ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪

বঙ্গবাজার হবে ১০ তলা পাইকারি মার্কেট

বঙ্গবাজার হবে ১০ তলা পাইকারি মার্কেট

বঙ্গবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর চৌকি পেতে বিক্রি শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। ফাইল ছবি

লতিফুল ইসলাম

প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ০৫ আগস্ট ২০২৩ | ০৫:৪৮

আগুনে ভস্মীভূত বঙ্গবাজার কমপ্লেক্সের জায়গায় ‘বঙ্গবাজার পাইকারি নগর বিপণি বিতান’ নামে ১০ তলা ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। নতুন এ মার্কেট ভবনে থাকবে ৩ হাজার ৪২টি দোকান। এরই মধ্যে ডিএসসিসির নিয়োগকৃত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নকশা প্রণয়নের কাজ শেষ করেছে। বঙ্গবাজার-সংক্রান্ত সিটি করপোরেশনের সর্বশেষ সভায় ডিএসসিসি মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস মার্কেটের নকশা বিষয়ে কিছু নির্দেশনাও দিয়েছেন। আগামী আগস্ট মাসের শুরুতে মেয়রের নির্দেশনা সংযোজনের পর নকশা অনুমোদন করে শুরু হবে মার্কেট নির্মাণের টেন্ডার প্রক্রিয়া। ডিএসসিসি ও বঙ্গবাজার দোকান মালিক সমিতি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, বঙ্গবাজারে বহুতল মার্কেটের নকশার কাজ চলমান। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নকশা নিয়ে কাজ করছে। নকশা অনুমোদনের পর টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজ শুরু হবে।

জানা গেছে, পুড়ে যাওয়া বঙ্গবাজার মার্কেটের ১০৬ দশমিক ২৮ কাঠা জমির ওপর প্রস্তাবিত নকশা অনুযায়ী ১০ তলা ভবন হবে। যার নাম হবে ‘বঙ্গবাজার পাইকারি নগর বিপণি বিতান’। ভবনটিতে বেজমেন্ট, গ্রাউন্ড ফ্লোর আর আটটি ফ্লোর থাকবে। গ্রাউন্ড ফ্লোর থেকে সপ্তম তলা পর্যন্ত থাকবে ৩০৪২টি দোকান। এর মধ্যে গ্রাউন্ড ফ্লোরে ৩৮৪টি, প্রথম তলায় ৩৬৬টি, দ্বিতীয় তলায় ৩৯৭টি, তৃতীয় ও পঞ্চম তলায় ৩৮৭টি করে ৭৭৪টি, চতুর্থ ও ষষ্ঠ তলায় ৪০৪টি করে ৮০৮টি এবং সপ্তম তলায় ৩১৩টি দোকান থাকবে। ২২টি খাবারের দোকানের জায়গাও রাখা হয়েছে নকশায়। ৩০২০টি সাধারণ দোকানের জায়গায় বঙ্গবাজার কমপ্লেক্সের বঙ্গবাজার হকার মার্কেটের জন্য ৯১৮টি, গুলিস্তান হকার্স মার্কেটের জন্য ৮২৯টি, মহানগর হকার্স মার্কেটের জন্য ৫৭২টি এবং আদর্শ হকার্স মার্কেটের জন্য ৭০১টি দোকানের বরাদ্দ রেখে নকশা করা হচ্ছে। নতুন এ ভবনে ভস্মীভূত বঙ্গবাজার কমপ্লেক্সের চেয়ে ৮১টি দোকান বেশি থাকবে। প্রতিটি দোকানের আয়তন হবে ৮০-১০০ স্কয়ার ফিট। এ ছাড়া নকশায় নতুন ভবনের অষ্টম তলায় সমিতির অফিস, কর্মচারী, নিরাপত্তা কর্মীদের আবাস ও অন্যান্য কক্ষ রাখা হয়েছে। ভবনটিতে সাতটি সিঁড়ি, চারটি ফায়ার এক্সিট সিঁড়ি, চারটি সাধারণ লিফট এবং চারটি কার্গো লিফট থাকবে। বেজমেন্টে থাকবে ১৯৬টি গাড়ি ও ৮০টি মোটরসাইকেল পার্কিংয়ের ব্যবস্থা।

বঙ্গবাজার কমপ্লেক্স দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘মেয়রের কাছে আমাদের দাবি ছিল দ্রুত যেন মার্কেটের কাজ শুরু করা হয়। চলতি মাসের শুরুতে মার্কেট-সংক্রান্ত সর্বশেষ সভায় তিনি নকশা বিষয়ে কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। আগস্টে নকশা অনুমোদনের পর টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করে সেপ্টেম্বর থেকে মার্কেট ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হবে। এখানে ১০ তলা ফাউন্ডেশনের ওপরে আটতলা মার্কেট হবে। প্রথম থেকে সপ্তম তলা পর্যন্ত আগের চারটি মার্কেটের ২৯৬১টি দোকানের মালিকই বরাদ্দ পাবেন। নতুন করে কোনো ব্যবসায়ী দোকান বরাদ্দ পাবেন না।’

গত ৪ এপ্রিল আগুনে পুরোপুরি পুড়ে যায় বঙ্গবাজার। সে সময় ডিএসসিসির করা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী বঙ্গবাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর সংখ্যা ৩ হাজার ৮৪৫। পুড়ে যাওয়া বঙ্গবাজার কমপ্লেক্সে মোট দোকান ছিল ২ হাজার ৯৬১টি। এর মধ্যে বঙ্গ ইউনিটে ৮৬৩টি, গুলিস্তান ইউনিটে ৮২৮টি, মহানগর ইউনিটে ৫৯৯টি, আদর্শ ইউনিটে ৬৭১টি দোকান ছিল। এ ছাড়া মহানগর শপিং কমপ্লেক্সে ৭৯১টি, বঙ্গ ইসলামিয়া মার্কেটে ৫৯টি এবং বঙ্গ হোমিও কমপ্লেক্সে দোকান ছিল ৩৪টি।

আরও পড়ুন

×