আবেদ চৌধুরী। জিন, জলবায়ু ও পরিবেশ বিজ্ঞানী। সাধারণের কাছে ধান গবেষক হিসেবেই সমধিক পরিচিত। সম্প্রতি এই গবেষকের উদ্ভাবিত 'পঞ্চবৃহী' ধান নতুন করে আলোচনায় এসেছে। যে ধান একবার রোপণে পাঁচবার শস্য ফলায়। সম্প্রতি বাংলাদেশের কৃষি ও কৃষি ব্যবস্থাপনার নানা দিক নিয়ে কথা হয় এই বিজ্ঞানীর সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সিরাজুল ইসলাম আবেদ

বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশ। আপনার দৃষ্টিতে এই ৫০ বছরে বাংলাদেশের কৃষিক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অর্জন কী কী?
আবেদ চৌধুরী :
সবাইকে সুবর্ণজয়ন্তীর শুভেচ্ছা। আমার কাছে কৃষিক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অর্জন বলে মনে হয়, উৎপাদনে অনেক এগিয়ে যাওয়াটাকে। আর এর কারিগর আমাদের দেশের কৃষক। অবদান রেখেছে কৃষি গবেষণার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। এটা মূলত হয়েছে বর্তমান সরকারের ক্ষমতায় আসার পর। নিঃসন্দেহে ভালো নীতিমালা এতে অবদান রেখেছে। অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি হয়েছে বেগম মতিয়া চৌধুরীর দায়িত্বকালে। তিনি কৃষির জন্য বেশকিছু ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এ জন্য আমি মতিয়া চৌধুরীকে অভিবাদন জানাতে চাই। বেশ কয়েকটি ওয়ার্ল্ড ফুড প্রাইজ ওনার প্রাপ্য বলে আমি মনে করি। বর্তমান কৃষিমন্ত্রী এ ক্ষেত্রে একজন উচ্চতম ডিগ্রিধারী ব্যক্তি; তিনি এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছেন। তাকেও সাধুবাদ জানাই। সর্বোপরি প্রধানমন্ত্রীর বিচক্ষণতা নিশ্চয়ই আমাদের সবার প্রশংসার দাবিদার।
কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বিগত ৫০ বছরে চালের উৎপাদন বেড়েছে চারগুণেরও বেশি। চাল উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। একজন গবেষক হিসেবে বিষয়টিকে কীভাবে দেখেন?
আবেদ চৌধুরী :
এটা অবশ্যই একটা বড় অর্জন। ইন্দোনেশিয়াকে ছাপিয়ে তৃতীয় স্থানে চলে আসা, এটা বিশাল ব্যাপার। এই অর্জনকে আমাদের টেকসই ও স্থায়ী করতে হবে।

আমাদের অর্থনীতিতে কৃষি বড় ভূমিকা রাখছে। একে আরও এগিয়ে নিতে আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জগুলো কী, চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করণীয়ই বা কী?
আবেদ চৌধুরী :
আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ অনেক। কৃষিজমি কমে যাচ্ছে, কৃষকরা উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম না পেয়ে কৃষিবিমুখ হয়ে যাচ্ছেন। 'ক্ষ্যাত' বা অ্যাগ্রিকালচার একটা অবমূল্যায়নসুলভ গালি। একমাত্র বাংলাদেশেই আনসফিস্টিকেটেড অর্থে এই শব্দ ব্যবহূত হয়। কৃষকের ছেলেমেয়েরা যখন ঢাকায় পড়তে আসে তখন তাদের শহুরে সহপাঠীরা, যাদের জীবন অন্নদাতা কৃষকদের ওপর নির্ভরশীল, তারা কৃষির মানুষকে এভাবে অভিহিত করে থাকেন। এসব কথা তো অপরাধ হিসেবে গণ্য করা উচিত। কৃষকের সামাজিক অবমূল্যায়ন কৃষির জন্য একটা বিরাট অশনীসংকেত বহন করে। অবিলম্বে কৃষককে তার ন্যায্য পাওনা দিতে হবে। কৃষিকাজ করে যেন তারা মধ্যবিত্ত জীবন-যাপন করতে পারেন ভর্তুকি দিয়ে হলেও তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষকরা যদি হতাশ হয়ে কৃষিকাজ বন্ধ করে দেন তখন বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষ নেমে আসবে।
জলবায়ু পরিবর্তন আমাদের কৃষির ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলছে এবং ভবিষ্যতে আরও ফেলবে বলে মনে করেন? আমাদের করণীয়ই বা কী?
