ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

ঢাবি শিক্ষার্থীকে মারধর করে হল ছাড়া করল ছাত্রলীগ

ঢাবি শিক্ষার্থীকে মারধর করে হল ছাড়া করল ছাত্রলীগ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২২ | ১৩:২১ | আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২২ | ১৩:২১

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের এক বৈধ শিক্ষার্থীকে মারধর করে রুম থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। পরে হলের আবাসিক শিক্ষকরা রুমটি তালাবদ্ধ করতে গেলে ছাত্রলীগ কর্মীরা শিক্ষকদের দীর্ঘসময় বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য করেন।

ভুক্তভোগী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফারহান সাইফুল মারধরের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হলের ৫৬২ নম্বর রুমে এ ঘটনা ঘটে। পরে আবাসিক শিক্ষকরা রুমটি তালাবদ্ধ করে দেন।

অভিযুক্তরা হলেন ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাখাওয়াত হোসেন শান্ত, ২০১৮-১৯ সেশনের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাখাওয়াত অভি ও ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শেখ ইমরান ইসলাম ইমন, ২০১৯-২০ সেশনের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শরিফ খান ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মুনতাসীর ইসলাম। তাঁরা সবাই হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ হোসেনের অনুসারী। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের অনুগত তিনি।
ভুক্তভোগী সাইফুল জানান, দুপুরে তাঁকে হল থেকে এই রুমে সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়। তিনি বিকেলের দিকে বিছানাপত্র নিয়ে সিটে ওঠেন। সন্ধ্যায় অভিযুক্তরা এসে তাঁকে রুম থেকে করে দেওয়ার চেষ্টা করে। তিনি বের হতে না চাইলে শরিফ খান তাঁকে লাথি মেরে ঘাড় ধরে ধাক্কা দিতে থাকেন। একপর্যায়ে সবাই মিলে তাঁকে বের করে দেন।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা বলেন, সাইফুলকে বের করে দেওয়া ও মারধরের খবর পেয়ে হলের আবাসিক শিক্ষক আইনুল ইসলাম ও ইমাউল হক সরকার ওই রুমে গিয়ে দরজা খুলতে বললেও তাঁরা দরজা খোলেননি। প্রায় ৪০ মিনিট ডাকাডাকির পর তাঁরা দরজা খুলে বাইরে আসেন। পরে তাঁরা তাঁদের বের করে তালা মেরে দেন।
আবাসিক শিক্ষক ও হলের কক্ষ বরাদ্দ কমিটির আহ্বায়ক আইনুল ইসলাম বলেন, শিক্ষকদের বাহিরে দাঁড় করিয়ে রাখা একটি অপরাধ। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডিকে জানানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযুক্ত শরিফ খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, তাঁরা কাউকে মারধর করে রুম থেকে বের করে দেননি। প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাসুদুর রহমান বলেন, হল কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে রুমটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে রুমটি বৈধ শিক্ষার্থীর কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×