'গেল বছরে যৌন নির্যাতনের শিকার ৮৫ আদিবাসী নারী-কন্যাশিশু'

প্রকাশ: ২৩ মার্চ ২০১৬      

সমকাল প্রতিবেদক

আদিবাসী নারী- সংগৃহীত

২০১৫ সালে সারাদেশে ৮৫ জন আদিবাসী নারী ও কন্যাশিশু শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাদের মধ্যে ধর্ষণ ও গণধর্ষণের শিকার ২৬ জন, হত্যা করা হয়েছে ৩ জনকে, ১১ জন শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত, ধর্ষণের চেষ্টা ১৬ জনকে, ৫টি অপহরণ, ৬টি শারীরিক ও যৌন হয়রানি এবং দুটি পাচারের ঘটনা ঘটেছে। আর উচ্ছেদের হুমকিতে দিন কাটছে অধিকাংশ পরিবারের।
 
'বাংলাদেশের আদিবাসীদের মানবাধিকার রিপোর্ট-২০১৫' এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান কাপেং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পল্লব চাকমা। বুধবার সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে 'দ্য ডেইলি স্টার' ভবনের তৌফিক আজিজ খান মিলনায়তনে এ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ও অক্সফ্যামের সহযোগিতায় ওই অনুষ্ঠানে আলোচনা সভারও আয়োজন করা হয়।
 
কাপেং ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন রবীন্দ্রনাথ সরেনের সভাপতিত্বে মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়েশা খানম, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য নিরুপা দেওয়ান, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত, উন্নয়ন সংস্থা অক্সফামের প্রকল্প পরিচালক এমবি আক্তার, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, কাপেং ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারপারসন চৈতালী ত্রিপুরা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
 
মোড়ক উন্মোচন পরবর্তী আলোচনায় সুলতানা কামাল বলেন, 'রাষ্ট্রীয়ভাবেই আদিবাসীদের প্রান্তিকতার মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। আদিবাসীসহ দেশের আপামর জনসাধারণের মানবাধিকার রক্ষার ব্যবস্থা সরকারকেই নিতে হবে। আমরা নারী পুরুষ যে কেউ যেখানেই থাকি যেভাবেই থাকি যে মতের থাকি যে দলেরই থাকি আমরা যদি নিরাপদ থাকি তাহলে বুঝব গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে নতুবা নয়।'
 
আয়েশা খানম বলেন, 'আদিবাসীদের দীর্ঘ লড়াই সংগ্রাম, অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়ার বেদনা, বারংবার মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ও তার বিচার না হওয়া আদিাবাসীদের মনে একধরনের বিচ্ছিন্নতা তৈরি করছে। আদিবাসীদের মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন সরকারের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিও পরিবর্তন করতে হবে। বিশ্বব্যাপী যখন সমতার কথা বলা হচ্ছে, তখন দেশে আদিবাসীদের সমতাতো দেওয়া হচ্ছে না বরং সমতার জায়গাগুলোকে সংকীর্ণ করে দেওয়া হচ্ছে।'
 
রানা দাশগুপ্ত বলেন, '২০০৮ সালের নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার ক্ষমতায় আসলেও সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার পরিস্থিতির কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। পঞ্চদশ সংশোধনীতে আদিবাসীদের ক্ষুদ্র পরিচয়ে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিয়ে সরকার নিজেই দেশের জনগণের সঙ্গে বৈষম্য করেছে। ক্ষুদ্র ও বৃহৎ বলে জাতিগত বিভক্ততা বাড়িয়েছে।'
 
সঞ্জীব দ্রং বলেন, 'দেশের সকল নাগরিকের প্রতি সমান আচরণ, তাদের নিরাপত্তা বিধান রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্র যদি আদিবাসী মানুষের হত্যার বিচার করতে না পারে, আদিবাসী নারী ধর্ষণের বিচার করতে না পারে, আদিবাসীদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করতে না পারে; তাহলে অন্তত যেন রাষ্ট্র আদিবাসী মানুষের প্রতি মানবিক হয়, দুঃখ প্রকাশ করে।'
মানবাধিকার রিপোর্ট ২০১৫-এ আও বলা হয়, ২০১৫ সালে কমপক্ষে ৭৪ জন আদিবাসীকে ফৌজদারী অপরাধে গ্রেফতার করা হয়েছে। যার মধ্যে আদিবাসী নারী ও স্কুলের ছাত্রীও ছিল। আর মিথ্যা ও সাজানো মামলা দায়ের করা হয়েছে ১১৭ জন আদিবাসীর বিরুদ্ধে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ১৩ জন আদিবাসী। একই সময়ে কমপক্ষে ৪৫টি আদিবাসী পরিবার নিজেদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদের শিকার হয়েছে। ১ হাজার ৪০০ পরিবার উচ্ছেদের হুমকির মধ্যে রয়েছে।