আবেদ চৌধুরী :
জলবায়ু পরিবর্তন আমাদের কৃষির ওপর বিরাট হুমকি। জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়া কিংবা লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়া জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হতে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আমরা তৈরি নই। কৃষিবিজ্ঞানীদের মধ্যে এটা নিয়ে তেমন কোনো আলোচনা চোখে পড়ে না। কৃষি যে কার্বন ডাই-অক্সাইড কিংবা মিথেনে নির্গমন করছে এটা নিয়ে কোনো আলোচনা চোখে পড়ে না। শিক্ষা ব্যবস্থায় এটির ওপর কোনো জোর দেওয়া হচ্ছে বলে মনে হয় না। আমি বাংলাদেশে তো কাউকে দেখি না যে এই ব্যাপারটা নিয়ে ভাবেন কিংবা নিয়মিত আলোচনা করেন।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমাদের কৃষি ও কৃষিশিক্ষাকে ঢেলে সাজাতে হবে। একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, সয়েল কার্বন সেক্যুয়েস্ট্রেশন। গ্রিনহাউজ গ্যাসগুলোকে ভূমিতে ফিরিয়ে এনে স্টোর করা সম্ভব। আমার অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠান LoamBio তাই করছে। আমাদের আট মিলিয়ন হেক্টর জমিতে এই সংরক্ষণ সম্ভব এবং এ জন্য আমরা জলবায়ু তহবিলসহ অন্যান্য সহায়ক তহবিল থেকে অনেক অর্থ পেতে পারি। এই টেকনোলজি আমার ও আমার প্রতিষ্ঠানের আয়ত্তে। সম্প্রতি গুগলের প্রতিষ্ঠাতা জন সার্গেই ব্রিন আমাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন।
বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন গ্রুপের ভালনারেবল গ্রুপের প্রধান। এই মিটিগেশন উদ্যোগে আমি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই; যাতে বাংলাদেশের কৃষিকে সংগঠিত করতে ক্লাইমেট মিটিগেশন ও সয়েল কার্বন সেক্যুয়েস্ট্রেশন এই ভূমিকা রাখতে পারে।
আরেকটা উল্লেখযোগ্য দিক হলো- প্রিসিশন অ্যাগ্রিকালচারের দিকে যাওয়া। এই কাজের জন্য আমাদের কৃষকদের সংগঠিত করে বড় মাপের কৃষি খামার গড়ে তুলতে হবে এবং স্যাটেলাইট ও ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে প্রিসিশন অ্যাগ্রিকালচার গড়ে তুলতে হবে।
প্যারেনেল অ্যাগ্রিকালচার পুনর্জীবনী কৃষির একটি অনুষঙ্গ। এ কথা মনে রেখে আমি 'পঞ্চবৃহী' ধান তৈরি করেছি। পঞ্চবৃহী ধান, যা একবার রোপণ করে পাঁচবার শস্য ঘরে তোলা যায়। আগামী দিনগুলোতে এ ধান ক্লাইমেট মিটিগেশনে বড় ভূমিকা রাখবে।

উচ্চতর কৃষিশিক্ষা বা কৃষি গবেষণায় কোন বিষয়গুলোয় গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে মনে করেন?
আবেদ চৌধুরী :
কৃষি গবেষণায় অবশ্যই কৃষকের উদ্ভাবনী শক্তিকে সামনে আনতে হবে। পরিবারগতভাবে আমি একজন কৃষক। গত ৩০ বছর ধরে বাংলাদেশে কৃষিকাজ করাই; যদিও বিদেশে থাকি। এই কৃষিকাজ আমার জন্য ক্রিয়েটিভিটির আরেকটা জায়গা, শান্তি ও আশ্রয়ের জায়গা। আমাদের দেশে কৃষি-সংক্রান্ত উদ্ভাবনের কোনো স্বীকৃতি নেই, কদর নেই। বরং, আমি কৃষি গবেষণা করি দেখে দেশের কৃষিবিদগণ নারাজ। কৃষির স্নাতকেরা যারা বিদেশে থাকেন তারাও নারাজ। একজন শুধু কৃষক হওয়ার কারণেই কৃষিকে ভালোবাসবে, এটা অনেকে মানতে পারেন না। ভারত তাদের কৃষকদের উদ্ভাবনকেই স্বীকৃতি দিচ্ছে। নতুন