রাজধানী

মোটরসাইকেল, গাড়িতে আগুন দিচ্ছে কারা

প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০১৮       প্রিন্ট সংস্করণ     

সমকাল প্রতিবেদক

নিরাপদ সড়কসহ ৯ দফা দাবিতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের মধ্যে বিভিন্ন গাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। চলমান এ আন্দোলনের পঞ্চম দিন গতকাল বৃহস্পতিবারও রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে পুলিশের একজন সার্জেন্টের ওপর হামলা হয়েছে। তার ব্যবহূত মোটরসাইকেলটিও পুড়িয়ে দেওয়া হয়। একই দিন শাহবাগে বিআরটিসির একটি দোতলা বাস ভাংচুর করা হয়।

আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের ভাষ্য, তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছে। ভাংচুর বা অগ্নিসংযোগে তারা জড়িত নয়। প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে গাড়িতে আগুন দিচ্ছে কারা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গতকাল সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতা ও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ সময় তিনি এ আন্দোলন সহিংসতার দিকে মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করেন।

এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল সকাল থেকে দিনভর সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় অবস্থান নেয় কয়েকশ' শিক্ষার্থী। এতে নীলক্ষেত থেকে মিরপুর সড়ক ও ধানমণ্ডি এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুপুর আড়াইটার দিকে সেখানে বায়েজিদ নামে এক ট্রাফিক সার্জেন্টের মোটরসাইকেল আটকে লাইসেন্স দেখতে চায় শিক্ষার্থীরা। তিনি তা না দিয়ে উল্টো ক্ষিপ্ত হন। এরই একপর্যায়ে তিনি চলে যাওয়ার সময় তাকে মারধর করা হয়। পরে তার মোটরসাইকেলটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

এ ঘটনার জেরে ওই এলাকায় উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়। তবে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

এ ছাড়া শাহবাগ এলাকায় একদল যুবককে দোতলা বাস ভাঙতে দেখা যায়। ওই সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাতে বাধাও দেয়। কালো গেঞ্জি পরা এক যুবককে ভাংচুরে অতি তৎপর দেখা যায়। তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি নিজেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বলে দাবি করেন। তবে নিজের নাম বলেননি। এ নিয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে তার বাকবিতণ্ডাও হতে দেখা যায়।

এ নিয়ে গত পাঁচ দিনে রাজপথে ভাংচুর করা হয়েছে ৩৩৫টি গাড়ি। আগুন দেওয়া হয়েছে অন্তত ১২টি গাড়িতে। এর মধ্যে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়িও রয়েছে। গত মঙ্গলবার উত্তরা এলাকায় যাত্রীবাহী দুটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। এ ছাড়া গত বুধবার মিরপুর ও খিলক্ষেত এলাকায় বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।

এ ছাড়া গত কয়েকদিনে বিমানবন্দর সড়ক, উত্তরা, মিরপুর, শাহবাগ, মোহাম্মদপুর, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, ফার্মগেট, বাংলামটর, যাত্রাবাড়ী, শনিরআখড়া, খিলগাঁও ও রামপুরা এলাকায় গাড়ি ভাংচুর করা হয়।

আরও পড়ুন

উত্তাপের সঙ্গে মিশে আছে উত্তেজনাও

উত্তাপের সঙ্গে মিশে আছে উত্তেজনাও

সারাদেশের ৩০০ নির্বাচনী এলাকার মধ্যে ঢাকা-১ আসন সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। ঢাকা ...

সরব এশিয়া-ইউরোপ

সরব এশিয়া-ইউরোপ

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণহত্যা ও নৃশংসতায় বিক্ষুব্ধ হয়ে ইউরোপ ও এশিয়ার ...

তারাই আমাদের বাতিঘর

তারাই আমাদের বাতিঘর

আবার এসেছে ফিরে ডিসেম্বর। শোক, শক্তি ও সাহসের মাস, আমাদের ...

মর্মন্তুদ সেই দিন আজ

মর্মন্তুদ সেই দিন আজ

'আজ এই ঘোর রক্ত গোধূলিতে দাঁড়িয়ে/ আমি অভিশাপ দিচ্ছি তাদের/ ...

রাজনীতিবিদরা কি হারিয়ে যাবেন

রাজনীতিবিদরা কি হারিয়ে যাবেন

পরিসংখ্যান অনেক সময় নির্মম, যেমন পানিতে ডুবে মারা যাওয়া শিশুদের, ...

ব্যবসায়ীদের হাতেই এখন নাটাই

ব্যবসায়ীদের হাতেই এখন নাটাই

গত ৬ অক্টোবর ২০১৮ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে মহামান্য ...

নির্বাচন উদ্দীপনার নাকি আশঙ্কার

নির্বাচন উদ্দীপনার নাকি আশঙ্কার

২০১৪ সালে যেমন কোনো বিকল্প ছিল না, এই ২০১৮-তেও তেমনি ...

তোমার আমার মার্কা...

তোমার আমার মার্কা...

বিষণ্ণ মনে সোফায় বসে পেপার পড়ছিলেন বাবা। ক্লাস নাইনে পড়া ...