'মেগাপ্রেনার্স ২০১৮' এর ডেমো ডে অনুষ্ঠিত

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০১৮      

অনলাইন ডেস্ক

তরুণদের সঠিক পথের নির্দেশনা দিয়ে তাদের উদ্যোগগুলোকে টেকসই, বাস্তবসম্মত ও গ্রাহকদের পছন্দসই করে গড়ে তুলতে ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করেছে ইয়াং সাস্টেইনেবল ইমপ্যাক্ট (ওয়াইএসআই) বাংলাদেশ। গত ফেব্রুয়ারিতে ছাড়া হয় ওয়াইএসআই বাংলাদেশের প্রথম ইনকিউবেশন প্রোগ্রাম 'মেগাপ্রেনার্স ২০১৮' এর আবেদনপত্র। পাঁচ শতাধিক আবেদনপত্র থেকে বিভিন্ন ধাপে যাচাইবাছাইয়ের মাধ্যমে সারাদেশ থেকে বেছে নেয়া হয় যোগ্যতম ২১ জনকে, যাদের সবারই ছিল উদ্ভাবনী নানা ব্যবসায়িক আইডিয়া। কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী এই ২১ জন থেকে পরবর্তী সময়ে গঠন করা হয় পাঁচটি দল।

এরপর গত ১২ জুলাই রাজধানীর বসুন্ধরায় জিপি হাউসে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো ‘মেগাপ্রেনার্স ২০১৮’ এর ডেমো ডে। পাঁচটি দল সেখানে তাদের উদ্যোগগুলো দেশের বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রে থেকে আগত বিনিয়োগকারীদের সামনে তুলে ধরে। হোয়াইট বোর্ডে আয়োজিত সেই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নরওয়ের রাষ্ট্রদূত সিডসেল ব্লেকেন, বিশেষ অতিথি ছিলেন ওয়াইএসআইয়ের সিইও মার্কাস ব্রুন্স ও গ্রামীণফোনের চিফ অফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মাহমুদ হোসেন।

বিচারকমণ্ডলীর রায়ে নির্বাচিত হয় চূড়ান্ত ৩ বিজয়ী দল, যাদের জন্য পুরস্কার হিসেবে ছিল সর্বমোট এক হাজার মার্কিন ডলার। এতে প্রথম স্থান অধিকার করে ‘ক্রুড প্লাস’। পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে জ্বালানি তৈরি নিয়ে কাজ করেছে তারা। দলের সদস্যরা হলেন মাজেদুর রহমান মাসুম, মাহবুবা জান্নাত, শারমিন আক্তার, মো. সাজ্জাদ আজিম, মো. রশিদুন নেওয়াজ এবং তিলোত্তমা সাহা। দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী দলটির নাম ‘বিম’। তারা কাজ করেছে এমন একটি স্মার্টওয়াচ নিয়ে, যা রাস্তাঘাটে নারীদের উত্যক্তকারীদের হাত থেকে সুরক্ষা দেবে। এ দলের সদস্যরা হলেন মো. রোহান কামাল, রাসিব আফ্রিদি এবং সৌরভ চৌধুরী। তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে ‘অ্যাকোয়ালাইন’। মাছের ফেলে দেয়া বর্জ্যকে পুনরায় ব্যবহার করে নানা কাজে লাগানোর মতো চমৎকার একটি বিষয় নিয়ে কাজ করেছে তারা। দলটির সদস্যরা হলেন তন্ময় কুমার ঘোষ, এস. এম. ইমতিয়াজ ভূঁইয়া ও মো. মুজাহিদুল ইসলাম।

‘মেগাপ্রেনার্স ২০১৮’ এর স্পন্সর হিসেবে ছিলো লিডসাস লিমিটেড, ইএমকে সেন্টার এবং ওয়াইএসআই বাংলা লিমিটেড। ইনোভেশন এনাব্লার হিসেবে ছিলো হোয়াইট বোর্ড। সহযোগীতায় ছিলো নরওয়েজীয় দূতাবাস, ইয়াং সাস্টেইনেবল ইম্প্যাক্ট, বাংলাদেশ সায়েন্স সোসাইটি এবং ওয়ার্ক ফর অ্যা বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট।

ওয়াইএসআই বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সাহা এ সম্পর্কে বলেছেন, 'ওয়াইএসআই বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছে এক বছরও হয়নি। এরই মাঝে দেশের সেরা মেধাবী তরুণদের নিয়ে এত চমৎকার একটি অনুষ্ঠান আয়োজন প্রায় অবিশ্বাস্য ছিল সকলের জন্য। কিন্তু আমরা সেটা করে দেখিয়েছি, আমাদের উদ্যামী তরুণরা করে দেখিয়েছে। বেরিয়ে এসেছে আমাদের মেগাসিটির মারাত্মক পাঁচটি সমস্যার সমাধান, তৈরি হয়েছে বিজনেস মডেল ও এমভিপি। আশা করি, দ্রুতই তারা তাদের সেবা নিয়ে ঢাকাকে আরো বাস উপযোগী শহরে পরিণত করতে সহায়তা করবে।' সংবাদ বিজ্ঞপ্তি