চিন্তাচর্চা বাদ দিয়ে কোনো জাতি অগ্রসর হতে পারে না। আবার চিন্তাশীলতা বিস্তারের জন্য মুক্তচিন্তা পূর্বশর্ত। আর মুক্তবুদ্ধি চর্চার অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বিতর্ক। বিতর্কে থাকে যুক্তি, পাল্টা যুক্তি ও তথ্যের সমারোহ। অন্যদিকে যুক্তিতর্ক খুলে দেয় মানুষের তৃতীয় চোখ আর বিতার্কিক পায় নিজেকে চেনার সুযোগ। জ্ঞানচর্চারও একটি অসাধারণ মাধ্যম বিতর্ক। একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের

পক্ষে বিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন ও উদাহরণ দিয়ে নিজের বক্তব্যকে প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে বিতর্কের মূল লক্ষ্য। বিতর্ক চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সেই সুযোগটাই পায়। সম্প্রতি তেমনি একটি বিতর্ক প্রতিযোগিতা হয়ে গেল। 'ছায়া সংসদ' বিতর্ক প্রতিযোগিতায় 'ইউসিবি পাবলিক পার্লামেন্টে' চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিযোগিতায় রানারআপ হয়েছে ঢাকা কলেজ। 'নগর ব্যবস্থাপনায় সুশাসন' নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এ প্রতিযোগিতা হয়।
এটিএন বাংলা এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান চৌধুরী আহমেদ কিরণ। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পরিবেশবাদী আইনজীবী সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। বিজয়ীদের মধ্যে এবারের বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিরোধী দল হিসেবে অংশগ্রহণ করেন সিফাত হোসেন, তানজিন, আসাদুল্লাহ আল গালিব, শাদমান সাকিব নিলয় ও সুজানা তারানুম মাহিয়াত। বিতর্ক দলের সবাই রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং অর্গানাইজেশন রুডো-এর বিতার্কিক।

চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে দলীয় নেতা সিফাত হোসাইন ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, 'আজকের এই বিজয় আমাদের জন্য এক মাইলফলক।' শিক্ষার্থীদের এমন অর্জনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রফেসর সাদিকুল ইসলাম বলেন, 'আজ নগর ব্যবস্থাপনায় সুশাসন নিয়ে এটিএন বাংলার ছায়া সংসদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রতিনিধিত্ব করে আমাদের রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং অর্গানাইজেশন চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। বিতর্ক শুরুর আগে শুধু একটি কথাই বলেছিলাম, আত্মবিশ্বাস ও মনোবলটা রেখো, আমি বিশ্বাস করি তোমরাই চ্যাম্পিয়ন হবে। এর আগে রুডোর সুহানরা চ্যাম্পিয়ন ট্রফি এনেছিল আর এবার সিফাতরা। আশা করি এই বিজয়ের অনুপ্রেরণা বুকে ধারণা করে বিতর্ক জগতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম আরও সমুন্নত করতে পারব।'