টানা বর্ষণে জলাবদ্ধতায় নাকাল বরিশাল নগরবাসী

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০   

বরিশাল ব্যুরো

টানা জলাবদ্ধতায় এভাবেই ডুবে থাকে নগরীর অধিকাংশ সড়ক- সমকাল

টানা জলাবদ্ধতায় এভাবেই ডুবে থাকে নগরীর অধিকাংশ সড়ক- সমকাল

টানা চার দিন ধরে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলে। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির পাশাপাশি মাঝারি ও ভারি বর্ষণও হচ্ছে মাঝেমধ্যে। আর এতেই আরেক দফা জলাবদ্ধতায় নাকাল বরিশাল নগরীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা। গত মাসে দুই দফায় নদীতে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে ডুবেছিল নগরবাসী।

নগরীর ভেতর দিয়ে প্রবহমান খালগুলো প্রায় ভরাট এবং যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ড্রেন দিয়ে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন নগরবাসী।

বরিশাল আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক মাসুদুর রহমানের দেওয়া তথ্যমতে, গত রোববার বিকেল ৩টা থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার ৩টা পর্যন্ত ২৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বরিশাল নগরীতে। এ সময়ের মধ্যে কয়েকবার ভারি বর্ষণও হয়। গতকাল চতুর্থ দিনের মতো বরিশালে সূর্যের কিরণ দেখা যায়নি।

সচেতন নগরবাসীর মতে, যেহেতু একটানা ভারি বর্ষণ হয়নি, তাই নগরীতে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা হওয়ার কথা নয়। তার পরও নগরীর কয়েকটি এলাকায় চার দিনেরও বেশি টানা জলাবদ্ধতা চলছে।

নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর একটি বটতলা চৌরাস্তা থেকে সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজে চৌরাস্তা পর্যন্ত টুওয়ে সড়ক। গতকাল দুপুরে সেখানে গিয়ে দেখা গেছে, সড়কটির দক্ষিণ পাশ পুরোটাই পানির নিচে। ওই এলাকার বাসিন্দা সংবাদকর্মী সাইফ আমিন জানান, চার দিন ধরে সড়কটির এ অবস্থা। সড়ক সংলগ্ন ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় সব অলিগলি ও বাসাবাড়িতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।\হ১৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর লিয়াকত হোসেন খান বলেন, 'আমি নিজেও জলাবদ্ধতার শিকার। আমার বসতবাড়ির চারদিকে পানি।' তিনি বলেন, এ এলাকার পানি নেমে যাওয়ার একমাত্র উৎস চৌমাথা খালটি ভরাট হয়ে গেছে। ড্রেন নির্মিত হয়েছে অপরিকল্পিভাবে। তা ছাড়া বরিশাল সিটির কাউন্সিলরদের কার্যকর কোনো ক্ষমতা নেই। তারা সবাই অসহায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের জিয়ানগরের সড়ক ও সংলগ্ন বসতবাড়িগুলো চার দিন ধরে পানিতে ডুবে আছে। পলাশপুর, ভাটিখানা ও আমানতগঞ্জ এলাকারও একই অবস্থা।

বরিশাল নদী-খাল বাঁচাও আন্দোলন কমিটির সদস্য সচিব কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু বলেন, নগরীর ভেতর দিয়ে প্রবাহিত খালগুলো দখল ও ভরাটে বিলুপ্ত হওয়ায় অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। সিটি করপোরেশন সম্প্রতি কিছু খালের ময়লা অপসারণ শুরু করেছে। তবে এতে অর্থের অপচয় ছাড়া কাজের কাজ কিছুই হবে না বলে দাবি করেন তিনি।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. রবিউল ইসলাম বলেন, নগরীর সব বড় ড্রেনের সংযোগ খালগুলোর সঙ্গে। ড্রেনের মুখ ময়লায় আটকে যাওয়ায় নগরীর কিছু এলাকায় বৃষ্টির পানি নামছে না। পানি নিস্কাশনের জন্য ড্রেনের সংযোগ মুখ ও খালগুলো পরিস্কার করার কার্যক্রম চলছে।