খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ৬০৮ কোটি ২ লাখ ৫৬ হাজার টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে। কেসিসি মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক বৃহস্পতিবার দুপুরে নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে এ বাজেট ঘোষণা করেন।

প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯৮ কোটি ৮৫ লাখ ৯৩ হাজার টাকা এবং সরকারি বরাদ্দ ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা হতে উন্নয়ন খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০৯ কোটি ১৬ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। এ সময় ২০২০-২১ অর্থবছরে সংশোধিত বাজেট উপস্থাপন করা হয়। গত বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫০৪ কোটি ৩১ লাখ ২২ হাজার টাকা। সংশোধিত বাজেটে এর আকার দাঁড়িয়েছে ৩৬৯ কোটি ১৯ লাখ ২৬ হাজার টাকা। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার ৭৩ দশমিক ২০ শতাংশ।

বাজেট ঘোষণাকালে সিটি মেয়র বাজেটের মূল ˆবৈশিষ্টগুলো তুলে ধরে বলেন, বাজেটে এবারও নতুন কোনো কর আরোপ করা হয়নি। বকেয়া পৌরকর আদায়, নবনির্মিত সব স্থাপনার ওপর প্রচলিত নিয়মে কর ধার্য এবং নিজস্ব আয়ের উৎস সম্প্রসারণের মাধ্যমে করপোরেশনের আয় বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

মেয়র বলেন, কেসিসি একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। এটি শুধু সরকারি বা বিদেশি সাহায্য ও ঋণের ওপর নির্ভরশীল থাকতে পারে না। কেসিসিকে নিজস্ব আয়ের ওপর নির্ভর করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে।

মেয়র জানান, বর্তমানে নগরীতে বিভিন্ন দাতা সংস্থার ১৫টি উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে এবং চারটি প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এসব প্রকল্পে ২০২১-২২ অর্থবছরে ১৫৩ কোটি ১৬ লাখ ৬৩ হাজার টাকার উন্নয়ন সহায়তা পাওয়ার আশা করা যায়। জাতীয় এডিপিভুক্ত তিনটি প্রকল্পে ২০১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেসিসির অর্থ ও সংস্থাপন স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও ২০নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শেখ গাউসুল আজম। বাজেট অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিł দায়িত্ব) আজমুল হক।

বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে সিটি মেয়র বলেন, ফুটপাত পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। যারা ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করছে অথবা নির্মাণ সামগ্রী রাস্তার ওপর রেখে জন চলাচল বিঘ্নিত করছে, তাদের ওপর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সিটি মেয়র বলেন, কেসিসির উন্নয়ন কাজে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিয়মিত করাসহ কাজের গুণগত মান বজায় রাখতে চাই। এ কাজে সহযোগিতা করার জন্য তিনি সাংবাদিক এবং সচেতন নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নগরীতে মোটরচালিত রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে। শুধু প্যাডেলচালিত রিকশা চলাচলের অনুমোদন থাকবে। প্যাডেলচালিত রিকশা যথাযথভাবে পরিদর্শন শেষে তা প্রতি বছর নবায়ন করা হবে।