বছরের শুরুতে বিরোধী দলগুলোর তীব্র আপত্তির মুখে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) দায়িত্ব নেন সাবেক আইন সচিব কাজী হাবিবুল আউয়াল। গাইবান্ধার ভোট ছিল এ কমিশনের অধীনে প্রথম জাতীয় কোনো নির্বাচন। সাত মাস বয়সী ইসি ঢাকায় বসে সিসিটিভিতে নির্বাচনে অনিয়ম দেখে ভোট বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। নজিরবিহীন এ ঘটনায় দেশজুড়ে আলোড়ন
সৃষ্টি হয়।

গত এক দশকে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় অনিয়মই নিয়মে পরিণত হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে ইসির এ সিদ্ধান্তকে বিশ্নেষকরা সাধুবাদ জানালেও রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে বিরূপ মন্তব্য আসে। ভোট বন্ধের সিদ্ধান্তে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত আওয়ামী লীগ বিস্ময় প্রকাশ করে। অন্যদিকে, বিএনপি দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে এটিকে সরকারের ফাঁদ অভিহিত করে। তদন্ত কমিটি করে অনিয়মে জড়িত নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা ১৩৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করে ইসি। সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে সাংবিধানিক দায়িত্ব থেকে ইসি ভোট বাতিল করলে তা সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য বলে মত দেন বিশ্নেষকরা।

ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বি মিয়ার মৃত্যুতে শূন্য হওয়া গাইবান্ধা-৫ আসনে ভোট গ্রহণ হয় ১২ অক্টোবর। ভোট শুরুর পর থেকে বেশিরভাগ কেন্দ্রে অনিয়ম ও একতরফা প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ওঠে। ভোটকেন্দ্রে বসানো সিসিটিভির লাইভ ফুটেজে এসব অনিয়ম ধরা পড়লে মাঝপথে এসে রিটার্নিং অফিসারকে চিঠি পাঠিয়ে ভোট গ্রহণ বন্ধ করে ইসি। আগামী ৪ জানুয়ারি এ উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণ হবে।

এ উপনির্বাচন বন্ধের পর প্রশ্ন উঠেছে, একটি উপনির্বাচনে এমন অবস্থা দেখা দিলে ৩০০ আসনের সময় পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে? ইসি কীভাবে সামাল দেবে? আদৌ ৩০০ আসনের ভোট গ্রহণ সিসিটিভিতে তদারকি সম্ভব কিনা?
এ উপনির্বাচনে ভোটকেন্দ্র ছিল দেড়শর মতো। জাতীয় নির্বাচনে ৪০ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্র হবে, কয়েক লাখ ভোট কক্ষ থাকবে। এত কক্ষে সিসি ক্যামেরা বসানো এবং নজর রাখা দৃশ্যত কঠিন বলে মনে করছেন নির্বাচন বিশ্নেষকরা।