জাতের রেজিস্ট্রেশনের পথ সুগম করে দিচ্ছে। আমাদের দেশে দেখা যায় কৃষিবিজ্ঞানীরা 'ফাতেমা' ধানের বিরুদ্ধে সরব। হরিধানের ভ্যারাইটি স্বীকৃতি পায়নি। আমি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একজন বিজ্ঞানী। আমার ৭০-এর ওপর গবেষণা নিবন্ধ প্রভাবশালী বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু আমার গ্রামভিত্তিক গবেষণার বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য আমাদের দেশের অনেক কৃষিবিজ্ঞানী মরিয়া। এটা কৃষিনির্ভর পরিবার এবং কৃষকের অনুসন্ধিৎসার ওপর অবমূল্যায়নের ইঙ্গিত বহন করে। আমি কৃষি গবেষণার দুয়ার সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার পক্ষে এবং এই কাজে অর্থায়নের দাবি জানাই। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে, যারা সাধারণ মানুষের কৃষি গবেষণার বিরুদ্ধে কথা বলছেন আমি তা বন্ধ করার দাবি জানাই। আমি চাই প্রতিটি গ্রাম যেন কৃষি গবেষণার পীঠস্থান হয়ে দাঁড়ায়। চীনে বহুবার গিয়ে আমি এমনটাই দেখেছি।
ভূমির আয়তনের দিক থেকে দেখতে গেলে কৃষকরাই তো দেশের মালিক। কৃষির উন্নয়ন তাদের কারণেই হচ্ছে। এই বাস্তবতার স্বীকৃতি দিতে কৃষকবান্ধব কৃষি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন আমাদের সময়ের দাবি।
কৃষি কিন্তু শুধু ধান, পাট বা উদ্ভিদ নয়। আমাদের গবাদি পশু, মাছ ও সমুদ্র-কৃষির দিকে নজর দিতে হবে। সি উইড অ্যাসপারাগপসিস পশুকে খাওয়ালে তাদের মিথেন নির্গমন চরমভাবে কমে যায়। ব্লু অ্যাগ্রিকালচারের মধ্যমে আমরা সমুদ্রকে আমাদের কৃষি উৎপাদনের আওতায় আনতে পারি। ভেসে ওঠা জমিতে কৃষিকাজ করতে পারি।

কৃষি ব্যবস্থাপনায় আমাদের দুর্বলতা ও সফলতার দিকগুলো যদি বলতেন?
আবেদ চৌধুরী :
কৃষির শক্তি হলেন কৃষক। কৃষকের কৃষির প্রতি ভালোবাসা এর চালিকাশক্তি। কৃষক যখন শস্য কাটেন আর সেই শস্যের দাম হয় উৎপাদনে খরচেরও কম তখন তার চেয়ে বিভীষিকা আর হতে পারে না। তবু পারিবারিক ভর্তুকির কারণে কৃষকরা এই কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছেন। স্বপ্নটা ছাড়ছেন না। বিদেশে কর্মরত আত্মীয়দের সাহায্য নিচ্ছেন। নিজেদের শ্রমের কোনো মূল্য গুনছেন না। আমি এই খবর খুব ভালো জানি। আমরা যারা কৃষিনির্ভর পরিবারের মানুষ আমাদের কাছে ধান ফলিয়ে যাওয়া ধর্ম পালনের মতো, ফরজ কাজ। এই প্রবল ভালোবাসাই কৃষির চালিকাশক্তি। এখানে অর্থনীতি খাটছে না; এখানে ঐতিহ্যের প্রতি ভালোবাসা, জমির প্রতি দায়বদ্ধতা একটা স্প্রিচুয়াল শক্তি। পরিতাপের বিষয়, সমাজ এই চিন্তাধারাকে সম্মান করছে না।
অনেক ক্ষেত্রেই কৃষি বিভাগের ছাত্রদের হাতে আমরা আধুনিক, আন্তর্জাতিক ও উন্নত বই তুলে দিতে ব্যর্থ হচ্ছি। সেই ৩০ বছর আগে সিংয়ের ব্রিডিংয়ের যে বই ছিল, তা এখনও চলছে। আমি লক্ষ্য করেছি, শস্যের প্রজননতত্ত্ব পড়াতে গিয়ে শিক্ষকরা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম বিজ্ঞানী শল বা ডবঝনস্কির কথা না বলেই তারা হেটরসিস পড়াচ্ছেন। এই কম বলা বা দায়সারা গোছের শিক্ষাদানের ছায়া ছাত্রদের ওপর পড়ছে। এটা আমাদের কৃষিশিক্ষার একটা সীমাবদ্ধতা। আমাদের এ থেকে উত্তরণে পথ খুঁজতে হবে।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) পরিসংখ্যান বলছে, দেশে প্রতি বছর ৬৭ লাখ টন চাল নষ্ট হয়। এ ক্ষতি সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা গেলে বছরে ৫০ লাখ টন বাড়তি চাল পাওয়া সম্ভব। কৃষির অন্যান্য ক্ষেত্রেও বিষয়টি লক্ষ্য করা যায়।
