মিন্নিকে নির্দোষ প্রমাণে আট যুক্তি আইনজীবীদের

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২০   

বরগুনা প্রতিনিধি

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি নিহতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে নির্দোষ প্রমাণ করতে আদালতে আটটি যুক্তি তুলে ধরেছেন তার আইনজীবীরা।

রোববার বিকেলে আদালত মুলতবি ঘোষণার পর মিন্নির আইনজীবী ফারুক আহমেদ সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির মধ্যে ৯ জনের পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে পূর্ব নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী রোববার সকালে বরগুনার আদালতে মিন্নির পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন তার আইনজীবীরা। মিন্নিকে নির্দোষ প্রমাণে যুক্তি তুলে ধরতে ঢাকা থেকে বরগুনা আসেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফারুক আহমেদ। যুক্তি উপস্থাপন করেন বরগুনার আদালতে মিন্নির মনোনীত আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলামও। এ সময় মিন্নি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন শেষে  আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করে আদালত মুলতবি ঘোষণা করেন বিচারক।

পরে আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবী ফারুক আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, হামলার পর গুরুতর আহত রিফাত শরীফ একা একা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে এটা উল্লেখ করা হলেও বাস্তবে মিন্নি নিজেই রিফাতকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। রিফাতের ওপর হামলার সময় নয়ন বন্ডকে জাপটে ধরে মিন্নি  আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন রিফাতকে বাঁচানোর জন্য। এ মামলার ১৩ জন সাক্ষী প্রত্যেকেই বলেছেন, মিন্নি রিফাতকে বাঁচানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন এবং এ জন্যই তিনি নয়ন বন্ডকে জাপটে ধরেছেন।

আইনজীবী ফারুক আহমেদ বলেন, রিফাতের ওপর হামলার ঘটনাস্থলের যে ভিডিও ফুটেজ দেওয়া হয়েছে, সে ফুটেজটি ১১ টুকরো। টুকরো টুকরো ভিডিও ফুটেজ দেওয়ার কারণে রিফাতকে বাঁচানোর জন্য মিন্নি যে আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন সেই ফুটেজ বাদ পড়েছে। এ ছাডাও তদন্ত প্রতিবেদনে হত্যাকাণ্ডের আগের দিন মিন্নির উপস্থিতিতে বরগুনা সরকারি কলেজ মাঠে পরিকল্পনার জন্য যে মিটিংয়ের কথা বলা হয়েছে, সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত থাকার পরও ওই মিটিংয়ের কোনো ফুটেজ দেওয়া হয়নি।

মিন্নির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুলিশ মিন্নির ওপর নির্যাতন চালিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নিয়েছে। তিনি বলেন, মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে নয়ন বন্ডের বাসা থেকে মিন্নির ব্যবহূত কিছু জিনিসপত্র উদ্ধারের কথা বলা হলো। এগুলোতে ফরেনসিক রিপোর্টের কোনো প্রতিবেদন নেই। মামলার পর মিন্নির বাবার বাসা থেকে রিফাতের রক্তমাখা মিন্নির জামাকাপড় উদ্ধার করা হলেও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম বলেন, আমরা প্রত্যাশা করছি- এ মামলায় মিন্নি নির্দোষ প্রমাণ হবেন।