রাজধানী

ব্যক্তিগত বহুতল ভবন এতিমখানার জমিতে

প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০১৮       প্রিন্ট সংস্করণ     

অমিতোষ পাল

বংশালে এতিমখানার জমিতে অবৈধভাবে নির্মিত ব্যক্তিগত ভবন-সাজ্জাদ নয়ন

রাজধানীর বংশালে এতিমখানার জায়গা দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে বহুতল ভবন। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নোটিশ দিলেও তিনি কোনো গা করছেন না। এ অবস্থায় রাজউক বলছে, ভবন নির্মাতা নিজ উদ্যোগে এটা অপসারণ না করলে স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। 


ভবন নির্মাতার পক্ষ জানায়, জমিটি এক সময় এতিমখানার নামে থাকলেও ২০০০ সালের দিকে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ওই জমি বিক্রির ঘোষণা দেওয়া হয়। তিনি তখন বাজারমূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে জমিটি কিনে নেন। তারপর রাজউকের সব নিয়মকানুন অনুসরণ করেই ভবনটি তৈরি করেন। 


তবে এতিমখানার সঙ্গে সম্পৃক্তরা বলছেন, নিয়ম অনুযায়ী এতিমখানার জমি বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। ভবন নির্মাতা সেটা দখল করে বহুতল ভবনটি তৈরি করছেন। সরেজমিন দেখা গেছে, বংশাল কবরস্থানের ঠিক বিপরীতেই ভবনটির অবস্থান। ১৩৯ বংশালের ওই হোল্ডিংয়ে এরই মধ্যে দশতলা ভবন উঠে গেছে। নিচতলা সম্পূর্ণ প্রস্তুত করে দুই পাশে দুটি মোটরসাইকেল কোম্পানির শোরুম বসানো হয়েছে। পেছনে রয়েছে নির্মাতাদের একটি অফিস কক্ষ। দোতলা থেকে ওপরের  তলাগুলোয় চলছে রঙ ও বিদ্যুতের শেষ পর্যায়ের কাজ। শ্রমিকরা জানান, তিন-চারতলা পর্যন্ত বাণিজ্যিক হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের। ওপরে হবে আবাসিক। বহুতল ভবনটির নাম দেওয়া হয়েছে হালিম টাওয়ার।


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২৫ জুলাই ১২১/২ বংশাল রোডের বাসিন্দা লুনা হুমায়ুন পারভীন এতিমখানার পক্ষে রাজউকে একটি অভিযোগ দেন। অভিযোগের পর রাজউক ওই প্লটের মালিকানা ও নকশার বিষয় নিয়ে গোঁজামিলের সন্ধান পায়। এরপরই রাজউক থেকে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে ভবনটির নকশা দেখাতে বলা হয়। কিন্তু নির্মাতা মো. সোয়েব আহম্মেদ ও সংশ্নিষ্টরা নকশা দেখাতে ব্যর্থ হন। গত ২ আগস্ট রাজউকের পক্ষ থেকে তাদের দ্বিতীয় নোটিশ দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, 'নির্মিত স্থাপনার অনুকূলে রাজউক অনুমোদিত নকশা দাখিলের জন্য নোটিশ প্রদান করা হলেও তা দাখিল করতে ব্যর্থ হয়েছেন। অধিকন্তু আপনি/আপনারা ইমারত নির্মাণ আইন ১৯৫২ এর ৩ ধারা এবং ইমারত নির্মাণ বিধিমালা লংঘন করে উল্লিখিত প্লট/হোল্ডিং-এ নির্মাণ সম্পন্ন করেছেন/নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, যা আইনের সুস্পষ্ট লংঘন। এমতাবস্থায় স্থাপনাটি কেন অবৈধ ঘোষণাপূর্বক তা ভেঙে ফেলা/অপসারণের আদেশ দেয়া হবে না তা সাত দিনের মধ্যে লিখিতভাবে নিম্নস্বাক্ষরকারী বরাবর কারণ দর্শানোর জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো। ব্যর্থতায় ইমারত নির্মাণ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।' এ নোটিশে স্বাক্ষর করেন রাজউকের অঞ্চল-৫-এর অথরাইজড অফিসার আশীষ কুমার সাহা। কিন্তু নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরও ভবন নির্মাতা কোনো জবাব দেননি। 


আশীষ কুমার সাহা সমকালকে বলেন, তাকে প্রথম নোটিশে নকশা দেখাতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি নকশা দেখাননি। পরে তাকে দ্বিতীয় নোটিশ দেওয়া হয়। প্রথম নোটিশে যেহেতু তিনি নকশা দেখাননি ও দ্বিতীয় নোটিশের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নকশা দেখানো হয়নি; কাজেই রাজউক ধরে নিচ্ছে ভবনটির অনুমোদিত কোনো নকশা নেই। 


রাজউকের একজন ইমারত পরিদর্শক জানান, কোনো ভবনের নির্মাণকাজের সময় নকশার একটি অনুলিপি সাইটে রাখার নিয়ম রয়েছে। ওই ভবনে রাজউকের ইমারত পরিদর্শক সাইটে কোনো নকশা পাননি। এমনকি মালিক পক্ষ কোনো নকশাও দেখায়নি। এ থেকে বোঝা যায় জমির বৈধ মালিকানা নিয়েও প্রশ্ন আছে। যে কারণে রাজউক নকশার অনুমোদন দেয়নি। 


