বিদায়ী বছরে ভোক্তাদের সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছে চাল, আটা, ময়দা, চিনি, ভোজ্যতেল ও ডিম। ভরা মৌসুমেও চালের দাম ছিল চড়া। এক বছরে কেজিতে গড়ে ১০ টাকা পর্যন্ত চালের দাম বেড়েছে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে কয়েক ধাপে বেড়ে দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছেছে আটার দাম। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দামের চাপ কিছুটা সামাল দিতে কম দামে দেওয়া সরকারের ওএমএস ও টিসিবির পণ্য কিনতে মানুষ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেছেন।

বছরের শেষ প্রান্তিকে ভুগিয়েছে চিনি। প্রায় দেড় মাসে তিনবার দাম বাড়ানোর পরও বাজার থেকে এক প্রকার উধাও হয়ে যায় পণ্যটি। বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এক পর্যায়ে টিসিবি স্বল্প সময়ের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ট্রাকে চিনি বিক্রির উদ্যোগ নেয়। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কেজিতে ১০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেশি দরে বিক্রি হলেও কার্যত বাজারে চিনির সরবরাহ এখনও স্বাভাবিক হয়নি। ভোজ্যতেল নিয়েও কম ভোগেননি ভোক্তারা।

সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনন্দিন পণ্যের দামের তালিকা দেখলেই এর বাস্তবতা টের পাওয়া যায়। সংস্থাটি ৫১টি পণ্যের দৈনন্দিন দাম নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। টিসিবির তথ্য বলছে, গেল এক বছরে ৪৩টি পণ্যের দাম বেড়েছে, কমেছে মাত্র ৮টি পণ্যের। এর মধ্যে দাম বাড়ার শীর্ষে রয়েছে আটা। এর দাম বেড়েছে প্রায় ৭৪ শতাংশ। এ ছাড়া ময়দার দাম ৫৬ শতাংশ, চিনির ৪৫ শতাংশ, সয়াবিন তেলের ২২ শতাংশ এবং গুঁড়া দুধের দাম বেড়েছে ৪০ শতাংশ। অন্যান্য পণ্যের দামও বেড়েছে।

আর বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে গত ১১ বছরের মধ্যে বিদায়ী বছরের কোনো কোনো মাসে মূল্যস্ম্ফীতির হার বেশি ছিল। গত আগস্টে মূল্যস্ম্ফীতি ৯ শতাংশ ছাড়ায়। খাদ্য সূচকে মূল্যস্ম্ফীতি হয় প্রায় ১০ শতাংশ। জুলাইয়ে জ্বালানি তেলের দাম গড়ে ৫০ শতাংশ বাড়ানোর পর মূল্যস্ম্ফীতি দ্রুত বেড়ে যায়।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর পরিবহন ভাড়া বেড়েছে- এমন যুক্তিতে সব সবজির দাম ছিল চড়া। দু-একটি ছাড়া সব সবজির দাম ছিল ৫০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে। যদিও বছরের শেষ সময়ে শীতের সবজি এলে দাম কিছুটা কমে।