নারায়ণগঞ্জ ট্র্যাজেডি: রাঙ্গাবালীতে ছেলের পাশেই চিরনিদ্রায় বাবা জুলহাস

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২০   

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহত স্বজনদের আহাজারি- সমকাল

মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহত স্বজনদের আহাজারি- সমকাল

নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণে অগ্নিদগ্ধ হয়ে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর শিশুসন্তান জুবায়ের (৭) মারা যাওয়ার পর একই পরিণতি বরণ করেন বাবা সোলায়েমান জুলহাসও (৩০)। সোমবার ছেলের কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন তিনি। সকাল ৯টায় উপজেলা সদরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়। 

রোববার সকালে শিশু জুবায়েরের লাশ দাফনের সময় খবর আসে, মারা গেছেন বাবা জুলহাসও। এদিকে জুলহাসের পরিবারে আর্তনাদ থামছেই না। স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে রাঙ্গাবালী উপজেলার বাহেরচর গ্রাম। ওই বাড়িতে যারাই যাচ্ছেন সান্ত্বনা দিতে তারাও কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। শোকার্ত এ পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে ওই বাড়িতে ছুটে গিয়েছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাশফাকুর রহমান। স্বজনদের আহাজারিতে তিনিও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এ সময় তিনি ওই পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।

স্থানীয়রা জানান, ছোটবেলায় জুলহাসের বাবা বাচ্চু ফরাজী মারা যান। তখন জুলহাসের বয়স ১০ থেকে ১২ বছর। অভাব-অনটনের সংসারের হাল জুলহাসকেই ধরতে হয়। বিয়ে করার পর সেই সংকট আরও বেড়ে যায়। তাই ১০ বছর আগে স্ত্রীসহ নারায়ণগঞ্জে পাড়ি জমান। সেখানে পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন জুলহাস। ঘটনার দিন শুক্রবার পিতা-পুত্র একসঙ্গে এশার নামাজ পড়তে যান তল্লার ওই মসজিদে। বিস্ম্ফোরণে আগুন লাগার পর দগ্ধ ৩৭ জনের সঙ্গে তাদের দু'জনকেও ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে যাওয়া হয়। রাত ১টায় মারা যায় শিশু জুবায়ের। রোববার সকাল ৮টায় রাঙ্গাবালীর গ্রামের বাড়িতে ছেলের লাশ দাফনের প্রস্তুতিকালে বাবা জুলহাসেরও মৃত্যুর খবর আসে।

'আমার স্বামী নিয়মিত নামাজ পড়ত। প্রায়ই ছেলেকে নিয়ে নামাজে যেত সে। কিন্তু ওইদিন ছেলে নামাজে যেতে চায়নি। সে টিভি দেখছিল। তবুও ছেলেকে ওর বাবার সঙ্গে নামাজে পাঠাই।' এসব বলে বিলাপ করছেন স্বামী-সন্তানহারা রাহিমা বেগম। আর থেমে থেমে মূর্ছা যাচ্ছেন।

ইউএনও মাশফাকুর রহমান বলেন, নিহত দু'জনের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। ওই ঘটনায় রাঙ্গাবালীর আরও দু'জন মারা গেছেন। তাদের পরিবারকেও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এ ছাড়া জেলা প্রশাসক প্রত্যেক পরিবারকে এক একর করে জমি দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন।