প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষ করে ঢাকার উদ্দেশে চলে যাওয়ার পর নেতাকর্মীরাও কাঁঠালবাড়ীর জনসভাস্থল ছাড়তে শুরু করেন। কিন্তু সেখানে থেকে যান উৎসবপাগল মানুষেরা। দুপুরে আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও বিকেল পর্যন্ত চলছিল নাচ-গান, ঢাকঢোলের বাদ্য।

এমনকি শেষ বিকেলে পদ্মার পাড় থেকে শুরু করে সভাস্থল পর্যন্ত বসেছিল হরেক রকম খেলনাসহ নানা পণ্যের মেলা। পদ্মার পাড়ে খোলা আকাশে ভিড় করেন আশপাশের এলাকার নারী, পুরুষ ও শিশুরা। বাবা-মায়ের কোলে চড়ে আসে ছোট্ট শিশুও।

তিন দিন আগে ঢাকার কামরাঙ্গীরচর থেকে শিশুদের খেলনা বিক্রি করতে কাঠালবাড়ী আসেন মিলু রহমান। বিকেল হতেই তিনি পসরা সাজিয়ে বসেন।

মিলু রহমান বলেন, তিন দিনে বেচা বিক্রি ভালোই হয়েছে। সুযোগ মতো দেখে গেলেন পদ্মা সেতুও।

শরীয়তপুরের জাজিরার দিকে নগরের বাসিন্দা আইয়ুব আলীও সাজিয়েছেন খেলনার পসরা। তিনি জানালেন, তাদের এই পসরা উৎসবে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।


জাজিরার শরীফ মিয়া বসেছেন বেলুন নিয়ে। এই মৌসুমী ব্যবসায়ী বলেন, আমার কাছ থেকে কেনা বেলুন শিশুরা খোলা আকাশে উড়িয়ে দিচ্ছেন, এটা দেখতে ভালোই লাগে। এর মাঝে আমার ব্যবসাও হয়।

শিবচর থেকে ছেলে-মেয়ে নিয়ে এসেছিলেন মিনারা তাবাশসুম। তিনি বলেন, দিনে ভিড় আর নিরাপত্তা প্রটোকল থাকায় আসতে পারিনি। তাই বিকেলে সন্তানদের নিয়ে ঘুরতে এসেছি।

রাজবাড়ী থেকে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে এসেছেন ইসরাফিল আলম। তার অনুভূতি জানতে চাইলে বলেন, এক কথায় অভিভূত। তিনি ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রীকে।

বিকেলে পদ্মা সেতুর দুই পাড়ে শত শত লোক ভিড় করেন। অনেকেই নিরাপত্তা চোখ ফাঁকি দিয়ে টোলপ্লাজা পর্যন্ত চলে যান। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হিমশিম খেতে হয় দুই পাড়ের দুই থানার পুলিশকেও।