সাগরে ধরা পড়ল বিরল টিয়া মাছ

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২০   

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা-সংলগ্ন গভীর বঙ্গোপসাগরে ধরা পড়ল বিরল প্রজাতির টিয়া মাছ। গত ২৬ আগস্ট সকালে মনির মাঝি নামে এক জেলের জালে এ মাছটি ধরা পড়ে এবং পর দিন ২৭ আগস্ট বিকেলে কুয়াকাটার মহিপুর মৎস্যবন্দরের মৎস্য আড়তে এ মাছটি আনা হয়। বিরল প্রজাতির এ টিয়া মাছটি দেখার জন্য মৎস্যবন্দরের টিমন আড়তে ভিড় করেন স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী ও জেলেরা। পরে মাছটি বিশিষ্ট মৎস্য ব্যবসায়ী ও কলাপাড়া পৌর শহর ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি দিদার উদ্দিন আহমেদ মাসুমকে উপহার দেন ওই জেলে।

জেলেরা জানান, এটির নাম 'টিয়া মাছ'। এ ধরনের মাছ সমুদ্রে খুব একটা দেখা যায় না। মাছের মুখের দিকটা গোলাকৃতির। দেখতে টিয়া পাখির মতো। এর ওজন মাত্র দুই কেজি এবং আঁশ খুব মোটা।

মনির মাঝি বলেন, ইলিশ মাছ ধরতে গভীর সমুদ্রে জাল ফেলি। জাল তুললে ইলিশ মাছের সঙ্গে এ মাছটিও উঠে আসে। পরে মহিপুর মৎস্যবন্দরের টিমন মৎস্য আড়তে নিয়ে গেলে আড়তের মালিক মাছটি দেখে কিনতে চান। কিন্তু বিক্রি না করে উপহার হিসেবে মাছটি তাকে দিয়েছি।


টিমন মৎস্য আড়তের মালিক দিদার উদ্দিন আহমেদ মাসুম মজা করে বলেন, মাছটি উপহার পেলেও একা খেতে পারিনি। তিনজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু মাছের খবর জেনে যাওয়ায় তাদেরও রান্না করে পাঠাতে হয়েছে। মাছটি খেতে খুবই সুস্বাদু ছিল।

বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক কামরুল ইসলাম জানান, বিরল প্রজাতির এ মাছ ভারত মহাসাগরে বেশি মেলে। সাগরে পাথরের আবরণ থেকে শ্যাওলা খেতে অভ্যস্ত এ প্রজাতির মাছ। শ্যাওলার সঙ্গে থাকা ক্যালসিয়াম খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করায় এর আঁশ খুব মজবুত ও পুরু হয়। এ মাছ সাধারণত ১২ থেকে ২০ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের হয়ে থাকে। তবে ১ মিটারেরও বেশি দৈর্ঘ্যের টিয়া মাছও পাওয়া যায়। এদের দেহে নীল ডোরা কাটা দাগ ও লেজের মাঝখানে উজ্জ্বল সোনালি-হলুদ রঙ দেখা যায়।