বিদায়ী বছর ২০২২ সালে জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব পেয়েছে আওয়ামী লীগ। সাংগঠনিক তৎপরতার পাশাপাশি বিএনপির আন্দোলন মোকাবিলায় বছরজুড়ে নানা কর্মসূচি নিয়েও ব্যস্ততা ছিল দলটির। তবে বিএনপির আন্দোলন সফলতা না পাওয়ায় স্বস্তিও বিরাজ করেছে নেতাকর্মীর মধ্যে।
বছরের শেষভাগে ২৪ ডিসেম্বর রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হয় আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় সম্মেলন। কাউন্সিল অধিবেশনে দলের সভাপতি পদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টানা দশমবারের মতো নির্বাচিত হন। সাধারণ সম্পাদক পদে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত হন। কাউন্সিল ও পরে অনুষ্ঠিত দলের নতুন সভাপতিমণ্ডলীর বৈঠকে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের যে তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে, তাতেও বেশিরভাগ পুরোনোরাই বহাল রয়েছেন। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বরেণ্য ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজাকে দলের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে অধিষ্ঠিত করার বিষয়টিকে নতুন চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দু-একটি পদে থাকা বিদায়ী কমিটির নেতারা বাদ পড়েছেন, কারও কারও পদোন্নতি হয়েছে। এর বাইরে আওয়ামী লীগের কমিটিতে নতুনত্ব না থাকলেও নতুন কমিটির নেতৃত্বেই আগামী নির্বাচনসহ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাব এবং বিএনপির আন্দোলনের হুমকির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন দলটির নেতারাও। এর আগে নভেম্বরের শেষভাগ থেকে ডিসেম্বরের মধ্যভাগ পর্যন্ত দলের চার সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এবং স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সব সংগঠনের শীর্ষ পদে পরিবর্তন এনে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
এর বাইরে গোটা বছরজুড়ে সাংগঠনিক তৎপরতা নিয়েও ব্যস্ততা ছিল ক্ষমতাসীন দলটির। সারাদেশে দলের জেলা, উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ডসহ তৃণমূলের ইউনিট সম্মেলন হয়েছে। প্রায় সর্বত্রই নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। বছরজুড়ে দলীয় অন্যান্য কার্যক্রম ও বিভিন্ন নির্বাচন নিয়েও ব্যস্ত সময় কেটেছে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের। করোনাসহ একাধিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে সর্বাত্মকভাবে মানুষের পাশে ছিলেন দল ও সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতারা।
রাজপথের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপির আন্দোলন ও সরকার পতনের হুমকি মোকাবিলা নিয়েও তৎপরতা ছিল আওয়ামী লীগের। ১০টি বিভাগীয় গণসমাবেশের ধারাবাহিকতায় বিএনপির ১০ ডিসেম্বর ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ এবং কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিতে গোটা দেশে শঙ্কা ও আতঙ্কজনক পরিস্থিতি ছড়িয়ে পড়েছিল। এই অবস্থায় গণসমাবেশ মোকাবিলায় পাল্টা নানা কর্মসূচি নিয়েও মাঠে নেমেছিল আওয়ামী লীগ। রাজধানীর বুকে অনেকগুলো শান্তি সমাবেশের মাধ্যমে শোডাউন হয়েছে। ১১ নভেম্বর যুবলীগের যুব মহাসমাবেশ, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সুবিশাল সম্মেলন এবং ১০ ডিসেম্বর ঢাকার উপকণ্ঠে সাভারে বিশাল সমাবেশ করেছে তারা। আর বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশের কয়েক দিন আগে থেকে শুরু করে ১০ ডিসেম্বর গণসমাবেশের দিনটিতেও রাজধানীজুড়ে সতর্ক অবস্থান ছিল নেতাকর্মীর। সর্বশেষে ওই গণসমাবেশ থেকে দলীয় ছয় এমপির পদত্যাগ ও ২৭ দফা ঘোষণা ছাড়া বিএনপির তেমন কোনো সফলতা না পাওয়ায় স্বস্তি ফিরে আসে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর মধ্যে।