অর্থনৈতিক শক্তির অন্যতম সূচক দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশের রিজার্ভ বাড়ছিল। গত বছরের আগস্টে যা রেকর্ড ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করে। রিজার্ভ বৃদ্ধি নিয়ে উচ্ছ্বাসের মধ্যে গত বছর শ্রীলঙ্কাকে ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দেয় বাংলাদেশ। এ ছাড়া পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে রিজার্ভ থেকে অর্থ দেওয়ার চিন্তাভাবনা শুরু হয়। এর মধ্যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ায় এ পরিস্থিতি পাল্টে যায়। রিজার্ভ কমতে কমতে এখন ৩৪ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। এ অবস্থায় আইএমএফের কাছে সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ চেয়েছে সরকার।

যদিও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বিবেচনায় হিসাব করলে রিজার্ভ এখন ২৫ বিলিয়ন ডলারের ঘরে। করোনার প্রভাব শুরুর দিকে ২০২০ সালের মার্চে রিজার্ভ ছিল ৩২ বিলিয়ন ডলার। বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্যে বড় ঘাটতির কারণে ধারাবাহিকভাবে রিজার্ভে পতন হচ্ছে। অন্যদিকে ডলারের দর দ্রুত বেড়ে চাপ তৈরি হয়েছে পণ্যমূল্যে। ২০২২ সালের শুরুর দিকেও আমদানিতে ৮৬ টাকার নিচে থাকা প্রতি ডলার এখন ১০৬ টাকায় উঠেছে। ডলারের দর এক বছরে ২০ টাকা বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে পণ্যমূল্যের ওপর। যুদ্ধের প্রভাবে এমনিতেই বিশ্বব্যাপী জিনিসের দর বাড়তি।
করোনার সময় হুন্ডি চ্যানেল বন্ধের কারণে প্রবাসী আয়ের প্রায় সবই আসে ব্যাংকিং চ্যানেলে। যে কারণে করোনার ধাক্কায় বেশিরভাগ দেশের মানুষ কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে পড়লেও বাংলাদেশে রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি হয় ৩৬ শতাংশের বেশি। আবার অর্থ পাচারের চাহিদা কমায় ওভার ইনভয়েসিং ও আন্ডার ইনভয়েসিং সীমিত হয়ে পড়ে। ফলে রপ্তানিতেও প্রবৃদ্ধি হয় ১৫ শতাংশের বেশি। তবে এখন আবার অর্থ পাচার বৃদ্ধিসহ নানা কারণে রেমিট্যান্সে গতি নেই।