ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪

ডেভেলপারকে মালপত্র দিয়ে সর্বস্বান্ত ব্যবসায়ী

ডেভেলপারকে মালপত্র দিয়ে সর্বস্বান্ত ব্যবসায়ী

আব্দুল হামিদ

প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৩ | ১৮:০০

মনির হোসেন (৪৪) থাকতেন যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল কবরস্থান রোডে। স্ত্রী ও এক সন্তান নিয়ে ছোট সংসার তাঁর। কর্মজীবনের প্রথম দিকে ছিলেন নির্মাণ শ্রমিক। পরে ভবন নির্মাণে ব্যবহৃত স্যাটারিং মালপত্র ভাড়ার ব্যবসা শুরু করেন। আবুল বাশার নামে এক ডেভেলপারকে মালপত্র ভাড়া দিয়ে তিনি এখন সর্বস্বান্ত। টাকা ও মালপত্র কোনোটাই ফেরত পাননি। উল্টো পুলিশের সামনেই শিকার হয়েছেন মারধরের। একাধিকবার মারধরের শিকার হওয়ায় তিন মামলা করেও পাননি প্রতিকার। এমনকি আইনি সহায়তা চেয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর চিঠি দিয়েও পাননি সহযোগিতা।

মনির জানান, ২০২১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর মাসে ৪১ হাজার ৫০০ টাকা ভাড়ায় দুই মাসের জন্য ৫ লাখ টাকার মালপত্র ভাড়া নেন ডেভেলপার বাশার। তবে ওই সময় ৩০ হাজার টাকা দিয়ে বাকিটা পরে দেবেন বলে জানান তিনি। তার পর টাকা না দিয়ে নানা অজুহাতে ঘোরাতে থাকেন। পরে তিনি মালপত্র আর ভাড়া দেবেন না জানালে বাশার টাকা ও মালপত্র কোনোটাই দেবেন না বলে জানান। ওই ঘটনার পর স্থানীয় প্রভাবশালীদের দিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। পরে যাত্রাবাড়ী থানায় ১১ ডিসেম্বর সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি। এর পর বাশারকে ফের মালপত্র ফেরত দিতে বললে তিনি স্থানীয় শাহীন ও রিপন নামের দু’জনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এ নিয়ে মনির ওই বছরের ২২ ডিসেম্বর বাশারসহ শাহীন, সাইফুর রহমান মামুন ও রিপনকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন। তিনি আরও জানান, আদালতের নির্দেশে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) এসআই পুলক সরকার মামলাটি তদন্ত করে অভিযুক্তদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি জানিয়ে ২০২২ সালে ২ জুন চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন। তিনি নারাজি দিলে মামলাটি তদন্ত করে সিআইডি।

মনিরের অভিযোগ, মামলাটি পুনঃতদন্তে সিআইডির পরিদর্শক কাজী ওয়াহিদ মোর্শেদ আসামি ও তাঁকে এক স্থানে ডেকে নেন। ওই সময় তদন্ত কর্মকর্তার সামনেই তাঁকে বেধড়ক মারধর করে আসামিরা। ওই ঘটনার তিন দিন পর মালপত্র নেওয়ার কথা বলে তাঁকে ডেকে নিয়ে স্থানীয় মামুন খান তার রড-সিমেন্টের দোকানে আটকে রাখে। সেখানে ২ লাখ টাকা চাঁদার জন্য তাঁকে ফের মারধর করা হয়। ওই সময় তাঁর চিৎকারে একজন জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর-৯৯৯-এ কল করলে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে। ওই ঘটনায় আবুল বাশার, সুজন আলী, শাহীন, রিপন ও মামুন খান নামে পাঁচজনের বিরুদ্ধে সিএমএম কোর্টে আরেকটি মামলা করেন তিনি।

আইজিপি বরাবর দেওয়া অভিযোগপত্রে মনির জানান, আসামিদের ভয়ে তিনি এখন ডেমরা এলাকায় বসবাস করছেন। তবে গত ১২ জুন সেখান থেকে অস্ত্রের মুখে বাশার, মামুন ও এএসআই আব্দুল মতিন তাঁকে তুলে নিয়ে যান। পরে পাশের একটি পরিত্যক্ত ঘরে আটকে তাঁকে মারধর করা হয়। ২ লাখ টাকা চাঁদা এবং আগের মামলা তুলে না নিলে পরিবারের সবাইকে হত্যার হুমকিও দেয়। ওই ঘটনায় মনির ৯ জুলাই মতিনসহ বাশার ও মামুনকে আসামি করে তৃতীয় মামলা করেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিকার পাননি।

আবুল বাশার বলেন, আমার সঙ্গে মনিরের কোনো ঝামেলা নেই। পিবিআই বিষয়টি মিটিয়ে দিয়েছে। ওই সময় মালপত্রসহ তাঁকে ৫ হাজার টাকা দিতে বলা হয়। তবে সেই থেকে মনিরের খোঁজ নেই। স্থানীয় মামুন খান বিষয়টি মিটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তাঁর নামেও মামলা করেছে মনির।

এএসআই আব্দুল মতিন বলেন, পুলিশ সদরদপ্তরে অভিযোগ দিয়েছে, তারা আমার বিচার করবে। এদিকে মনিরকে উদ্ধার করা এসআই আনাছ বলেন, ‘এমন কোনো ঘটনা আমার মনে পড়ছে না।’ ভুক্তভোগীকে তার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।

মনিরের প্রথম মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক কাজী ওয়াহিদ মোর্শেদ বলেন, এখনই কিছু বলতে চাই না। তাহলে তদন্ত বিঘ্নিত হতে পারে। শিগগির প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হবে। তাঁর সামনে বাদীকে মারধরের বিষয়ে বলেন, ওই বিষয়টি আপনি জিডিতে দেখেন।

আরও পড়ুন

×