনা পাঠানো হবে। তবে বড়মাছুয়া লঞ্চঘাট হতে স্টিমারঘাট পর্যন্ত সাময়িক মেরামতের একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে যা অনুমোদনের অপেক্ষায়।

বড়মাছুয়া লঞ্চঘাটের মৎস্য আড়তদার ফারুক তালুকদার জানান, টানা ২৫ বছর ধরে বড়মাছুয়া বেড়িবাঁধ এলাকায় ভাঙ্গন চললেও আজ অবধি ভাঙ্গন রোধে কার্যকার কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বড়মাছুয়া ইউপির সদস্য ছলেমান জানান, ইতিমধ্যে মোহনার ৩০/৪০ টি বসত ঘর, বাজারের বহু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও একটি পাকা মসজিদসহ যাত্রী ছাউনি বিলীন হয়ে গেছে। দীর্ঘদিনেও ভাঙ্গনরোধে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় এর তীব্রতা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।

এ বিষয় বড়মাছুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. নাছির হোসেন হাওলাদার জানান, বিপন্ন লঞ্চঘাট ও স্টিমারঘাট ভাঙন রোধের দাবিতে এলাবাসী মানববন্ধন করে কোনও ফল পাচ্ছেন না। বড়মাছুয়া বেড়িবাঁধের অন্তত দুই কিলোমিটার এলাকায় নদীতীরে ব্লক নির্মাণ জরুরি।

এ বিষয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বালী বলেন, বলেশ্বরের ভাঙনরোধে অন্তত ৮দশমিক ২ কিলোমিটার অংশে বাঁধ ও ব্লক নির্মাণের বিষয়ে একটি সার্ভে প্রতিবেদন প্রস্তুতির কাজ চলছে। প্রকল্প অনুমোদন পরবর্তী নির্মাণ কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।