অমর একুশে গ্রন্থমেলা

একুশের অপেক্ষা

প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০     আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

জয়নাল আবেদীন

ছবি: ফোকাস বাংলা

ছবি: ফোকাস বাংলা

প্রকৃতিতে এখন বসন্ত। শুরুর দু'দিন বিক্রিবাট্টা জমে উঠেছিল। তৃতীয় দিনে এসে বইমেলার 'বসন্তে' কিছুটা ভাটার টান। মাঘ মাস বিদায় নিলেও হিমেল হাওয়ার রেশটা রয়ে গেছে। স্বাধীনতা স্তম্ভের সামনের লেক ছুঁয়ে উত্তরের হাওয়া ছড়িয়ে পড়ছিল পুরো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে ভিড় তেমন না থাকায় জলছোঁয়া শীতল বাতাসে রীতিমতো কাঁপন ছিল। পাঠকের আনাগোনা অনুপাতে বিক্রিবাট্টা যে একেবারেই ছিল না, তা নয়।

এর আগের দু'দিন বইমেলা ছিল উৎসবে রাঙা। বিক্রয়কর্মীদের দম ফেলার ফুরসত ছিল না। বাংলা একাডেমি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রতিটি কোণে ছিল জমাট আড্ডা। ছুটির দিনের আমেজ পার হতেই বদলে গেছে বইমেলা প্রাঙ্গণের ছবি। এবার যেন প্রকাশক ও বিক্রয়কর্মীদের সাময়িক 'হাঁফ ছেড়ে' বাঁচার পালা। কারণ, আগামী শুক্রবার আসছে আরও বড় উপলক্ষ- একুশে ফেব্রুয়ারি।

প্রকাশকদের আশা, একুশে ফেব্রুয়ারির জনস্রোতে বই বিক্রি অনেক বাড়বে, সেই রেশ থেকে যাবে শেষ অবধি। বিদায়ী সপ্তাহে বইমেলা হয়ে উঠবে লেখক-পাঠকের মিলন মেলা। সে জন্য চলতি সপ্তাহে ছিমছাম প্রাঙ্গণে পাঠকের আনাগোনা একটু কম থাকাকেই স্বাভাবিক বলছেন অনেকে। একুশে ফেব্রুয়ারি কাছে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিকিকিনি বাড়বে।

গতকাল মেলার দুয়ার খোলে বিকেল ৩টায়। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণের মোড়ক উন্মোচন মঞ্চ ঘিরে বিকেলে নতুন লেখকদের ভিড় জমে। তাদের ঘিরে ছিলেন পাঠকরাও। নতুন বইয়ের পাঠোন্মোচন ঘিরে আবেগের কথা তুলে ধরেন অনেক লেখক। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেও ছিল ছোট ছোট আড্ডা। শিশু চত্বরে গতকাল উপস্থিতি কম ছিল। লিটল ম্যাগ চত্বরেও একই অবস্থা দেখা গেছে।

কম ভিড়ের মধ্যেও বিভিন্ন প্যাভিলিয়ন ও স্টল ঘিরে পাঠকের উপস্থিতি চোখে পড়েছে। অনেকেই প্রস্তুতি নিয়ে বই কিনতে এসেছিলেন। মেলায় এসে তালিকা ধরে ধরে কিনছিলেন বই। আবার অনেকে নতুন প্রকাশিত বইগুলো ঘেঁটে পছন্দ করে কেনেন।