আবেদ চৌধুরী :
আলু বাঁচিয়ে রাখার জন্য আমাদের দেশে হিমাগার আছে। কিন্তু চাল দীর্ঘদিন ভালো রাখার কোনো উদ্যোগ নেই। আমাদের লোকজ জ্ঞানগুলোকেও দিন দিন হারিয়ে ফেলছি। চাল এবং ধান অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। ধানকে সামলে রাখা, ইঁদুরের উৎপাত থেকে বাঁচিয়ে রাখা এসব জ্ঞান কমে গেছে। আমার মা এসব জ্ঞানে পারদর্শী ছিলেন। ধানকে খড়ের মোড়কে রাখা- আবহমান বাংলার এই জ্ঞান এখন প্রায় বিলুপ্ত। ধানের দাম কমে যাওয়ায় মানুষ এটাকে ভ্যালুয়েবল মনে করে না। যেখানে-সেখানে রাখে- আদরের ধনের মতো সামলে রাখে না। যা সহজে পাওয়া যায় ও সস্তা ধানের হয়ে গেছে এই নিয়তি।
কৃষকের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি বহু দিনের একটি আলোচিত বিষয়। কী কী পদক্ষেপ নিলে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে বলে আপনি মনে করেন?
আবেদ চৌধুরী :
ধানের দাম ভর্তুকির মাধ্যমে বাড়াতে হবে। এটার জন্য চরম ধনী, যাদের ব্যাংকে হাজার কোটি টাকা আছে তাদের কৃষির জন্য ট্যাক্স প্রদান করতে হবে। ধান উৎপাদনকে অর্থনৈতিক বাজারের নিয়মে চালালে আমাদের খাদ্য-অনিরাপত্তা অনিবার্য। রাইস মিলের মালিকরা এখন ধান ব্যবসার মালিক। দেশের সবচেয়ে ধনী শিল্পপতিরা এখন বীজ ব্যবসা করছেন। তাদের ইনকাম থেকে নিরন্ন হতদরিদ্র কৃষককে ভর্তুকি দিতে হবে। নতুবা, আমরা খুব খারাপ পরিণতির দিকে এগিয়ে যাব।
শিল্পায়ন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি প্রভৃতি কারণে প্রতিনিয়ত কৃষিজমি কমে যাচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৮০ লাখ হেক্টর কৃষিজমি থাকলেও গবেষকরা ধারণা করছেন, ২০২৫ সালের মধ্যে এটি ৬৯ লাখ হেক্টরে নেমে আসবে। আমাদের মতো জনবহুল একটি দেশের জন্য এ সমস্যা মোকাবিলায় করণীয় কী?
আবেদ চৌধুরী :
আমি বৃহত্তর সিলেটের মাধবপুরে এটা দেখেছি। কী করে কৃষিজমি শিল্পের খপ্পরে পড়ে বর্জ্যসংকুল দুর্গন্ধময় এলাকায় পরিণত হলো! কৃষকরা অনেক চেষ্টা করেও এটা রোধ করতে পারেননি। আমার ভাগ্য ভালো, আমার পৈতৃক এলাকায় কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান এসে কৃষিজমিকে গ্রাস করছে না। এই যে উন্নয়ন, যার ফলে হারিয়ে যাচ্ছে জীববৈচিত্র্য, সে হারিয়ে যাওয়ার কোনো হিসাব কিন্তু অর্থনীতির বইয়ে নেই। জীববৈচিত্র্য হ্রাসকে মনেটাইজ করে কিন্তু জিডিপি থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে না। অনতিবিলম্বে বৃহত্তম পরিমাণ কৃষিজমিকে জাতির বেঁচে থাকার পূর্বশর্ত ঘোষণা করতে হবে। শিল্পের জন্য নিয়মমতো জমি রেখে বাকিটা অবশ্যই কৃষিকে ফিরিয়ে দিতে হবে। কৃষি থেকে জমি ফিরিয়ে নিয়ে ধান চাষকে অবমূল্যায়ন করা আমাদের জন্য মরণফাঁদ; এটা বুঝতে হবে। এই যুদ্ধে আমরা প্রতিদিন হেরে যাচ্ছি। আমরা বুঝতে পারছি না, এই অবস্থা আমার জন্য গভীর বিপদদায়ক।