করোনা মহামারির কারণে ২০২১ সালের বইমেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রকাশকরা। পুরো করোনাকালেই নানা সংকট পিছু ছাড়েনি তাদের। এসব কারণে আগামী বছরের অমর একুশে বইমেলাকে প্রকাশকবান্ধব করার লক্ষ্যে মেলার পুরো খরচ সরকারকে বহন করার দাবি জানিয়েছেন জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশকরা।

সোমবার বিকেলে বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে 'অমর একুশে বইমেলা ২০২২: আমাদের ভাবনা' শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এ দাবি জানান তারা।

প্রকাশকদের অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- বইমেলা চলার সময়সীমা প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা ও ছুটির দিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত নির্ধারণ করে স্টলের ভাড়া কমিয়ে আনা; খাবারের দোকানগুলো প্রবেশপথের সামনে না রাখা; প্রবেশপথ বৃদ্ধি ও গাড়ি রাখার স্থান নির্দিষ্ট করা; সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্থায়ী মেলার কাঠামো গড়ে তোলা; বইয়ের কমিশন ব্যবস্থা তুলে দেওয়া; বইমেলার অবকাঠামো মেলা শুরুর আগেই পুরোপুরি প্রস্তুত করা এবং মৌসুমি প্রকাশকদের বইমেলায় স্থান না দিয়ে শুধু মানসম্মত পেশাদার প্রকাশকদের অংশ নেওয়ার সুযোগ দিয়ে বইমেলার মাত্রাতিরিক্ত পরিসর কমানো।

জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মুহম্মদ নূরুল হুদা।

প্রকাশকদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে মুহম্মদ নূরুল হুদা বলেন, বইমেলাকে লেখক ও প্রকাশকবান্ধব করে তুলতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লেখক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, বইমুখী করতে না পারলে নতুন প্রজন্ম বিকশিত হবে না। প্রকাশক ও তরুণ লেখকদের তিনি মানহীন বই প্রকাশ থেকে সরে আসার আহ্বানও জানান। তিনি বলেন, যতদিন একজন প্রকাশক নিজের টাকায় বই প্রকাশ না করবেন, ততদিন একজন লেখকের বই প্রকাশ করা উচিত নয়। নিজের টাকায় মানহীন বই প্রকাশের কোনো মূল্য নেই।

বিশেষ অতিথি নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার বলেন, প্রতিবছর মেলার উন্নতি হলেও পেশাদারিত্ব সৃষ্টি করা সম্ভব হচ্ছে না। বইমেলা আয়োজনের দায়িত্ব একাডেমির হাতে না রেখে প্রকাশকদের হাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত।

সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন সমিতির নির্বাহী পরিচালক মনিরুল হক। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও বাংলা একাডেমির পরিচালক জালাল আহমেদ।

এ ছাড়াও বইমেলা নিয়ে বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন প্রকাশনা সংস্থা কথাপ্রকাশের স্বত্বাধিকারী জসীম উদ্দিন, যুক্ত প্রকাশনীর নিশাত জাহান রানা, অনুপম প্রকাশনীর মিলন কান্তি নাথ, তাম্রলিপি প্রকাশনীর এ কে তরিকুল ইসলাম রনি, ঝিঙেফুল প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী গিয়াসউদ্দিন খান প্রমুখ।