নতুন বই : গতকাল নতুন বই এসেছে ১৪৬টি। এ নিয়ে ১৫ দিনে নতুন বই প্রকাশ পেল দুই হাজার ৩৪০টি। উল্লেখযোগ্য হলো- শামসুজ্জামান খানের 'দূরে দূরান্তরে' (অক্ষর প্রকাশনী), হাসনাত আবদুল হাইয়ের 'কলকাতা রানাঘাট' (অন্যপ্রকাশ), হাবীবুল্লাহ সিরাজীর 'আমার পাণ্ডব' (গ্রন্থকুটির), মুহম্মদ জাফর ইকবালের 'আমার সাইন্টিস মামা' (জ্ঞানকোষ), ইমতিয়ার শামীমের 'গ্রামায়নের ইতিকথা' (নাগরী), মোহিত কামালের 'হ্যাঁ' (বিদ্যাপ্রকাশ), সৈয়দ আজিজুল হকের 'কথাশিল্পী মানিক' (কথাপ্রকাশ), এ এ এম জাকারিয়া মিলনের 'চোখ থাকিতে অন্ধ' (অন্বেষা প্রকাশন), সৈয়দ শামসুল হকের 'জলেশ্বরী :উপন্যাস সংগ্রহ-২য় খণ্ড (পাঠক সমাবেশ), ইমদাদুল হক মিলনের 'কয়েকজন মেয়ে' (অনন্যা), পিয়াস মজিদের 'মুক্তিযুদ্ধ বঙ্গবন্ধু ও বাংলা একাডেমি' (বাংলা একাডেমি), রাবেয়া খাতুনের 'মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস সমগ্র' (অনন্যা), আফসান চৌধুরীর সম্পাদনায় '১৯৭১ গণনির্যাতন-গণহত্যা কাঠামো, বিবরণ ও পরিসর' (কথাপ্রকাশ), মিনার মনসুরের 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনার শত্রু-মিত্র' (পাঞ্জেরী), শাহাব আহমেদের 'ককেশিয়ার দিন রাত্রি' (বোধি প্রকাশালয়), মন্দিরা ভট্টাচার্যের 'ওই দেখা যায় বাড়ি আমার' (বোধি প্রকাশালয়), জোহরা শেলীর 'মারজানা' (সময় প্রকাশন), মাহবুব রেজার 'নামিল আঁধার' (অনন্যা)।

মঞ্চের আয়োজন :  বিকেল ৪টায় মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় পিয়াস মজিদ রচিত 'মুক্তিযুদ্ধ বঙ্গবন্ধু ও বাংলা একাডেমি' শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষক শাহিদা খাতুন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন কবি শিহাব সরকার এবং গবেষক ড. ইসরাইল খান। লেখকের বক্তব্য প্রদান করেন পিয়াস মজিদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন।

প্রাবন্ধিক বলেন, ভাষাশহীদের স্মৃতিবিজড়িত এই মাসে বাংলা একাডেমিতে মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও বাংলা একাডেমি শীর্ষক বইয়ের যে আলোচনা তা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু, বাংলা একাডেমি- বইয়ে মুদ্রিত শিরোনামের তিনটি শব্দ অবিচ্ছেদ্য।

সভাপতির বক্তব্যে সেলিনা হোসেন বলেন, গ্রন্থটি মূলত বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি, মুক্তিযুদ্ধ সর্বোপরি মহানায়ক বঙ্গবন্ধুর সাংস্কৃতিক চেতনাকে ধারণ করেই রচিত।

গতকাল লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন মাসরুর আরেফিন, সোহেল হাসান গালিব, সৈয়দ জাহিদ হাসান এবং আলতাফ শাহনেওয়াজ।

কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ করেন কবি মাসুদুজ্জামান, মাহবুব আজীজ, জাহানারা পারভীন এবং আশরাফ জুয়েল। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী শিরিন ইসলাম, আজিজুল বাসার এবং মনিরুল ইসলাম। আজ ছিল আবুল ফারাহ্‌ মো. তোয়াহার পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন 'বিশ্বভুবন', জিনিয়া জ্যোৎস্নার পরিচালনায় নৃত্য সংগঠন 'জিনিয়া নৃত্যকলা একাডেমী' এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন 'ক্রান্তি শিল্পীগোষ্ঠী'-এর পরিবেশনা। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন শ্যামা প্রসাদ মজুমদার (কি-বোর্ড)।