ঢাকা শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

আয়োজন : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

ভিন্ন আয়োজনে বসন্তবরণ

ভিন্ন আয়োজনে বসন্তবরণ

আনন্দঘন পরিবেশে ভাত-ভর্তা উৎসবে মেতে ওঠেন শিক্ষার্থীরা

মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ

প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৪ | ০০:৪৩

ফাগুন শুরুর মধ্য দিয়ে এসেছে বসন্ত। প্রকৃতিতে লেগেছে রং, চারপাশে যেন উৎসবের ছোঁয়া। আর সেই উৎসবের রং লেগেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও। একদিকে বাসন্তী রং, অন্যদিকে ভালোবাসার রঙের জোয়ার বইছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। এবারের ফাল্গুনে ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে প্রাণের উচ্ছ্বাসে মেতেছে তরুণ প্রাণ। পুরান ঢাকার এক খণ্ড সবুজের সমারোহে তরুণ-তরুণীরা মেতেছিল প্রাণের উচ্ছলতায়।
‘বসন্ত বাতাসে’ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) চারুকলা অনুষদের আয়োজনে ঋতুরাজ বসন্তকে বরণ করে নেওয়া হয়েছে। বিভাগের আয়োজনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে নেচেগেয়ে ‘বসন্ত বরণ ও ভর্তা উৎসব-১৪৩০’ উদযাপিত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউটিলিটি ভবনের ছাদে ৪ মার্চ সোমবার এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। বসন্তকে বরণ করার পাশাপাশি বিশেষ আয়োজন হিসেবে ভর্তা উৎসবের আয়োজন করে চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়র ১৫তম আবর্তন অর্থাৎ চারুকলা অনুষদের ৭ম আবর্তন এ আয়োজন করে। এদিন সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা নেচেগেয়ে বসন্ত বরণ উৎসব পালন করে। এ সময় চারুকলার ছাদে বসন্তের ঝরাপাতার আদলে মঞ্চ সাজানো হয়। এ ছাড়া এই বছর ভর্তা উৎসব বসন্ত বরণ উৎসবকে অন্য আমেজ এনে দেয়। এই আয়োজনে ভর্তাগুলোর মধ্যে ছিল টমেটো আলু ভর্তা, কালোজিরা ভর্তা, শিম ভর্তা, ডাল ভর্তা, টমেটো ভর্তা ও বিভিন্ন প্রকারের শুঁটকি ভর্তাসহ ৩০ এর ও অধিক প্রকারের ভর্তার সমারোহ। সঙ্গে ছিল বিশেষভাবে রান্না করা ভাত। ভর্তা উৎসবের পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী পালন করা হয় বসন্ত বরণ উৎসব। হলুদ, গোলাপি, নীল, লাল শাড়িতে মেতে ওঠে তরুণীরা। সবার মাথায় বসন্তের আগমনী ফুলের মালা। ছেলেরা পরেছে হরেক রকমের পাঞ্জাবি। এ সময় বিভাগের শিক্ষার্থীরা ছবি-সেলফি তোলাসহ খোশগল্পে মেতে ওঠে।
বসন্ত বরণ উৎসবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘আমাদের বাঙালি জাতির ১২ মাসে ১৩ পার্বণ। আমরা বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ থাকি, যে যেই ধর্মেরই হই না কেনো উৎসব একসাথে উদযাপন করি, ঈদ বা পূজা যেটায় হোক সবাই একসাথে পালন করি।  চারুকলার এমন আয়োজন বাঙালির সংস্কৃতিকে ধারণ করে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক চর্চাকে গতিশীল করছে।’ অনুষ্ঠানে চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহা. আলপ্তগীন, ভাস্কর্য বিভাগের চেয়ারম্যান ইমাম হোসেনসহ অনুষদের সব বিভাগের শিক্ষকসহ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টররাও এ উৎসবে অংশ নেন। v

আরও পড়ুন

×