এদিকে ওই জমির এসএ খতিয়ানে দেখা যায়, জায়গাটি স্যার সলিমুল্লাহ অরফানেজের নামে নথিভুক্ত রয়েছে। দাগ নং ৩১৯১ ও ৩১৯২। দুটি দাগে জমির পরিমাণ দশমিক ০৫৩৬ ও দশমিক ০২৪ শতাংশ। কিন্তু সিএস খতিয়ানে জায়গাটি অকৃষি প্রজা হিসেবে সোয়েব আহম্মেদ ও আব্দুল হাকিমের নামে রেকর্ড হয়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সিটি জরিপে এ দু'জনের নামে রেকর্ড হওয়ার পেছনেও রহস্য রয়েছে। ভূমি অফিসকে ম্যানেজ করে এটা করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, ওই জায়গায় আগে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল। সেটার ভাড়া পেত সলিমুল্লাহ অরফানেজ। যিনি ব্যবসা করতেন, তিনিই এই কাজটি করেছেন। ওই ব্যক্তি হলেন সোয়েব আহম্মেদ ও আব্দুল হাকিমের বাবা আল আজাদ আব্দুল হালিম। 


আল আজাদ আব্দুল হালিম বলেন, ২০০০ সালের দিকে সলিমুল্লাহ অরফানেজ জায়গাটি বিক্রির জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয়। এরপরই তিনি জায়গাটি বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দামে কিনে নেন। বেশি দামে কেনার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, জায়গাটি ভাড়া নিয়ে ওখানে তিনি এক সময় ব্যবসা করতেন। ব্যবসাস্থল পরিবর্তন করতে চাননি। এ জন্যই বেশি দামে কিনে নেন। এর পর তিনি রাজউকে নয়তলা বাণিজ্যিক কাম আবাসিক ভবনের নকশা অনুমোদন করিয়ে সেখানে ভবনের কাজ শুরু করেন। অনুমোদিত নকশাও তার কাছে আছে। কিন্তু তারপরও কেন রাজউক তাকে দফায় দফায় নোটিশ দিচ্ছে সে প্রসঙ্গে তিনি জানান, কোনো নোটিশ তাদের কাছে পৌঁছেনি। 


তিনি জানান, এখানে পারভীন নামের একজনের ছেলে তার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেছিলেন। কিন্তু চাঁদা না দেওয়ায় তিনি রাজউকে অভিযোগ দিয়ে তাকে হয়রানির চেষ্টা করছেন। 


এ প্রসঙ্গে লুনা হুমায়ুন পারভীন তার ছেলের চাঁদা দাবির কথা অস্বীকার করে বলেন, ওই জমির দখলদার হালিম সলিমুল্লাহ এতিমখানার এ রকম আরও দুটি জায়গা দখল করেছেন। আর তিনি যে জমি কেনার কথা বলছেন, সেটাও মিথ্যা। কারণ এতিমখানার জমি কখনও বিক্রি করার নিয়ম নেই। এ জন্যই তিনি রাজউককে অনুরোধ করেছেন বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার।

বিষয় : এতিমখানা জমি

পরবর্তী খবর পড়ুন : নেতারা মাঠেই

আরও পড়ুন

তোমার জন্য খোলা জানালা

তোমার জন্য খোলা জানালা

সত্তুরের দশক থেকে শুরু করে পরবর্তী চার দশক এ দেশের ...

বগুড়ায় সাইবার পুলিশ ইউনিটের উদ্বোধন

বগুড়ায় সাইবার পুলিশ ইউনিটের উদ্বোধন

সাইবার অপরাধ দমনে বগুড়ায় জেলা পুলিশের উদ্যোগে গঠিত সাইবার পুলিশ ...

গোদাগাড়ী সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

গোদাগাড়ী সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

রাজশাহীর গোদাগাড়ী সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে জামাল (৪৫) নামের এক বাংলাদেশি ...

বিরক্ত  ন্যান্সি, বললেন বিদায়

বিরক্ত ন্যান্সি, বললেন বিদায়

বেশ বিরক্ত  বাংলা গানের জনপ্রিয় শিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি। কোন ...

লক্ষ্মীপুরে দুর্ঘটনায় শিক্ষক নিহত, সড়ক অবরোধ

লক্ষ্মীপুরে দুর্ঘটনায় শিক্ষক নিহত, সড়ক অবরোধ

লক্ষ্মীপুরে পিকআপ ভ্যানের চাপায় মোটর সাইকেল আরোহী মিজানুর রহমান রুবেল ...

কাজের সময় গান শোনা ভাল না খারাপ?

কাজের সময় গান শোনা ভাল না খারাপ?

অনেকেই কাজের সময় গান শুনতে পছন্দ করেন। কেউ কেউ গান ...

আদালতে খালেদা জিয়া

আদালতে খালেদা জিয়া

গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় হাজিরা দিতে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগার ...

ফ্লেভার্ড সিগারেট বেশি ক্ষতিকর!

ফ্লেভার্ড সিগারেট বেশি ক্ষতিকর!

ধূমপান স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর- এটা সবাই জানি। প্রতিটি সিগারেটের প্যাকেটের ...