চকবাজার ট্র্যাজেডি: বার্ন ইউনিটে ভর্তি ৯ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯     আপডেট: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

চকবাজার অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধদের একজন -ফোকাস বাংলা

পুরান ঢাকার চকবাজারে বুধবার রাতে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধদের মধ্যে ১৮ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে ৯ জন চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরেছেন। 

গুরুতর দগ্ধ বাকিদের চিকিৎসা চলছে। তাদের মধ্যে সোহাগ, রিয়াজুল ও জাকির নামে তিনজনকে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়েছে। সোহাগের শরীরের ৬০ শতাংশ, রিয়াজুলের ৫১ শতাংশ এবং জাকিরের ৩৮ শতাংশ পুড়ে গেছে। এছাড়া বার্ন ইউনিটে ভর্তি মোজাফফরের ৩০ শতাংশ, আনোয়ারের ২৮ শতাংশ, হেলালের ১৬ শতাংশ, সেলিমের ১৪ শতাংশ, মাহমুদুলের ১৩ শতাংশ এবং সালাউদ্দিনের শরীরের ১০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।

জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়কারী অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল সেন সাংবাদিকদের জানান, অগ্নিকাণ্ডের পর রাতেই ১৮ জন বার্ন ইউনিটে ভর্তি হন। তাদের মধ্যে ৯ জন চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরেছেন এবং বাকি ৯ জন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। ভর্তি থাকা রোগীদের কেউ শঙ্কামুক্ত নন। তিনজনের অবস্থা বেশি খারাপ এবং তাদের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে।

বার্ন ইউনিটের আবাসিক সার্জন ডা. হোসাইন ইমাম জানান, আইসিইউতে থাকা সোহাগ, রিয়াজুল এবং জাকিরের শ্বাসনালি পুড়ে গেছে। এছাড়া আনোয়ার নামে একজনের ২৮ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তারও শ্বাসনালি পুড়ে গেছে।

স্বজনের ভিড়: বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন সোহাগ। ছেলের এ অবস্থা জানার পর থেকেই আইসিইউর সামনে দাঁড়িয়ে বিলাপ করছেন মা বেদানা বেগম। তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন স্বজন। কিন্তু বেদানা বেগমের আহাজারিতে আশপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। তার সঙ্গে থাকা এক স্বজন জানান, সোহাগ চকবাজারে একটি পারফিউমের দোকানে চাকরি করতেন। আগুন লাগার পর দোকান থেকে বেরুতে গিয়ে তিনি দগ্ধ হন। স্বজনকে ফোন করে চকবাজারে আসতে বলেন। এরপর তারা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

বার্ন ইউনিটের দ্বিতীয় তলায় পোস্ট অপারেটিভ কক্ষে প্রবেশ করে চোখে পড়ে শরীরে ব্যান্ডেজ বাঁধা এক রোগী শুয়ে আছেন। তার পাশে বসে একজন বিলাপ করছেন। কথা বলে জানা গেল, ব্যান্ডেজ বাঁধা ব্যক্তির নাম আনোয়ার হোসেন। চকবাজার অগ্নিকাণ্ডে তিনিও দগ্ধ হয়েছেন।

তার মেয়ে বীথি জানান, তারা বাবা রিকশাচালক। তিন ভাইসহ তারা কামরাঙ্গীরচর এলাকায় থাকেন। রাত পৌনে ১১টার দিকে আনোয়ার হোসেন নিজেই বাসায় ফোন করে শরীরে আগুন লাগার কথা জানান। কিছুক্ষণ পর অপরিচিত একজন ফোন করে জানান, তাকে বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। 

বীথি আরও জানান, তার বাবার আয়ের ওপরই পুরো পরিবার নির্ভরশীল। তাই বাবার কিছু হলে তাদের বেঁচে থাকার কোনো অবলম্বন থাকবে না।

অগ্নিকাণ্ডের পরপরই ঢামেক হাসপাতালে আরও ৪০ জনকে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিন জানান, প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ৩০ জন রাতেই ফিরে গেছেন। অন্য ১০ জনও চিকিৎসা শেষে বৃহস্পতিবার সকালে ফিরেছেন।