রাজধানী

হয়রানির অভিযোগ পেয়ে বিআরটিএতে দুদকের অভিযান

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০১৮      

সমকাল প্রতিবেদক

গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেসসহ অন্যান্য কাজে হয়রানি, দুর্নীতি, অহেতুক সময়ক্ষেপণের অভিযোগ পেয়ে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের অফিসে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরে দুদকের উপপরিচালক মো. জাহিদ হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশসহ ৯ সদস্যের একটি দল অভিযান চালায়।

দুদকের হটলাইন ১০৬-এ ওই অভিযোগ পাওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়।

অভিযানের সময় রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস সনদসহ অন্যান্য কাজে সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তির প্রমাণ মিলেছে। পাঁচ ঘণ্টার অভিযানে ২০টি কাউন্টার পরিদর্শন করা হয়। এ সময় সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলে ভোগান্তির নানা তথ্য পান দুদক কর্মকর্তারা।

দুদক এনফোর্সমেন্ট অভিযানের সমন্বয়কারী কমিশনের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী বলেন, বিআরটিএতে সেবা প্রদানে বিশৃঙ্খলার মূলে রয়েছে দুর্নীতি। দুর্নীতি বন্ধ করতে দুদকের অভিযান চলবে। দুর্নীতিবাজদের ফাঁদ পেতে ধরতে গোয়েন্দা সদস্যরা তৎপর রয়েছেন।

অভিযানের সময় সেবাগ্রহীতারা দুদক দলকে জানিয়েছেন, ১১৩ নম্বর কাউন্টারে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি ও অহেতুক বিলম্ব করা হচ্ছে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলে কাউন্টারে কর্মরত কর্মকর্তা শাহ মোহাম্মদ মুয়াবিয়াকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করা হয়।

অভিযানকালে আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন ভেহিক্যাল ফিটনেস যাচাই ডিভাইসটির মাধ্যমে শিকড় পরিবহনের একটি মিনিবাস তাৎক্ষণিক পরীক্ষা করা হলে সেটি অনুত্তীর্ণ হয়। এ সময় ১০টি প্রাইভেটকারের ফিটনেস পরীক্ষা করা হয়। দুদক দলের উপস্থিতিতে তারা হয়রানি ও দুর্নীতিমুক্তভাবে ফিটনেস সনদ পান।

অভিযানকালে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মিনহাজ শাহরিয়ার জানান, ফিটনেস নবায়নের জন্য তিনি চার ঘণ্টা অপেক্ষা করেন। পরে দুদক দলের উপস্থিতিতে তার গাড়িটি পরীক্ষা করে সনদ দেওয়া হয়।

অভিযান শেষে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে বিআরটিএ কার্যালয়ে দুর্নীতিবিরোধী স্টিকার ও লিফলেট বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে মাইকিং করে ঘুষ দেওয়া-নেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়।