একুশে পদকজয়ী চলচ্চিত্র নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলাম আর নেই।


 


রোববার সকালে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর।


 


গত মাসের শুরু থেকে তিনি ল্যাবএইড হাসপাতালে অধ্যাপক সৈয়দ আকরাম হোসেনের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন।


 


সর্বশেষ শনিবার সকাল থেকে তাকে 'লাইফ সাপোর্টে' রাখা হয়েছিল।


 


বাংলাদেশের প্রথম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রের নির্মার্তা চাষী নজরুল ইসলামের জন্ম ১৯৪১ সালের ২৩ অক্টোবর শ্রীনগর থানার সমষপুর গ্রামে। তার বাবার নাম মোসলেহ উদ্দিন খান ও মা শায়েস্তা খানম। চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনিই ছিলেন সবার বড়।


 


জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাসের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুদ্দিন দিদার জানিয়েছেন, রোববার সকাল ৯টার দিকে তার মরদেহ কমলাপুরে জসীমউদ্দিন সড়কে নিজের বাসায় নেওয়া হয়েছে। সর্ব সাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য বেলা ১টা পর্যন্ত বাসায় তার মরদেহ রাখা হবে। এরপর ল্যাবএইডের হিমঘরে রাখা হবে মরদেহ।


 


তিনি জানান, সোমবার সকালে এফডিসি ও জাতীয় প্রেসক্লাবে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে তার জানাজা হবে। এরপর বিক্রমপুরে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন হবে।


 


১৯৬১ সালে ফতেহ লোহানীর 'আছিয়া' ছবিতে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করার মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু হয় চাষী নজরুলের। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে তিনি নির্মাণ করেন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র 'ওরা ১১ জন', যা ব্যাপক প্রশংসিত হয়।


 


'শুভদা' চলচ্চিত্রের জন্য ১৯৮৬ সালে এবং 'হাঙর নদী গ্রেনেড' চলচ্চিত্রের ১৯৯৭ সালে তিনি শ্রেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। আর ২০০৪ সালে পান একুশে পদক।


 


চাষী নজরুল ইসলাম নির্মিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ছবি হচ্ছে- 'সংগ্রাম', 'মেঘের পরে মেঘ', 'শহীদ ক্যাপ্টেন সালাউদ্দীন', 'দেবদাস', 'হাছন রাজা', 'পদ্মা মেঘনা যমুনা', 'শাস্তি' ও 'সুভা'।

মন্তব্য করুন