খুলনা নগরীতে হাবিবুর রহমান সবুজ নামে এক যুবককে হত্যা করে লাশ ১২ খণ্ড করার ঘটনায় মামলার রায় ঘোষণা হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে এই রায় হবে। অনৈতিক সম্পর্কের ঘটনার জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল। মামলার ৫ আসামির মধ্যে সরদার আসাদুজ্জামান ওরফে আরিফ, অনুপম মহলদার, খলিলুর রহমান ও গাজী আবদুল হালিম জেলহাজতে এবং এ কে এম মোস্তফা চৌধুরী মামুন পলাতক।

আদালতের পিপি আরিফ মাহমুদ লিটন জানান, ২০১৯ সালের ৭ মার্চ সকালে নগরীর শেরেবাংলা রোড থেকে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় সবুজের মরদেহের একটি অংশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে দুপুরে ফারাজীপাড়া রোডে ড্রেনের পাশ থেকে দুটি ব্যাগে থাকা মাথা, দুই হাতসহ খণ্ড খণ্ড অংশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভগ্নিপতি গোলাম মোস্তফা বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

হত্যাকাণ্ডের আগে সবুজ ও পলাতক আসামি মামুন পৃথক মামলায় কারাগারে ছিলেন। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে সবুজ কারাগার থেকে জামিনে বের হন। এ সময় মামুন তাঁকে কারামুক্ত করতে সহযোগিতার অনুরোধ জানান এবং তাঁর স্ত্রী রিক্তার মোবাইল নম্বর দেন। কিন্তু মামুনের স্ত্রী রিক্তার সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন সবুজ। এ ছাড়া মামুনের বোনের সঙ্গেও অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন।

মামুন কারাগার থেকে বেরিয়ে বিষয়টি জানতে পেরে সবুজকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। ২০১৯ সালের ৬ মার্চ রাতে ফারাজীপাড়া এলাকায় আসাদের বাসায় সবুজকে ডেকে চেতনানাশক মেশানো মিষ্টি খাওয়ানো হয়। সবুজ অচেতন হয়ে পড়লে ৫ জন মিলে তাঁকে হত্যা করে লাশ ১২ খণ্ড করেন। সবুজের বাড়ি সাতক্ষীরা সদরের উমরা এলাকায়। তিনি সাতক্ষীরার একটি ইটভাটায় শ্রমিক সরবরাহ করতেন।