সাম্প্রতিক সময়ে মডেল ইউনাইটেড নেশন বা ছায়া জাতিসংঘ শিক্ষার্থীদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘের আদলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে প্রতিনিধিত্ব ও বৈশ্বিক সমস্যা সমাধানে কাজ করে এই প্ল্যাটফর্ম। তেমনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বৈশ্বিক নেতৃত্ব তৈরিতে অনবদ্য অবদান রেখে যাচ্ছে সোসাইটি ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স। ২০১৯ সালে ছায়া জাতিসংঘের আদলে গঠিত হয় এ সংগঠনটি। সেই সঙ্গে উদ্যোক্তা তৈরি আর সমাজসেবা নিয়েও কাজ করে যাচ্ছে। কারণ সামাজিক নেতৃত্ব তৈরির প্রথম ধাপই হলো সমাজের সমস্যাগুলো বোঝা ও তা সমাধানে এগিয়ে আসা। তাই শিক্ষার্থীদের চোখে সমাজের অন্যায়-অসংগতি ধরিয়ে দেওয়া ও সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সংগঠনটি তাদের কাজের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে।
সোসাইটি ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স মূলত তিনটি বিষয় প্রাধান্য দিয়ে কাজ শুরু করে। ছায়া জাতিসংঘ, উদ্যোক্তা তৈরি এবং সমাজসেবা। এ উদ্দেশ্যে শিক্ষার্থীদের নানা প্রতিভা ও দক্ষতার যথাযথ পরিচর্যার কোনো বিকল্প নেই। ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরিতে তরুণ প্রজন্মকে আরও বেশি প্রতিশ্রুতিশীল এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ করে গড়ে তোলাই এখন এর মূল লক্ষ্য। সমাজের সঙ্গে তরুণদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর জন্য সংগঠনটি নিয়মিত নানা কর্মসূচি হাতে নিচ্ছে।

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে মডেল ইউনাইটেড নেশনের (MUN) আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য সোসাইটি ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স নিয়মিত প্রশিক্ষণ সেশনের আয়োজন করে থাকে। এটা মূলত একটা একাডেমিক সেশন, যেখানে শিক্ষার্থীরা জাতিসংঘের আদলে বিভিন্ন বৈশ্বিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করে।

ইতোমধ্যে এর সদস্যরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজিত প্রতিযোগিতায় অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন। উদ্যোক্তা তৈরির জন্য সংগঠনটি প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। শিক্ষার্থীরা যাতে ভবিষ্যতে নিজেরাই একটি স্টার্টআপ দাঁড় করাতে পারে, সেজন্য নিয়মিত সেমিনার আয়োজিত হয়। অনেকেই ইতোমধ্যে নিজেদের ব্যক্তিগত ব্যবসা দাঁড় করিয়ে ফেলেছেন। করপোরেট ওয়ার্ল্ডের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধির জন্য তারা নিয়মিত সেশনের আয়োজন করে থাকে। নেটওয়ার্ক তৈরি, ব্যক্তিগত উন্নয়নে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন, বিভিন্ন বিজনেস কম্পিটিশনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সদস্যরা নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলছেন।

নেতৃত্ব তৈরির জন্য সামাজিক বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের কোনো বিকল্প নেই। তাই সংগঠনটি বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজ হাতে নিয়েছে। ইতোমধ্যে ক্যাম্পাসে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, মাস্ক বিতরণ, শীতবস্ত্র বিতরণের মতো উল্লেখযোগ্য কিছু পদক্ষেপ বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে। 'মানুষের পাশে' নামে একটি সহায়তা কার্যক্রমে তারা ১০টি পরিবারকে ১০ দিনের নিত্যপণ্য সরবরাহ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে আরও বেশি শিক্ষার্থীবান্ধব ও জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত করে তোলার জন্য তারা নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। এতসব কাজের মাঝে তাদের অর্জনের ঝুলিটাও নিতান্ত কম নয়। ওয়াসিফ ফুয়াদ নোবিপ্রবি MUN ২০২০-এ 'স্পেশাল মেনশন অ্যাওয়ার্ড' অর্জন করেছেন। ২০১৯ সালে হাবিপ্রবিতে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় SIA-JU-এর চার সদস্যের দল অভূতপূর্ব কৃতিত্ব প্রদর্শন করে। আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম 'বেস্ট ডেলিগেট অ্যাওয়ার্ড' অর্জন করেন। এ ছাড়া ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এবং যবিপ্রবি আয়োজিত MUN-এ তারা 'বেস্ট পজিশন পেপার অ্যাওয়ার্ড' অর্জন করেছেন।

সংগঠনের সদস্য রুকাইয়া তুনায বলেন, 'ক্যাম্পাসে আসার পর শুরুর দিকেই এসআইএর সঙ্গে যুক্ত হই। মূলত পাবলিক স্পিকিংয়ে আমার আগ্রহ ছিল। সেই সঙ্গে মডেল ইউনাইটেড নেশনের মতো চমৎকার প্ল্যাটফর্মে কাজ করতে পারা সত্যিই আমার জন্য একটি বড় পাওয়া। পাশাপাশি সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের প্রতি আমাদের দায়িত্ববোধ এখান থেকেই শিখেছি। সামনে আরও বড় পরিসরের আয়োজনগুলোতে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করতে চাই।' বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষার্থী আবির হাসান সংগঠনটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আছেন আলিফ বিন হাসান। বর্তমানে সংগঠনটির সদস্য সংখ্যা ২৮।