ঢাকা শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

দীর্ঘ ছুটিতে বিপাকে হোস্টেলে থাকা নারীরা

দীর্ঘ ছুটিতে বিপাকে হোস্টেলে থাকা নারীরা

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২০ | ১১:১৪ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০

জান্নাতুল ফেরদৌস মীম (২৩) একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। রাজধানীর পশ্চিম তেজতুরী বাজারের একটি হোস্টেলে থাকেন। গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলে। 

মীম সমকালকে বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি মোহাম্মদপুরে একটি টিউশনি করাই। গত মাসে করোনাভাইরাসের কারণে ভার্সিটি বন্ধ হলেও আমার টিউশনি বন্ধ ছিল না। তাই বাড়ি যাওয়ার সুযোগ ছিল না। দু'দিন পর থেকে দেখতে পাই অফিস ছুটি হওয়ায় ঢাকা ছেড়ে অনেকে চলে যাচ্ছেন। টার্মিনালগুলোতে প্রচণ্ড ভিড়। বাড়ি থেকে মা বারবার বলেন এই ভিড়ের মধ্যে আসতে হবে না। পরিস্থিতি কী হয় দেখে তারপর আসতে পারবে। মায়ের কথায় আমিও থেকে যাই। তারপর টিউশনিও বন্ধ হয়ে যায়। ভাবতে থাকি সব তো আবার খুলে যাবে। এখন জানতে পারি ঢাকা থেকে আর কেউ বের হতে ও আসতে পারবে না। ঢাকার ভেতরও চলছে অঘোষিত লকডাউন। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটিও বেড়ে গেছে। বুঝতে পারিনি ছুটি এত দীর্ঘ হবে। পরিবারকেও কোনো ঝুঁকিতে ফেলতে চাইনি।

তিনি আরও বলেন, আমি হোস্টেলের খাবার খেতাম আগে। এখানকার খাবারে খরচের পরিমাণটা আমার কাছে একটু বেশি হয়ে যেত। তাই এখন নিজে রান্না করে খাই। এমন বন্দি হয়ে থাকতে হবে ভাবিনি। প্রয়োজন ছাড়া খুব বেশি বাইরে যাই না। কাঁচাবাজারের জন্য একটু বাইরে যেতে হয়। তা ছাড়া বাকি সময়গুলো কীভাবে যেন কেটে যাচ্ছে একটি রুমের ভেতর।

শুধু মীম নন, এ রকম অনেক কর্মজীবী নারীরা পরিবারের সবাইকে ছেড়ে ও তাদের নিরাপত্তার কথা ভেবে ঢাকার বিভিন্ন হোস্টেলে কর্মহীন জীবন যাপন করছেন। যেখানে করোনাভাইরাস আতঙ্কের কারণে অনেকে রাজধানী ছেড়ে চলে গেছেন বাড়িতে। আবার অনেকে ভেবেছিলেন অফিস কিছুদিনের মধ্যে আবার খুলে যাবে। কিন্তু সাধারণ ছুটি বেড়ে যাওয়ায় অনেকের মনে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক ও বিড়ম্বনা। পরিবার ছাড়া একাকী কাটছে তাদের জীবন। 

বুধবার হোস্টেলে বসবাসরত কয়েক নারীর সঙ্গে কথা বলে এসব জানা যায়।

মতিঝিলের আবাসিক এলাকার একটি কর্মজীবী হোস্টেলে থাকেন মুক্তা আক্তার। তিনি শিল্প মন্ত্রণালয়ে অফিস সহকারী পদে কর্মরত। মুক্তা বলেন, আমাদের অফিস ছুটি হলেও বাড়িতে যাইনি। ভেবেছি একবারে ঈদের ছুটিতে যাব। এখন দেখি ছুটির পরিমাণ বেড়ে গেছে। এ দিকে ঢাকা থেকেও যাওয়া-আসা বন্ধ। এখন বাসায় খুবই বিরক্তিকর সময় কাটছে। অফিসও নেই। পরিবারের সবাইকে নিয়ে চিন্তা হচ্ছে। মাঝে মাঝে একটু বাইরে বের হই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস শেষ হয়ে গেলে।

ফার্মগেটের একটি মেসে থাকেন তানিয়া সুলতানা। তিনি বলেন, চার রুমমেটের দু'জন ছুটিতে বাড়িতে চলে গেছে। আমি চাকরির জন্য কোচিং করতাম। এখন তো সব বন্ধ। বাড়িতে না গিয়ে ভুল করেছি। করোনা পরিস্থিতি দেখে এখন আরও ভয় লাগছে। সব সময় আতঙ্কে থাকতে হয়। বাইরে কম যাই। মনে হচ্ছে তখন বাড়িতে না গিয়ে ভুল করেছি। ঢাকার চেয়ে বাড়িতে থাকলেই ভালো হতো। পরিবারের সঙ্গে থাকলে কোনো চিন্তা ছিল না।




আরও পড়ুন

×