অটোরিকশায় ট্রাকের ধাক্কায় অজয় মজুমদার ওরফে কার্তিক নামে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) এক ছাত্র নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে সদর উপজেলার সোনাপুর জিরো পয়েন্টে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত অজয় মজুমদার জেলার সুবর্ণচর উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নের কাজল মার্কেটের পাশে গিরিশ পণ্ডিতের বাড়ির ওমান প্রবাসী বাদল চন্দ্র মজুমদারের ছেলে। তিনি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন সায়েন্স এন্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

নোবিপ্রবির প্রক্টর নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর বলেন, অজয় মজুমদার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাশ শেষে সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে জেলা শহর মাইজদীর মেসে যাচ্ছিলো। এ সময় পেছন থেকে একটি ট্রাক অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে সে রাস্তায় পড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থীর মৃত্যু খুবই মর্মান্তিক। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে আমরা শোক প্রকাশ করছি এবং তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, করোনার প্রকোপ কাটিয়ে অনেক দিন পর বিশ্ববিদ্যালয় খুলেছে। জেলা শহর মাইজদী থেকে সোনাপুর পর্যন্ত ফোরলেনের কাজ চলছে। এ ছাড়া সোনাপুর থেকে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘদিন যাবত খানাখন্দে ভরা। তাই সড়কটি সংস্কার করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

সোনাপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কাজী সুলতান আহসান বলেন, দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালক পালিয়ে গেছে। আমরা গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালাচ্ছি।

নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. দিদার-উল-আলম বলেন, মেধাবী এ শিক্ষার্থীর অকাল প্রয়াণ কষ্ট ও বেদনার। তার পরিবারের সদস্যদের জন্য এ শোক সহ্য করা কঠিন। তার প্রয়াণে একটি সম্ভাবনার মৃত্যু ঘটল।

সুধারাম মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ শাহেদ উদ্দিন বলেন, পুলিশ ট্রাকটি জব্দ করেছে। তবে চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়। তাদেরকে আটক করতে পুলিশ চেষ্টা করছে।

এদিকে দুর্ঘটনার খবর শুনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নোয়াখালী-মাইজদী সড়ক অবরোধ করে রাখেন। তারা ট্রাকচালক ও হেলপারকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। পরে সন্ধ্যার দিকে জেলা প্রশাসক মো. খোরশেদ আলম খান, পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের আশ্বাসে সড়ক থেকে সরে যান শিক্ষার্থীরা। তবে তারা এই ঘটনার প্রতিবাদে ও শোক প্রকাশের জন্য বুধবার সব ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন ঘোষণা করেন তারা।