নারায়ণগঞ্জ ট্রাজেডি: বাকেরগঞ্জের মনিরের বাড়িতে শোকের মাতম

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২০     আপডেট: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২০   

বরিশাল ব্যুরো

মনির ফরাজি

মনির ফরাজি

নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম তল্লা এলাকার বায়তুল সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গুরুতর দগ্ধদের মধ্যে ছিলেন বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার মনির ফরাজিও (৩৩)। ঢাকায় শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে রোববার গভীর রাতে তার মৃত্যু হয়। 

এরপর থেকে বাকেরগঞ্জ উপজেলার গারুরিয়া ইউনিয়নের বারঘড়িয়া গ্রামের ফরাজি বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। সোমবার সকালে মনিরের লাশ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। বৃদ্ধ পিতা, স্ত্রী ও ভাইদের গগণবিদারী কান্নায় গোটা গ্রামে শোকের আবহ সৃষ্টি হয়। 

মনিরের স্ত্রী ফাতেমা বেগম বর পাওয়ার পর থেকে বাকরুদ্ধ। বৃদ্ধ বাবা সোবাহান ফরাজি বারবর মুর্ছা যাচ্ছেন। অন্যদের কান্না দেখে তার ৫ বছরের একমাত্র শিশুপুত্রের চোখেও পানি। ৫ ভাইয়ের আহাজারিতে বাড়ির পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। 

পশ্চিম তল্লা এলাকার ওই মসজিদের দোতালার ম্যাচেই থাকতেন মনির ফরাজি। নারায়ণগঞ্জে টাইলস মিস্ত্রির কাজ করতেন তিনি। তার স্ত্রী ফাতেমা ও একমাত্র শিশুপুত্র রণি থাকে গ্রামের বাড়িতে। ৬ ভাইয়ের মধ্যে মনির চতুর্থ। 

মনির ফরাজির চাচাত ভাই সাব্বির ফরাজি জানান, সোমবার জোহরের নামাজের পর জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে মনিরের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। স্বামীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর মনিরের স্ত্রী ফাতেমা এখনও বাকরূদ্ধ। পুত্রশোকে বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন বাবা সোবাহান ফরাজি। মনিরের এমন অকাল মৃত্যুতে বারঘড়িয়া গ্রামবাসীও শোকস্তব্ধ।

শুক্রবার রাতে নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তল্লার বায়তুস সালাত মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ২৭ জন নিহত হয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে তিতাস গ্যাসের পাইপের লিকেজ থেকে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। গ্যাস পাইপের লিকেজের বিষয়ে তিতাসকে অবহিত করলেও তারা ঘুষ দাবি করেন। সেই ঘুষ না দেওয়ায় লাইনটি মেরামত করা হয়নি বলে মসজিদ কমিটি অভিযোগ করেছে।