করোনা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি ছাড়া কারখানা খুলে দেওয়া নিরাপদ মনে করছে না তৈরি পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ। শুক্রবার সংগঠনের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কারখানা খুলে দেওয়ার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারিত হচ্ছে। এ ব্যাপারে বিজিএমইএর অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। 

কারখানা চালু করার আগে সবাইকে নিরাপদ রাখতে হবে। যদি সার্বিকভাবে মহামারি করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হয়, তা হলে সঠিক সময়ে কারখানা খুলে দেওয়া হবে। এ মুহূর্তে প্রথম এবং একমাত্র কাজ হচ্ছে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

আগামী ২৬ এপ্রিল কারখানা খুলে দেওয়া হবে- বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হককে নিয়ে একটি ইংরেজি দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনের সূত্র ধরে কয়েকটি টেলিভিশন এবং পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্যটি পরিবেশিত হয়েছে। করোনা সংক্রমণ ক্রমেই খারাপ হওয়ার পরিস্থিতির মুখে কারখানা খুলে দেওয়ার তথ্যে আবারও সমালোচনার মুখে পড়ে বিজিএমইএ।

বিজিএমইএ সভাপতি সমকালকে বলেন, তার বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, আগে শ্রমিকদের নিরাপত্তা প্রয়োজন। তারপর উৎপাদনের কথা ভাবা যাবে। যখন মনে হবে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, শুধু তখনই কারখানা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। রুবানা হক বলেন, প্রাণঘাতী করোনা সবাইকে অসহায় করে দিয়েছে। এর বিরূপ পরিণতি কারও নিয়ন্ত্রণে নেই।

এর আগে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির মধ্যেই গত ৫ এপ্রিল কারখানা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে বিজিএমইএ। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে অনেক ভোগান্তির মধ্য দিয়ে শ্রমিকরা কারখানায় পৌঁছেন। অবশ্য আগের রাত সাড়ে ১০টায় আবারও কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে দ্বিতীয় দফা ভোগান্তির মুখে পড়েন শ্রমিকরা। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় শ্রমিকদের ভাড়া করা বাড়িতে উঠতে দেননি অনেক বাড়ির মালিক। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় আবারও কষ্ট স্বীকার করে গ্রামের বাড়িতে ফিরতে হয়েছে অনেক শ্রমিককে।